
জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, সফরকালে আনোয়ার ইব্রাহীমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমবাজার সহজ করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে শ্রমবাজার খোলা ও ব্যয় কমানো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এতে মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে সৌদি উপমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি এও বলেন যে, বাংলাদেশি শ্রমিকেরা সৌদি আরবের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
নুরুল হক জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে নিবিড় আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ভিয়েতনামের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিকল্প ও শক্তিশালী শ্রমবাজার হিসেবে নতুন গন্তব্য তৈরি হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে নানা অভিযোগ ও সংকটে বৈদেশিক শ্রমবাজার সংকুচিত হয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসের পর থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। এর আগেও নানা অভিযোগের কারণে দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে।
চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ের আশ্রাফ আহমেদ রাসেল স্বাক্ষরিত এক অনুমোদনে এজেন্সিগুলোর তালিকা দেখা যায়। আর এর আগে ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর ২৫২টি লাইসেন্সের অনুমোদন দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিল এই মন্ত্রণালয়।
অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল, এই খাতের বিভিন্ন অভিযোগ ও এজেন্সিদের কর্মকাণ্ড সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করা। এর ভিত্তিতে এজেন্সিদের তালিকা করা। কিন্তু এসব না করে নতুন করে লাইসেন্স দেওয়া হলো যার ফলে এই খাতের জবাবদিহিতা আরও দুর্বল হলো।”
বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির কয়েকজন মালিক জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নানা কারণে বন্ধ হলেও মূল সমস্যা হলো সিন্ডিকেট। ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পর নতুন করে মালয়েশিয়া থেকে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে তাতে আবার আগের সিন্ডিকেট সদস্যরাই শ্রমশক্তি পাঠানোর সুযোগ পাবেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন এইচ-১বি ওয়ার্ক ভিসা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিয়মে আমূল পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই নিয়মে লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে এখন থেকে বেতন ও দক্ষতার ভিত্তিতে কর্মী নির্বাচন করা হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, তারা আগামী ২৬-২৭ জানুয়ারি রিয়াদের কিং আবদুল আজিজ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে (KAICC) গ্লোবাল লেবার মার্কেট কনফারেন্সের (জিএলএমসি) তৃতীয় আসর আয়োজন করবে।
প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা বলেন, ‘মালয়েশিয়া থেকে যে ১০টা শর্ত দিয়েছে, কয়েকটা শর্তের ব্যাপারে আমরা শক্ত আপত্তি জানিয়েছি। আমরা রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে কথা বলার পরে মালেশিয়াকে জানিয়েছি যে এসব শর্ত মিটআপ (পূরণ) করা সম্ভব না। কারণ এগুলো মিটআপ করতে গেলে এখানে আবার সিন্ডিকেট হবে।
নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে কানাডার অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি প্রবাসী কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ৬৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং ৪৫ শতাংশ ইয়েমেনি নাগরিক।
বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ভিসা জটিলতা দ্রুত নিরসনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বিদেশে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের শুরু থেকেই শীর্ষে আছে সৌদি আরব। এখন পর্যন্ত বিদেশে যাওয়া কর্মীদের ৩৪ শতাংশেরই গন্তব্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশ। চলতি বছরের মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে কাজের জন্য দেশ ছেড়ে যাওয়া কর্মীদের ৭৩ শতাংশই গেছেন সৌদিতে। তবে এ শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে আসছে।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সফর শেষে ঢাকায় হয়ে যাওয়া যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য না জানানো হলেও সিন্ডিকেট থাকার আভাস মিলেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত নির্দেশনা অনুযায়ী বিগত কয়েক দিন ধরে মালয়েশিয়ার মন্ত্রীদের সঙ্গে দেশটির শ্রম বাজারে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের ব্যাপারে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
মালয়েশিয়া আগামী বছরগুলোতে 'বড় সংখ্যায়' বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্মীদের বেতন, নিরাপত্তা এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার আশ্বাসও দিয়েছে দেশটি।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের শোষণকারী বিদেশি নিয়োগ এজেন্টদের একটি চক্র আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণ ছাড়াই আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য আবারও খোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টার নেতৃত্বে আগামী ১৪ মে মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছে একটি প্রতিনিধিদল। ২১ মে হবে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা।