
ফারহানা আহমেদ লিসা

প্রায় মাসখানেক আমার হাসপাতালে একজন রোগীনি ভর্তি আছেন। ম্যাসিভ ষ্ট্রোক হয়েছিল ওনার। এক মাসে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি শারীরিক অবস্থার। এই এক মাসে সব চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা চাইছি, তিনি কোনো রিহ্যাব ফ্যাসিলিটিতে চলে যান। আমরা যতটুকু সম্ভব করেছি। হাসপাতালে আরও কিছুদিন থাকলে ওনার ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ হবে না। রোগিনীর পাঁচ ছেলেমেয়ের চারজন ব্যাপারটা মেনে নিয়েছেন। মেনে নিচ্ছেন না শুধু তার বড় মেয়ে, যিনি পেশায় একজন আইনজীবী এবং শুনেছি পালক (হাসপাতালের সোশ্যাল ওয়ার্কার আমাকে জানিয়েছেন)। কিন্তু রোগীনি তাকে ওনার পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন ওনার বড় ছেলের মতো, সমান অধিকার। ছেলে আমাদের কথা শুনছেন, পালক মেয়ে শুনবেন না।
সেদিন দিনটা ছিল বৃষ্টিমুখর। সাপ্তাহিক কাজের প্রথম দিন। রোগীনি মাসখানেক হাসপাতালে থাকলেও আমার রোগী ছিলেন না এতদিন। সেদিনই প্রথম দেখব তাকে। সকাল থেকেই নার্সদের টেক্সট পাচ্ছি, রোগীর মেয়ে এসে বসে আছেন। কখন দেখব। আমি বারবার বলছি, অন্য রোগীদের দেখে নিই, নির্দিষ্ট সময় আমি বলতে পারছি না। তবু বারবার টেক্সট পাচ্ছি। কাজে ডুবে গেলাম। বিকালে দেখি, মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে। তখন গেলাম রোগীর রুমে।
রোগীর মেয়ে বসে আছেন। আমাকে দেখেই বললেন, সারাদিনে তোমার এখন সময় হলো? আমার মায়ের এটা লাগবে, নার্সরা অমুক জিনিস চেষ্টা করছে না। তাকিয়ে দেখলাম রোগী নিথর পড়ে আছেন। পরীক্ষা শেষ করে আমি তাকে বললাম, আপনি বাইরে আসুন, কথা বলি।
তিনি বললেন, আমি বারান্দায় বসব। নার্সকে বললাম, খোলো বারান্দার দরজা। খোলা বারান্দা ঢাকা, বৃষ্টির ছাঁট আসছে না। আমরা বসলাম। রোগীর আপডেট দিলাম। তিনি শুনলেন। তারপর বললেন, কিছু কথা শোনো। আমি বললাম, অবশ্যই। সেদিন তার মা আমার শেষ রোগী ছিলেন।
তিনি বললেন, আমার বয়স তখন ১০ বছর। পথে থাকি।
আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকালাম।
তারপর তিনি বলতে থাকলেন, আমি পথশিশু ছিলাম। একদিন দেখলাম একজন সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট করছেন। ওনার হাতে এক বাক্স খাবার। তিনি এক বাচ্চাকে ডেয়ার করেছেন, খাবার পথে ফেলে দিতে পারলে উনি ওই বাচ্চাকে ১০ ডলার দেবেন। আমি দেখলাম বাচ্চা খাবার ফেলে দিল, তারপর ১০ ডলার নিয়ে চলে গেল। আমার পেটে তখন তীব্র খিদা। আমি খাবারগুলো তুলে মুখে দেব, এমন সময় দেখি একজন নারী খুব দ্রুত দৌড়ে আসছেন আমার কাছে। তিনি এসে বললেন, তুমি ওই