logo
সুপ্রবাস

বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ আছে: হাইকমিশনার এফ এম বোরহান উদ্দিন

বিডিজেন ডেস্ক
বিডিজেন ডেস্ক৮ ঘণ্টা আগে
Copied!
বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর  সুযোগ আছে: হাইকমিশনার এফ এম বোরহান উদ্দিন
অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এফ এম বোরহান উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় শহর সিডনি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বেশির ভাগ সেখানেই বাস করেন। কিন্তু সিডনি দেশটির রাজধানী নয়, রাজধানী ক্যানবেরা। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশন ভবনে আলাপ হয় অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এফ এম বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে। কয়েক মাস আগে তিনি দেশটিতে গিয়েছেন নতুন দায়িত্ব নিয়ে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিস্থিতির পাশাপাশি সেখানকার বাংলাদেশ কমিউনিটির সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। কথা বলেছেন চরচার সম্পাদক সোহরাব হাসান

চরচা: প্রথমেই জানতে চাই, এখানে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন? দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন কোনো পালক যুক্ত করা গেল কি?

এফ এম বোরহান উদ্দিন: আমি এখানে এসেছি ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ। গভর্নর জেনারেলের কাছে আমি পরিচয়পত্র পেশ করি এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে। সেদিক থেকে আমার কার্যকাল নয় মাস। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো আগে থেকেই। এখানে যে সম্ভাবনা আছে, সেটি কাজে লাগানোর সুযোগ আছে বলে মনে করি। বিগত বছরগুলোতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বেড়েছে। সেটাকে আরও কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সেই চেষ্টাই আমরা করছি।

চরচা: বাণিজ্যের পরিমাণটা কেমন?

এফ এম বোরহান উদ্দিন: বছরে দুই দেশের মধ্যে ৫ বিলিয়ান ডলারের বাণিজ্যিক লেনদেন হয়। বাংলাদেশ থেকে এখানে আসে তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, প্রক্রিয়াজাতকরণ খাদ্য। এ ছাড়া, মাছ ও শাকসবজি আমদানি করা হয়। আর এখান থেকে বাংলাদেশে যায় তুলা, গম, ডাল, তেল বীজ ও দুগ্ধজাত পণ্য। এ ছাড়া শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ইস্পাত, লোহা ও জিঙ্ক। বাংলাদেশসহ বহির্বিশ্বে অস্ট্রেলিয়া যে পণ্যটি বেশি রপ্তানি করে, সেটা হলো শিক্ষা। এখানে শিক্ষাকে পণ্য হিসেবেই দেখা হয়। আমি যে ৫ বিলিয়ান ডলারের বাণিজ্যের কথা বললাম, সেটা কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার অনুকূলে। শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ থেকে এখানে বড় অঙ্কের অর্থ আসে। সারা বিশ্বে তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য হলো শিক্ষা।

চরচা: বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর কত শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে আসেন?

এফ এম বোরহান উদ্দিন: গত বছর ১৪ হাজার শিক্ষার্থী এসেছে। চীন, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ পূর্ব এশীয় দেশগুলো থেকেও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এখানে আসেন।

চরচা: সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে দেখলাম বিদেশি শিক্ষার্থীদের আসার হারে বাংলাদেশের স্থান বেশ ওপরে।

এফ এম বোরহান উদ্দিন: আমিও দেখেছি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানের হার প্রায় ৯৮ শতাংশ। অর্থাৎ প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরিমাণ খুবই কম।

চরচা: বাংলাদেশ থেকে যেসব শিক্ষার্থী আসেন, শিক্ষা জীবন শেষ হলে তারা কোথায় যান?

এফ এম বোরহানউদ্দিন: বাংলাদেশ থেকে যেসব শিক্ষার্থী আসেন তাদের একটা সুপ্ত ইচ্ছে থাকে এখানে থেকে যাওয়ার। এখানেই তারা কর্মজীবন শুরু করতে চান। তাদের বাবা-মাও হয়তো সে রকমটি ভাবেন। আবার অনেকে শিক্ষা জীবন শেষে দেশে ফিরে যান।

চরচা: অস্ট্রেলিয়া ধনী দেশ। বাংলাদেশ জনবহুল ও উন্নয়নশীল দেশ। সেক্ষেত্রে আমরা কীভাবে আরও বেশি অস্ট্রেলীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারি?

