লিবিয়া পৌঁছে ৪ মার্চ ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইতালির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন ওই দুই তরুণসহ ১০ যুবক। মাঝপথে ভূমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। আগুন থেকে বাঁচতে অভিবাসনপ্রত্যাশী অনেকেই সাগরে ঝাঁপ দেন। এ সময় সাগরে নিখোঁজ হন সুমন ও নাসির।
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কুদ্দুস ব্যাপারী (৩৩) ছিলেন মালয়েশিয়ায়। ৬ মাস আগে ছুটিতে দেশে আসেন। এরপর স্থানীয় দালাল মনিরের প্রলোভনে পড়ে ইতালি যেতে রাজি হন তিনি। অবৈধ পথে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছাতে ১৬ লাখ টাকায় হয় ‘বডি কন্ট্রাক্ট’।
ইতালি গিয়ে স্বপ্নপূরণ করতে চেয়েছিলেন সুজন ফরাজী। বৈধ পথে সুযোগ না পেয়ে অবৈধভাবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সুজনের সিদ্ধান্তে পরিবারের অন্য সদস্যরা সম্মতি দিলেও ঝুঁকি নিতে রাজি হননি বাবা মিরাজুল ইসলাম। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে কয়েক দফা বাগ্বিতণ্ডাও হয়।
আমার ভাইডা আর আমার ছওয়ালডার (ছেলে) একসাথে ইতালি যাইবার স্বপ্ন ছিল। সেই দিনকা রাইতেও কথা হইছিল। ওরা দুজনই কইল, ভালো আছে, কোনো সমস্যা নাই। দালালে নাকি ওগের খুব তারাতারি গেম দিব। এই কি সেই গেম! আমার ছওয়ালও নাই, ভাইও নাই। হায় আল্লাহ, আমার লগে এইডা কী হইল।
জিবুতি কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এখন পর্যন্ত ৬১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বিরতিহীনভাবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে এবং উদ্ধার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’