খাবার খেও না। অসুখ হবে। আমি বললাম, আপনি খাওয়াবেন তাহলে? তিনি কিছু না বলে, আমার হাত ধরে কাছের একটা দোকানে নিয়ে বললেন, যা খুশি অর্ডার করে খাও। দাম আমি দেব। বিশ্বাস করিনি, দেখলাম, আসলেই দাম দিলেন তিনি। তারপর আমাকে বললেন, কোথায় থাকো? আমি তখন ফস্টার কেয়ার থেকে পালিয়েছি। অত্যাচারে থাকতে পারিনি। বললাম, পথেই থাকি। তিনি ফোন করলেন কাকে যেন। তারপর বললেন, আমার বন্ধুর শেল্টারে কিছুদিন থাকো, তোমাকে আমি অ্যাডপ্ট করব। আমি মাথা নাড়তেই বললেন, যদি তোমার পচ্ছন্দ না হয়, তাহলে যেকোনো দিন চলে যেও। বিশ্বাস করো।

তখনো আমি জানি না, শহরের সেরা আইনজীবী তিনি। আমার মা, তার কথা রেখেছেন। আমাকে অ্যাডপ্ট শুধু করেননি, তিনি পরবর্তীতে চার বাচ্চার মা হওয়ার পরও সবার আগে আমাকে অধিকার দিয়ে রেখেছেন সব কিছুতে। বিনিময়ে যত ঝামেলা দেবার তাকে সব দিয়েছি। নামমাত্র পড়াশোনা করেছি। মাতাল হয়ে গাড়ি চালিয়ে জেল খেটেছি। মা ভরসা হারাননি। ঠিকই বের করে এনেছেন।
তারপর চার বছর আগে মনে হলো আইনজীবী হলে কেমন হয়? মাকে বললাম। তিনি হাসলেন, বললেন, কেন নয়? সেবা করবি মানুষের। দুষ্টুমি তো অনেক করলি। পুরো খরচটা দিলেন তিনি। আমি একজন পরিবর্তিত মানুষ হলাম। ঠিক করেছিলাম সব শেষ করে মায়ের ফার্মে জয়েন করে বোঝাব তার সাহায্য বৃথা যায়নি। তার মতো আমিও মানুষকে সেবা করব এখন থেকে। মাসখানেক আগে পড়া শেষ হলো। আর মা চলে গেলেন কোমায়। ডাক্তার আমি কিছু শুনতে চাই না, তাকে ফিরিয়ে আনো।
কখন বৃষ্টি থেমেছে জানি না। আমি বললাম, যে মানুষটা এত ভালো একজন মানুষ, বিছানায় ফেলে রেখে বছরের পর বছর এত কষ্ট দেবেন আপনি, সন্তান হিসেবে সেটা কি ঠিক হবে? আমরা কালকে ভিডিও এসিস্টেড লিপ রিডার নিয়ে আপনার মাকে দেখব। আপনার মা কিন্তু বলেছেন, তিনি চলে গেলে কষ্ট দিয়ে ফিরিয়ে আনতে যেন চেষ্টা না করি আমরা। এ ব্যাপারে তার অ্যাডভান্স ডিরেকটিভ আছে।
পরদিন ভিডিও এসিস্টেড লিপ রিডার নিয়ে রোগীর কাছে গেলাম। তারপর ওনার মেয়েকে বললাম, আপনার যা যা বলার আছে, মাকে বলুন। তিনি বললেন, মা, মারে ফিরে আসো। আমি বদলে গেছি। তোমার কষ্ট বৃথা যায়নি। এই পথশিশু এখন নিজেও ভালো থাকবে আর অন্য পথ শিশুকে সাহায্য করবে।
আমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ শুনি লিপ রিডার চিৎকার করছেন, ডাক্তার…ডাক্তার রোগী বলছেন, আমি জানতাম তুই পারবি। এখন আমাকে যেতে দে মা। এরপর অ্যালার্ম বাজা শুরু হলো, রোগীর হার্ট রেট নাই। আমি মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললাম, আপনি কি চান আমরা চেস্ট কম্প্রেশন শুরু করি? তিনি তাকালেন। তারপর বললেন, না। আমার মাকে আর কোনো কষ্ট আমি দেব না। অন্য চার ভাইবোন বড় বোনকে জড়িয়ে ধরলেন।
