
সৈয়দ ইজাজ আহসান

মধ্যপ্রাচ্য এখন যেন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি। কিন্তু কেন এই সংকট? এর সূচনা কোথায়—তা আমরা মোটামুটি জানি, কিন্তু এর শেষ কোথায়—তা এই মুহূর্তে কারও পক্ষেই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের প্রেক্ষাপটে ব্রিটেন প্যালেস্টাইনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ১৯১৭ সালে ব্রিটেন ‘বেলফোর ঘোষণা’ জারি করে, যার মাধ্যমে প্যালেস্টাইনে একটি ইহুদি মাতৃভূমি প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় প্রকাশ করা হয়। মাত্র ৬৭টি শব্দের একটি ঘোষণাই এমন এক দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতার জন্ম দেয়, যার সমাধান আধুনিক সময়েও সম্ভব হয়নি।
১৯৪৮ সালের ১৪ মে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ইহুদিদের বহুদিনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়। ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘের বিভাজন পরিকল্পনা অনুযায়ী অঞ্চলটিকে আরব ও ইহুদি—এই দুই রাষ্ট্রে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী যুদ্ধে ইসরায়েল তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিজ ভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়। এই বাস্তুচ্যুতিই আজও মধ্যপ্রাচ্যের দ্বন্দ্বের অন্যতম মূল কারণ।
১৯৬৭ সালের ৫ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ইসরায়েল এবং মিসর (তৎকালীন ইউনাইটেড আরব রিপাবলিক), জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তা ‘ছয় দিনের যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। মাত্র ছয় দিনের মধ্যে ইসরায়েল সামরিক বিজয় অর্জন করে এবং গাজা উপত্যকা, সিনাই উপদ্বীপ, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গোলান মালভূমির নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেই সময় থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা ও বৈরিতা আজও বহমান।
এই দীর্ঘ ইতিহাস সংক্ষিপ্ত পরিসরে তুলে ধরা সম্ভব নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যে সংঘাত, তা ক্রমেই বহুপক্ষীয় ও জটিল রূপ নিয়েছে। ইরানের আঞ্চলিক মিত্র—হিজবুল্লাহ, ইরাকের বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী এবং ইয়েমেনের হুতিরাও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে যুদ্ধের বিস্তার ইরান-ইসরায়েল সীমার বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রত্যক্ষ মিত্র পায়নি। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো সরাসরি অংশগ্রহণ থেকে বিরত রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোও সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী, যদিও পরোক্ষভাবে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও তাদের অনাগ্রহের কথা জানিয়েছে।
ফলে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এক ধরনের কৌশলগত অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে। দ্রুত সমাপ্তির পরিকল্পনায় শুরু হওয়া এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত রূপ নিয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল, ইরানে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটিয়ে অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠা করা যাবে এবং কৌশলগত ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য সহজেই অর্জিত হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে।
ইরানকে দুর্বল করা গেলে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য একপক্ষীয় হয়ে পড়বে—এমন ধারণা থেকে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল বলে অনেক বিশ্লেষকের মত। কিন্তু পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পথে এগোয়নি। বরং সংঘাত আরও জটিল ও বিস্তৃত হয়েছে।
বর্তমানে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এলেও ইরান তা নিয়ে অনাস্থা প্রকাশ করছে। তাদের মতে, এ ধরনের প্রস্তাব মূলত পুনর্গঠন ও পুনরায় আক্রমণের সুযোগ তৈরি করে। ফলে ইরান কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের শর্ত পূরণ না হলে আলোচনায় বসতে অনাগ্রহী।
যুদ্ধের গতিপথও পরিবর্তিত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী—যা দিয়ে বিশ্ব জ্বালানির একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়—সেখানে অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বাব আল-মান্দেব প্রণালীতেও উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ডলারের পরিবর্তে বিকল্প মুদ্রায় জ্বালানি লেনদেনের আলোচনা বিশ্ব অর্থনীতির শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও পরোক্ষভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে, এই সংঘাতের শেষ কোথায়—তা এখনো অনিশ্চিত। যুদ্ধ বহুপক্ষীয় রূপ নেওয়ায় এর সমাধানও জটিল হয়ে উঠেছে। যদি কোনো এক পক্ষ স্পষ্টভাবে কৌশলগতভাবে টিকে থাকতে পারে এবং অন্য পক্ষকে পিছু হটতে বাধ্য করতে পারে, তবেই হয়তো এই সংঘাতের একটি পরিসমাপ্তি ঘটবে।
ইরান বলেছিল—“যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি, কিন্তু শেষ করব আমরা।” তবে সেই সমাপ্তি কবে এবং কীভাবে আসবে, তা সময়ই বলে দেবে।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
সৈয়দ ইজাজ আহসান: বিভাগীয় প্রধান (ব্যবসায় শাখা), বাংলাদেশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাস্কাট, ওমান

মধ্যপ্রাচ্য এখন যেন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি। কিন্তু কেন এই সংকট? এর সূচনা কোথায়—তা আমরা মোটামুটি জানি, কিন্তু এর শেষ কোথায়—তা এই মুহূর্তে কারও পক্ষেই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের প্রেক্ষাপটে ব্রিটেন প্যালেস্টাইনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ১৯১৭ সালে ব্রিটেন ‘বেলফোর ঘোষণা’ জারি করে, যার মাধ্যমে প্যালেস্টাইনে একটি ইহুদি মাতৃভূমি প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় প্রকাশ করা হয়। মাত্র ৬৭টি শব্দের একটি ঘোষণাই এমন এক দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতার জন্ম দেয়, যার সমাধান আধুনিক সময়েও সম্ভব হয়নি।