এফ এম বোরহান উদ্দিন: স্বীকার করতে হবে যে ভৌগলিক দূরত্বের কারণে তারা বিনিয়গের জন্য যেসব দেশকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ নেই। তারপরও অস্ট্রেলিয়া যাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে, সে জন্য আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশে কী কী সুযোগ সুবিধা আছে সেসব জানিয়েছি। বিনিয়োগকারীরা প্রথমেই লিগ্যাল প্রোটেকশন চাইবেন। বাংলাদেশে যেসব আইন আছে, সেগুলো বিনিয়োগের অনুকূলে, এ কথা তাদের বলেছি। দ্বিতীয়ত তারা দেখতে চাইবেন, সেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আছে কি না। তৃতীয়ত অবকাঠামোগত সুবিধা তথা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে কি না।

চরচা: আপনার মেয়াদকালে অস্ট্রেলিয়ায় বিনিয়োগ বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কী?

এফ এম বোরহান উদ্দিন: হ্যাঁ, নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি প্রকল্প আছে জলসিঁড়িতে, পূর্বাচলের পাশে। ওখানে বড় আয়তনের জমি সংরক্ষিত আছে এবং সেখানে তারা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস করতে চায়। ওই বিষয়ে আমি অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ইউনিভারসিটি অব ক্যানবেরার সভাপতি ও ভাইস চ্যাঞ্চেলরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গত ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে ঢাকায় গিয়েছিল। আমিও ছিলাম তাদের সঙ্গে। সেখানে একটি প্রকল্প চালু করার সম্ভাবনা আছে। অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধিদল ফেব্রুয়ারিতে আবার বাংলাদেশে যাবেন প্রকল্পের শর্তাবলি চূড়ান্ত করতে। এখানে ইউনিভারসিটি অব ক্যানবেরার ক্যাম্পাস হলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সুবিধা পাবেন। অস্ট্রেলিয়ায় না গিয়েও সেখানকার মানের শিক্ষা পাবেন। সীমিত আয়ের পরিবারের সন্তানদের অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে পড়াশোনা করা কঠিন। তারা এখানে কম খরচে পড়তে পারবেন। ব্যবস্থাটা হয়তো এমন থাকবে যে শিক্ষার্থীরা চার বছরের কোর্সের তিন বছর বাংলাদেশে পড়বেন, বাকি এক বছর অস্ট্রেলিয়ায়। সনদ দেওয়া হবে ইউনিভারসিটি অব ক্যানবেরা থেকেই। এই ক্যাম্পাসে বাংলাদেশের প্রতিবেশি দেশ নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কার শিক্ষার্থীরাও পড়তে পারবেন। এটা আমাদের বড় সন্তুষ্টির জায়গা।

চরচা: সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যান আলি বাংলাদেশ সফর করলেন। ফলাফল কী?

এফ এম বোরহান উদ্দিন: উন্নত দেশগুলো বরাবর মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের ওপর জোর দিয়ে থাকে। এসব বিষয় নিয়ে এরা কথা বলেন। অন্যদিকে আমাদের আগ্রহ অংশীদারত্বের মাধ্যমে কীভাবে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানো যায়। মন্ত্রীর ঢাকা সফরের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে গতি আসবে আশা করা যায়। তিনি বাংলাদেশ সম্পর্কে ভালো ধারণা নিয়ে গেছেন। এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘুরে গেছেন। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেই মন্ত্রীদের পাঠাচ্ছে। তারা অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চান। আগে আমরা সাহায্য নির্ভর দেশ ছিলাম। এখন বলি অংশীদারত্বের ওপর বেশি জোর দিচ্ছি।

অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেল স্যাম মোস্টিনের সঙ্গে হাইকমিশনার এফ এম বোরহান উদ্দিন। ছবি– সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেল স্যাম মোস্টিনের সঙ্গে হাইকমিশনার এফ এম বোরহান উদ্দিন। ছবি– সংগৃহীত

চরচা: অস্ট্রেলিয়ার বিশাল অর্থনীতি। কিন্তু জনসংখ্যা কম। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে সেখানে আরও বেশি জনশক্তি পাঠানোর সুযোগ আছে। আমরা সেটা কাজে লাগাচ্ছি না কেন?

