আকুল হয়ে চাইলে নাকি তাকে পাওয়া যায়। আবার ছোটবেলায় পড়েছি চেষ্টা করলে উপায় হয়। সব ভূয়া কথা। ভেঙে যাবার একটা ঝুঁকি আছে বলেই চুড়ির শব্দে এত প্রণয়। তবে সত্যটা হচ্ছে আপনার বিগত দুঃখের ভার কেউ নেবে না।
এই আমেরিকায় আসার পর থেকে সময়ের আর কোনো খোঁজই পাই না। কখন সকাল হয় আর কখন রাত তাও টের পাই না। অন্তরের দুটা অন্তরকথা কাউকে বলব, সেই সময়ও যেন নেই। তার ওপর ডেট এক্সপায়ারি মানুষ, অনেকটা দাবা খেলার ওই ক্ষমতাবান রাজার মতো, মাত্র এক ঘর যেতে পারি।
বাসায় চলে এলাম। কাব্যর সাথে টুকটাক চ্যাট ছাড়া আর তেমন কোনো কথা হয়নি। আমরা এর মাঝে হাতিরঝিল গেলাম, ময়নামতি গেলাম, ইলিশ খেলাম। এরপর যাওয়ার দিন চলে এল। কালকে ভ্যালেন্টাইনস ডে। মানে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। আমার খুব ইচ্ছে করছে কাব্যকে জিজ্ঞেস করি উইল ইউ বি মাই ভ্যালেন্টাইন?
খাবার যত সুস্বাদু ততই ক্ষতিকর এনজাইম, এটা মনে রাখলেই হলো। মন তো চাইবেই সে আমার কাছাকাছি থাকুক, পাশাপাশি থাকুক, চোখের সামনে থাকুক, নিঃশ্বাসের আদ্রতায় জড়িয়ে–পেচিয়ে থাকুক। ইনফ্যাক্ট উপযুক্ত পরিবেশ না পেলে মনও সাড়া দিতে চাইবে না। এ অনেকটা ঘড়িতে ব্যাটারি দেওয়ার মতো।
আসছে ভালোবাসার মৌসুম। নতুন ফুলের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনেও যেন ভালোবাসার সুবাস ছড়াচ্ছে। ভালোবাসা প্রকাশের জন্য মানুষ সব সময় বেছে নিয়েছে গান কিংবা কবিতার। ভালোবাসার গান বললেই আসবে রবীন্দ্রনাথের কথা। যাঁর প্রতিটি গান, শব্দ হৃদয়ে দাগ কেটে যায়।
প্রেম ও ভালোবাসা মানবজীবনের এক বিশেষ রূপ। দৃশ্যমান ভালোবাসায় যেমন একজন প্রিয় মানুষের প্রতি টান; দৈহিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। এখানে আকর্ষণ, মুগ্ধতা ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ স্পষ্ট।
মনে মনে তো অনেক দূরই চলে যাওয়া যায়, কিন্তু ফিরে আসাটা আসলেই খুবই কষ্টকর। মনোযোগ দিয়ে আপনি যতই ভালোবাসুন না কেন, বুদ্ধিমত্তা ও সংকল্পের দৃঢ়তার কম্বিনেশান থাকতেই হবে।
আজকের পৃথিবী, আজকের সমাজ কি আমাদের পরিচয় হতে পারে? মানবতা, সহানুভূতি, ভালোবাসা—আমরা কি এখনো সেই মূল্যবোধগুলো ধারণ করি? কিংবা আমাদের মধ্যে এতটুকু মর্যাদাবোধও কি রয়ে গেছে?