১৯৪৮ সালের ১৪ মে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ইহুদিদের বহুদিনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়। ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘের বিভাজন পরিকল্পনা অনুযায়ী অঞ্চলটিকে আরব ও ইহুদি—এই দুই রাষ্ট্রে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী যুদ্ধে ইসরায়েল তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিজ ভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়। এই বাস্তুচ্যুতিই আজও মধ্যপ্রাচ্যের দ্বন্দ্বের অন্যতম মূল কারণ।
১৯৬৭ সালের ৫ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ইসরায়েল এবং মিসর (তৎকালীন ইউনাইটেড আরব রিপাবলিক), জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তা ‘ছয় দিনের যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। মাত্র ছয় দিনের মধ্যে ইসরায়েল সামরিক বিজয় অর্জন করে এবং গাজা উপত্যকা, সিনাই উপদ্বীপ, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গোলান মালভূমির নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেই সময় থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা ও বৈরিতা আজও বহমান।
এই দীর্ঘ ইতিহাস সংক্ষিপ্ত পরিসরে তুলে ধরা সম্ভব নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যে সংঘাত, তা ক্রমেই বহুপক্ষীয় ও জটিল রূপ নিয়েছে। ইরানের আঞ্চলিক মিত্র—হিজবুল্লাহ, ইরাকের বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী এবং ইয়েমেনের হুতিরাও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে যুদ্ধের বিস্তার ইরান-ইসরায়েল সীমার বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রত্যক্ষ মিত্র পায়নি। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো সরাসরি অংশগ্রহণ থেকে বিরত রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোও সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী, যদিও পরোক্ষভাবে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও তাদের অনাগ্রহের কথা জানিয়েছে।
ফলে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এক ধরনের কৌশলগত অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে। দ্রুত সমাপ্তির পরিকল্পনায় শুরু হওয়া এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত রূপ নিয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল, ইরানে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটিয়ে অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠা করা যাবে এবং কৌশলগত ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য সহজেই অর্জিত হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে।
ইরানকে দুর্বল করা গেলে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য একপক্ষীয় হয়ে পড়বে—এমন ধারণা থেকে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল বলে অনেক বিশ্লেষকের মত। কিন্তু পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পথে এগোয়নি। বরং সংঘাত আরও জটিল ও বিস্তৃত হয়েছে।
বর্তমানে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এলেও ইরান তা নিয়ে অনাস্থা প্রকাশ করছে। তাদের মতে, এ ধরনের প্রস্তাব মূলত পুনর্গঠন ও পুনরায় আক্রমণের সুযোগ তৈরি করে। ফলে ইরান কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের শর্ত পূরণ না হলে আলোচনায় বসতে অনাগ্রহী।
যুদ্ধের গতিপথও পরিবর্তিত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী—যা দিয়ে বিশ্ব জ্বালানির একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়—সেখানে অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বাব আল-মান্দেব প্রণালীতেও উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ডলারের পরিবর্তে বিকল্প মুদ্রায় জ্বালানি লেনদেনের আলোচনা বিশ্ব অর্থনীতির শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও পরোক্ষভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে, এই সংঘাতের শেষ কোথায়—তা এখনো অনিশ্চিত। যুদ্ধ বহুপক্ষীয় রূপ নেওয়ায় এর সমাধানও জটিল হয়ে উঠেছে। যদি কোনো এক পক্ষ স্পষ্টভাবে কৌশলগতভাবে টিকে থাকতে পারে এবং অন্য পক্ষকে পিছু হটতে বাধ্য করতে পারে, তবেই হয়তো এই সংঘাতের একটি পরিসমাপ্তি ঘটবে।
ইরান বলেছিল—“যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি, কিন্তু শেষ করব আমরা।” তবে সেই সমাপ্তি কবে এবং কীভাবে আসবে, তা সময়ই বলে দেবে।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
সৈয়দ ইজাজ আহসান: বিভাগীয় প্রধান (ব্যবসায় শাখা), বাংলাদেশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাস্কাট, ওমান
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এক ধরনের কৌশলগত অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে। দ্রুত সমাপ্তির পরিকল্পনায় শুরু হওয়া এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত রূপ নিয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কূটনৈতিক মিশনগুলো কেবল আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। এগুলোকে আর্থিক গোয়েন্দা তথ্য ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে হবে।
এই মৃত্যু কেবল ব্যক্তিগত নয়; এটি আমাদের সমাজের, আমাদের রাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। কেন একটি তরুণকে জীবন বাজি রেখে অবৈধ পথে বিদেশ যেতে হয়? কেন সে বিশ্বাস করে যে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েও বিদেশে যাওয়া তার জন্য একমাত্র পথ?
দুঃখজনক হলেও সত্য, সাম্প্রতিক কয়েকটি দুর্ঘটনা মানুষের মনে এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্নের জন্ম দিচ্ছে—যা শুধু আজ নয়, আগামী দিনগুলোতেও আমাদের তাড়া করে বেড়াবে।