আমি বের হয়ে নিজেই বারান্দায় চলে গেলাম। চোখ মুছে ফেলতে হবে। সারা দিনের কাজ বাকি। আমার নিজের মা, যিনি একই রকম কষ্ট করে আমাকে মানুষ করেছেন, কত হাজার মাইল দূরে তিনি। আমার আব্বু তার সাথে নেই। একটু তার হাত ধরে বসে থাকতে ইচ্ছে করছে।
শান্ত হয়ে যাও পৃথিবী। শত রক্ত গোলাপ হাতে কোনো এক সকালে আমিও বলতে চাই, আম্মি ভালোবাসি আপনাকে। অনেক।
পৃথিবীর সব মা ভালো থাকুন। ভালোবাসায় ডুবে থাকুন। মাথার ছায়া হয়ে থাকুন। ভালোবাসি।
*ফারহানা আহমেদ লিসা: সান ডিয়াগো, ক্যালিফোর্নিয়া, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র

প্রায় মাসখানেক আমার হাসপাতালে একজন রোগীনি ভর্তি আছেন। ম্যাসিভ ষ্ট্রোক হয়েছিল ওনার। এক মাসে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি শারীরিক অবস্থার। এই এক মাসে সব চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা চাইছি, তিনি কোনো রিহ্যাব ফ্যাসিলিটিতে চলে যান। আমরা যতটুকু সম্ভব করেছি। হাসপাতালে আরও কিছুদিন থাকলে ওনার ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ হবে না। রোগিনীর পাঁচ ছেলেমেয়ের চারজন ব্যাপারটা মেনে নিয়েছেন। মেনে নিচ্ছেন না শুধু তার বড় মেয়ে, যিনি পেশায় একজন আইনজীবী এবং শুনেছি পালক (হাসপাতালের সোশ্যাল ওয়ার্কার আমাকে জানিয়েছেন)। কিন্তু রোগীনি তাকে ওনার পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন ওনার বড় ছেলের মতো, সমান অধিকার। ছেলে আমাদের কথা শুনছেন, পালক মেয়ে শুনবেন না।
সেদিন দিনটা ছিল বৃষ্টিমুখর। সাপ্তাহিক কাজের প্রথম দিন। রোগীনি মাসখানেক হাসপাতালে থাকলেও আমার রোগী ছিলেন না এতদিন। সেদিনই প্রথম দেখব তাকে। সকাল থেকেই নার্সদের টেক্সট পাচ্ছি, রোগীর মেয়ে এসে বসে আছেন। কখন দেখব। আমি বারবার বলছি, অন্য রোগীদের দেখে নিই, নির্দিষ্ট সময় আমি বলতে পারছি না। তবু বারবার টেক্সট পাচ্ছি। কাজে ডুবে গেলাম। বিকালে দেখি, মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে। তখন গেলাম রোগীর রুমে।
রোগীর মেয়ে বসে আছেন। আমাকে দেখেই বললেন, সারাদিনে তোমার এখন সময় হলো? আমার মায়ের এটা লাগবে, নার্সরা অমুক জিনিস চেষ্টা করছে না। তাকিয়ে দেখলাম রোগী নিথর পড়ে আছেন। পরীক্ষা শেষ করে আমি তাকে বললাম, আপনি বাইরে আসুন, কথা বলি।
তিনি বললেন, আমি বারান্দায় বসব। নার্সকে বললাম, খোলো বারান্দার দরজা। খোলা বারান্দা ঢাকা, বৃষ্টির ছাঁট আসছে না। আমরা বসলাম। রোগীর আপডেট দিলাম। তিনি শুনলেন। তারপর বললেন, কিছু কথা শোনো। আমি বললাম, অবশ্যই। সেদিন তার মা আমার শেষ রোগী ছিলেন।