এফ এম বোরহান উদ্দিন: মধ্যপ্রাচ্যে যে ধরনের জনশক্তি আমরা পাঠাই, সেই ধরনের জনশক্তির চাহিদা এখানে নেই। তবে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর সুযোগ আছে। অস্ট্রেলিয়া ফিজি থেকে প্রচুর লোক নেয়, যারা বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় কাজ করে দেশে ফিরে যান। বাংলাদেশের সঙ্গেও এরকম একটি চুক্তি হয়েছিল ২০০৩ সালে। সেই চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ থেকে লোকজনও এসেছিল। কিন্তু তারা আর ফিরে যাননি। এ কারণে অস্ট্রেলীয় সরকার চুক্তিটি বাতিল করে দিয়েছে। আমরা চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছি। ডিসেম্বরে ১০ তারিখে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যে আলোচনা হয়, তাতেও বিষয়টি উঠেছিল। এখানে আমাদেরও দায়িত্ব আছে। অস্থায়ী চুক্তির ভিত্তিতে যেসব লোকজন অস্ট্রেলিয়া যাবেন, তাদের ফেরত যেতে হবে। এটা হলো ওয়ার্ক অ্যান্ড হলি ডে ভিসা। রুমানিয়ায়ও আমাদের একটি ভালো শ্রমবাজার তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেখানে যেসব বাংলাদেশি গিয়েছেন, তারাও দেশে ফেরেননি। ইউরোপের অন্য দেশে চলে গেছেন।

চরচা: অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ কমিউনিটির বেশির ভাগ সিডনিতে বসবাস করেন। কিন্তু হাইকমিশন ক্যানবেরায়। এতে বাংলাদেশ কমিউনিটর সঙ্গে যোগাযোগের সমস্যা হচ্ছে কি না?

এফ এম বোরহান উদ্দিন: আমরা যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এখানে যে জাতীয় দিবসগুলো হয় যেমন স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতাদের আমন্ত্রণ জানাই। তাদের কর্মসূচিতেও আমরা উপস্থিত থাকি। আর সিডনিতে অবস্থিত কনস্যুলেট অফিস থেকেও তারা প্রয়োজনীয় সেবা নিয়ে থাকেন। বাকি পাঁচটি স্টেট আমরা ক্যানবেরা থেকে দেখি। প্রতিটি স্টেটে আমি যাই এবং সেখানকার বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করি। তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য উৎসাহিত করি। আনন্দের কথা, এখানকার বাংলাদেশ কমিউনিটি বেশ ভালো অবস্থানে আছে।

চরচা: এখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রতি অস্ট্রেলীয়দের ধারণা কী রকম?

এফ এম বোরহান উদ্দিন: খুবই উঁচু ধারণা। সরকারি কর্মকর্তা কিংবা সাধারণ অস্ট্রেলীয় নাগরিকেরা বাংলাদেশিদের বেশ সম্মান করে। গভর্নর জেনারেলের কাছে পরিচয়পত্র দেওয়ার পর তিনি আমাকে বললেন, তোমাদের নাগরিকেরা বেশ ভালো। তারা অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। এখানে অনেক বাংলাদেশি চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও শিক্ষাবিদ আছেন। আছেন ব্যবসায়ীও।

চরচা: বাংলাদেশ থেকে কারিগরী শিক্ষা নিয়ে যারা আসেন, তারা যথেষ্ট দক্ষ নন বলে অভিযোগ আছে। তাদের দক্ষতা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

এফ এম বোরহান উদ্দিন: এ বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা চাইছি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে অস্ট্রেলিয়ানরা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহায়তা করুক। দক্ষ জনশক্তি এখানে এলে দুই দেশেরই লাভ।

চরচা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে অস্ট্রেলীয়দের দৃষ্টিভঙ্গিটা কি?

