logo
সুপ্রবাস

সিডনিতে বাংলাদেশের সাংবিধানিক শাসন সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার

বিডিজেন ডেস্ক
বিডিজেন ডেস্ক৬ ঘণ্টা আগে
Copied!
সিডনিতে বাংলাদেশের সাংবিধানিক শাসন সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) রাজ্যের সিডনিতে বাংলাদেশে চলমান সাংবিধানিক শাসন সংকট ও এর আইনি দিকসমূহ নিয়ে এক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশে বর্তমান সাংবিধানিক শাসন সংকট: একটি আইনি পর্যালোচনা’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনস অব অস্ট্রেলিয়া (এফবিএএ)।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলসের পার্লামেন্ট হাউসের জুবিলি রুমে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইনবিদ ও ম্যাকোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক এম রফিকুল ইসলাম। প্রবন্ধে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক ও আইনি অবস্থান, তাদের গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহের বৈধতা এবং এসব সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ করেন।

প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সংবিধানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশটি সংসদীয় ব্যবস্থা, রাষ্ট্রপতির শাসন, সামরিক আইন ও ভিন্নমুখী গণতন্ত্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এবং তাদের কার্যক্রম ঘিরে নতুন করে সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। যা নিয়ে আলোচনা চলছে সব মহলে।

রফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আইনি ভিত্তি, তাদের প্রধান কর্মকাণ্ডের সাংবিধানিক বৈধতা, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এবং সম্ভাব্য গণভোটের সাংবিধানিক দিকসমূহ নিয়ে আলোকপাত করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সাংবিধানিক শাসনের ভবিষ্যৎ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচলা ও বিশ্লেষণ করে বলেন, আগামী সরকারও এই পথে এগিয়ে যাবে।

সেমিনারের সভা প্রধান আইনজীবী ড. সিরাজুল হক বলেন, গণতন্ত্র, সংবিধান ও আইনের শাসন বিষয়ে আগ্রহী গবেষক, আইনজীবী, সাংবাদিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এ সেমিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, এনএসডব্লিউ পার্লামেন্ট হাউস হলো গণতান্ত্রিক সরকার, জবাবদিহিতা এবং আইন শৃঙ্খলার প্রতীক। তাই এখানে এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যথাযথ, যা সাংবিধানিক শাসনের মূল প্রশ্নগুলোকে স্পর্শ করে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের পর গৃহীত সংবিধান দৃঢ় গণতান্ত্রিক আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে দেশটি বারবার সংবিধানগত অস্থিরতার মুখোমুখি হয়েছে। সামরিক হস্তক্ষেপ, সামরিক আইন এবং অনানুষ্ঠানিক সরকার—যা প্রায়শই পরে আদালতের মাধ্যমে বৈধতা পেয়েছে এবং সংবিধানিক ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।

তিনি বলেন অতীতের এই অভিজ্ঞতাগুলো একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করে। সংবিধান অনুযায়ী শাসন আইন দ্বারা পরিচালিত হয়, নাকি রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তার নামে পরে আইনি আকারে সাজানো হয় তা জনগণের কাছে প্রশ্ন।

জুলাই ২০২৪ সালের কথিত গণঅভ্যুত্থানের পরের ঘটনা বাংলাদেশের সংবিধানিক অনিশ্চয়তার একটি পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। যা ঝুঁকিতে রয়েছে তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং সংবিধানিক কর্তৃত্বই। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আইনগত ক্ষমতা কোথা থেকে আসে; নির্বাচনি ম্যান্ডেট ছাড়া নির্বাহী ক্ষমতার সীমা কত; সংবিধান ভঙ্গের সময়ে বিচারব্যবস্থা কী ভূমিকা রাখবে; এবং সংবিধান কতটা শক্তিশালী, যখন ব্যতিক্রমী বা সাময়িক ক্ষমতার দাবি উত্থাপিত হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশে সংবিধানগত যাত্রা বারবার বিঘ্নিত হয়েছে—গণতান্ত্রিক শাসন এবং অনানুষ্ঠানিক শাসনের মধ্যে ওঠানামা করেছে। বর্তমানে দেশটি একটি নির্বাচিত নয় এবং সংবিধানগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যা ২০২৪ সালের রাজনৈতিক উত্থাপনের ফলস্বরূপ গঠিত। এই পরিস্থিতি গভীর আইনগত উদ্বেগ উত্থাপন করেছে, যা সংবিধানিক বৈধতার মূল প্রশ্নগুলোর সাথে সম্পর্কিত।

সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক আলী কাজী, অধ্যাপক রতন কুন্ডু, অধ্যাপক মোল্লা হক, নোমান শামীম, অধ্যাপক টিটু সোহেল, কাউন্সিলর এলিজা আজাদ রহমান প্রমুখ।

সিডনিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম প্রধান নেতা গামা আব্দুল কাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

আলোচকেরা এম রফিকুল ইসলামের প্রবন্ধের বিভিন্ন দিক নিয়ে বলেন। তারা বলেন, অধ্যাপক ইসলামের দক্ষতা দক্ষিণ এশিয়ার সাংবিধানিক ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার কাজের স্পষ্টতা, সূক্ষ্ম আইনগত বিশ্লেষণ এবং সংবিধানের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতির জন্য তিনি সুপরিচিত। বক্তারা বলেন, বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। ভোটাভুটি, যা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক আয়োজন করা হয়েছে, তা সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমন কর্মকাণ্ড যদি পর্যালোচনা না করা হয়, তা অ-সাংবিধানিক প্রথাকে দৃঢ় করতে পারে এবং ভবিষ্যতের শাসনের জন্য বিপজ্জনক নজির স্থাপন করতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেন।

যদিও আলোচনা মূলত বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে এবং এর প্রভাব দেশের বাইরে বিস্তৃত। আইনের শাসনে প্রতিশ্রুত ব্যক্তিদের জন্য এগুলো বিমূর্ত প্রশ্ন নয়। এগুলো সংবিধানিক শাসনের মূলকথা স্পর্শ করে। বিচারক, আইনজীবী ও গবেষক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো সংবিধানিক যুক্তিকে ন্যায্য, প্রায়োগিক এবং আইনগতভাবে প্রয়োগ করা। সংবিধানগত বিপর্যয়ের মুখে নীরব থাকা মানে অবৈধতা স্বাভাবিক করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। বিজ্ঞপ্তি

আরও দেখুন

সিডনিতে বাংলাদেশের সাংবিধানিক শাসন সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার

সিডনিতে বাংলাদেশের সাংবিধানিক শাসন সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার

সেমিনারের সভা প্রধান আইনজীবী সিরাজুল হক বলেন অতীতের এই অভিজ্ঞতাগুলো একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করে। সংবিধান অনুযায়ী শাসন আইন দ্বারা পরিচালিত হয়, নাকি রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তার নামে পরে আইনি আকারে সাজানো হয় তা জনগণের কাছে প্রশ্ন।

৬ ঘণ্টা আগে

বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ আছে: হাইকমিশনার এফ এম বোরহান উদ্দিন

বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর  সুযোগ আছে: হাইকমিশনার এফ এম বোরহান উদ্দিন

অস্ট্রেলিয়া ফিজি থেকে প্রচুর লোক নেয়, যারা বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় কাজ করে দেশে ফিরে যান। বাংলাদেশের সঙ্গেও এরকম একটি চুক্তি হয়েছিল ২০০৩ সালে। সেই চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ থেকে লোকজনও এসেছিল। কিন্তু তারা আর ফিরে যাননি। এ কারণে অস্ট্রেলীয় সরকার চুক্তিটি বাতিল করে দিয়েছে।

৬ দিন আগে

জেদ্দায় বাংলাদেশ স্কুলের ইংরেজি শাখার কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান

জেদ্দায় বাংলাদেশ স্কুলের ইংরেজি শাখার কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান

আমাদের শিক্ষার্থী যারা আইজিসিএসই পরীক্ষায় টপ ইন দ্য ওয়ার্ল্ড হবে তাদের ৭৫ শতাংশ, যারা টপ ইন দ্য কান্ট্রি হবে তাদের ৫০ শতাংশ এবং যারা টপ ইন দ্য রিজিওন হবে তাদের ২৫ শতাংশ স্কলারশিপ স্কুল থেকে আমরা পরবর্তী এএস বা এ লেভেলের জন্য প্রোভাইট করব। এবারে যারা এই রেজাল্ট করেছে তাদের জন্যও এটা প্রযোজ্য হবে।

৬ দিন আগে

কোষ্টারিকার প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রাষ্ট্রদূত মুশফিকের সাক্ষাৎ

কোষ্টারিকার প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রাষ্ট্রদূত মুশফিকের সাক্ষাৎ

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জ্ঞাপন করেন। আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

১০ দিন আগে