তিনি বললেন, আমার বয়স তখন ১০ বছর। পথে থাকি।
আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকালাম।
তারপর তিনি বলতে থাকলেন, আমি পথশিশু ছিলাম। একদিন দেখলাম একজন সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট করছেন। ওনার হাতে এক বাক্স খাবার। তিনি এক বাচ্চাকে ডেয়ার করেছেন, খাবার পথে ফেলে দিতে পারলে উনি ওই বাচ্চাকে ১০ ডলার দেবেন। আমি দেখলাম বাচ্চা খাবার ফেলে দিল, তারপর ১০ ডলার নিয়ে চলে গেল। আমার পেটে তখন তীব্র খিদা। আমি খাবারগুলো তুলে মুখে দেব, এমন সময় দেখি একজন নারী খুব দ্রুত দৌড়ে আসছেন আমার কাছে। তিনি এসে বললেন, তুমি ওই খাবার খেও না। অসুখ হবে। আমি বললাম, আপনি খাওয়াবেন তাহলে? তিনি কিছু না বলে, আমার হাত ধরে কাছের একটা দোকানে নিয়ে বললেন, যা খুশি অর্ডার করে খাও। দাম আমি দেব। বিশ্বাস করিনি, দেখলাম, আসলেই দাম দিলেন তিনি। তারপর আমাকে বললেন, কোথায় থাকো? আমি তখন ফস্টার কেয়ার থেকে পালিয়েছি। অত্যাচারে থাকতে পারিনি। বললাম, পথেই থাকি। তিনি ফোন করলেন কাকে যেন। তারপর বললেন, আমার বন্ধুর শেল্টারে কিছুদিন থাকো, তোমাকে আমি অ্যাডপ্ট করব। আমি মাথা নাড়তেই বললেন, যদি তোমার পচ্ছন্দ না হয়, তাহলে যেকোনো দিন চলে যেও। বিশ্বাস করো।

তখনো আমি জানি না, শহরের সেরা আইনজীবী তিনি। আমার মা, তার কথা রেখেছেন। আমাকে অ্যাডপ্ট শুধু করেননি, তিনি পরবর্তীতে চার বাচ্চার মা হওয়ার পরও সবার আগে আমাকে অধিকার দিয়ে রেখেছেন সব কিছুতে। বিনিময়ে যত ঝামেলা দেবার তাকে সব দিয়েছি। নামমাত্র পড়াশোনা করেছি। মাতাল হয়ে গাড়ি চালিয়ে জেল খেটেছি। মা ভরসা হারাননি। ঠিকই বের করে এনেছেন।
তারপর চার বছর আগে মনে হলো আইনজীবী হলে কেমন হয়? মাকে বললাম। তিনি হাসলেন, বললেন, কেন নয়? সেবা করবি মানুষের। দুষ্টুমি তো অনেক করলি। পুরো খরচটা দিলেন তিনি। আমি একজন পরিবর্তিত মানুষ হলাম। ঠিক করেছিলাম সব শেষ করে মায়ের ফার্মে জয়েন করে বোঝাব তার সাহায্য বৃথা যায়নি। তার মতো আমিও মানুষকে সেবা করব এখন থেকে। মাসখানেক আগে পড়া শেষ হলো। আর মা চলে গেলেন কোমায়। ডাক্তার আমি কিছু শুনতে চাই না, তাকে ফিরিয়ে আনো।
কখন বৃষ্টি থেমেছে জানি না। আমি বললাম, যে মানুষটা এত ভালো একজন মানুষ, বিছানায় ফেলে রেখে বছরের পর বছর এত কষ্ট দেবেন আপনি, সন্তান হিসেবে সেটা কি ঠিক হবে? আমরা কালকে ভিডিও এসিস্টেড লিপ রিডার নিয়ে আপনার মাকে দেখব। আপনার মা কিন্তু বলেছেন, তিনি চলে গেলে কষ্ট দিয়ে ফিরিয়ে আনতে যেন চেষ্টা না করি আমরা। এ ব্যাপারে তার অ্যাডভান্স ডিরেকটিভ আছে।