এফ এম বোরহান উদ্দিন: তারা মনে করে, বাংলাদেশে যে পরিবর্তনটি হয়েছে তা ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ ট্রানজিশন নিশ্চিত করবে। একটা ভালো নির্বাচন হবে। নির্বাচিত সরকার আসবে। এই গণতান্ত্রিক রূপান্তরে তারা সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত।

চরচা: আপনি এসেছেন কয়েক মাস হলো। অস্বাভাবিক কিছু না হলে আপনার এখানে আরও দুই বছর থাকার কথা। এ সময়ে আপনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কোথায় নিয়ে যেতে চান।

এফ এম বোরহান উদ্দিন: দুই বছরে যে বড় ধরনের পরিবরর্তন আনা যাবে, সে কথা বলব না। তবে আমার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার ক্যাম্পাসটি হলে আমাদের শিক্ষার্থীরা লাভবান হবেন। দেশে থেকেই উন্নত মানের শিক্ষার সুযোগ পাবেন। দ্বিতীয়ত ওয়ার্ক অ্যান্ড হলি ডে পারমিট ফের চালু করা যাবে আশা করি। বাংলাদেশের বেসরকারি খাত বেশ শক্তিশালী। তাদের ব্যবসা বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী জুনে সিডনিতে আরেকটি গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো হওয়ার কথা আছে। সেখানে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও আসবেন। কিছু দিন আগে মেলবোর্নের এক্সপোতে বাংলাদেশের আটটি কোম্পানি এসেছিল। তারা ভালো সাড়া পেয়েছেন। আমদানিকারকদের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছে। এসব এক্সপোতে সেমিনারের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশি পণ্যের মান সম্পর্কে ক্রেতাদের অবহিত করি। বেসরকারি খাত, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাংলাদেশ মিশন যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে থাকে। অরেকটি ইচ্ছের কথা বলি, ক্যানবেরার মিশনটি এখন ভাড়া বাসায়। যদিও মিশনের নিজস্ব জমি আছে। আমার মেয়াদকালে নিজস্ব ভবন করে যেতে চাই।

চরচা: আপনি তো একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ডেরও দায়িত্বে আছেন। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কেমন?

এফ এম বোরহান উদ্দিন: সম্পর্ক ভালো। কিন্তু এই মুহূর্তে আমি নিউজিল্যান্ডের দায়িত্বে নেই। সেখানে আলাদা মিশন খোলা হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রদূত আসবেন। ইতিমধ্যে কাউন্সিলর দায়িত্ব নিয়েছেন।

চরচা: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এফ এম বোরহান উদ্দিন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আরও দেখুন

বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ আছে: হাইকমিশনার এফ এম বোরহান উদ্দিন

বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর  সুযোগ আছে: হাইকমিশনার এফ এম বোরহান উদ্দিন

অস্ট্রেলিয়া ফিজি থেকে প্রচুর লোক নেয়, যারা বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় কাজ করে দেশে ফিরে যান। বাংলাদেশের সঙ্গেও এরকম একটি চুক্তি হয়েছিল ২০০৩ সালে। সেই চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ থেকে লোকজনও এসেছিল। কিন্তু তারা আর ফিরে যাননি। এ কারণে অস্ট্রেলীয় সরকার চুক্তিটি বাতিল করে দিয়েছে।

৮ ঘণ্টা আগে

জেদ্দায় বাংলাদেশ স্কুলের ইংরেজি শাখার কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান

জেদ্দায় বাংলাদেশ স্কুলের ইংরেজি শাখার কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান

আমাদের শিক্ষার্থী যারা আইজিসিএসই পরীক্ষায় টপ ইন দ্য ওয়ার্ল্ড হবে তাদের ৭৫ শতাংশ, যারা টপ ইন দ্য কান্ট্রি হবে তাদের ৫০ শতাংশ এবং যারা টপ ইন দ্য রিজিওন হবে তাদের ২৫ শতাংশ স্কলারশিপ স্কুল থেকে আমরা পরবর্তী এএস বা এ লেভেলের জন্য প্রোভাইট করব। এবারে যারা এই রেজাল্ট করেছে তাদের জন্যও এটা প্রযোজ্য হবে।

৯ ঘণ্টা আগে

কোষ্টারিকার প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রাষ্ট্রদূত মুশফিকের সাক্ষাৎ

কোষ্টারিকার প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রাষ্ট্রদূত মুশফিকের সাক্ষাৎ

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জ্ঞাপন করেন। আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

৪ দিন আগে

পূর্ব লন্ডনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের যুক্তরাজ্য শাখার আলোচনা সভা

পূর্ব লন্ডনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের যুক্তরাজ্য শাখার আলোচনা সভা

সভায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক অসহায় ও প্রান্তিক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পুড়িয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানানো দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি করা হয়। বক্তারা বলেন, দেশে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ মব সহিংসতা ও ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে।

৫ দিন আগে