পরদিন ভিডিও এসিস্টেড লিপ রিডার নিয়ে রোগীর কাছে গেলাম। তারপর ওনার মেয়েকে বললাম, আপনার যা যা বলার আছে, মাকে বলুন। তিনি বললেন, মা, মারে ফিরে আসো। আমি বদলে গেছি। তোমার কষ্ট বৃথা যায়নি। এই পথশিশু এখন নিজেও ভালো থাকবে আর অন্য পথ শিশুকে সাহায্য করবে।
আমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ শুনি লিপ রিডার চিৎকার করছেন, ডাক্তার…ডাক্তার রোগী বলছেন, আমি জানতাম তুই পারবি। এখন আমাকে যেতে দে মা। এরপর অ্যালার্ম বাজা শুরু হলো, রোগীর হার্ট রেট নাই। আমি মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললাম, আপনি কি চান আমরা চেস্ট কম্প্রেশন শুরু করি? তিনি তাকালেন। তারপর বললেন, না। আমার মাকে আর কোনো কষ্ট আমি দেব না। অন্য চার ভাইবোন বড় বোনকে জড়িয়ে ধরলেন।
আমি বের হয়ে নিজেই বারান্দায় চলে গেলাম। চোখ মুছে ফেলতে হবে। সারা দিনের কাজ বাকি। আমার নিজের মা, যিনি একই রকম কষ্ট করে আমাকে মানুষ করেছেন, কত হাজার মাইল দূরে তিনি। আমার আব্বু তার সাথে নেই। একটু তার হাত ধরে বসে থাকতে ইচ্ছে করছে।
শান্ত হয়ে যাও পৃথিবী। শত রক্ত গোলাপ হাতে কোনো এক সকালে আমিও বলতে চাই, আম্মি ভালোবাসি আপনাকে। অনেক।
পৃথিবীর সব মা ভালো থাকুন। ভালোবাসায় ডুবে থাকুন। মাথার ছায়া হয়ে থাকুন। ভালোবাসি।
*ফারহানা আহমেদ লিসা: সান ডিয়াগো, ক্যালিফোর্নিয়া, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র
আমি বের হয়ে নিজেই বারান্দায় চলে গেলাম। চোখ মুছে ফেলতে হবে। সারা দিনের কাজ বাকি। আমার নিজের মা, যিনি একই রকম কষ্ট করে আমাকে মানুষ করেছেন, কত হাজার মাইল দূরে তিনি। আমার আব্বু তার সাথে নেই। একটু তার হাত ধরে বসে থাকতে ইচ্ছে করছে।
অনেকে ভেবেছিল, অচিরেই তেহরানের রাস্তায় আমেরিকান সেনাদের টহল দেখা যাবে। কিন্তু ঘটল উল্টো। লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে নিজেদের রাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নিল। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলার খবর পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দেয়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বর্তমান ক্ষমতাসীন শিবির কোনোভাবেই থালাপতি বিজয়ের দ্রুত উত্থানকে সহজভাবে নিতে পারছে না। খুব অল্প সময়ে তিনি তরুণ ভোটার, মধ্যবিত্ত এবং সিনেমাপ্রেমী সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব তৈরি করেছেন। ফলে তাকে শুরুতেই রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে।
কী এক আবেশে ছুটে চললাম পিছু পিছু/ জোৎস্না দেখার লোভ ছাড়ল না/ এভাবেই কেটে গেল প্রহর/ পৃথিবীতে সব কিছুর অবসান হয়/ জোৎস্নাও চলে যায় আর রেখে যায় অমাবস্যা।