
ইজাজ আহসান

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ শুধু দুটি রাষ্ট্রের সামরিক সংঘর্ষ নয়; এটি ছিল আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলা এক বহুমাত্রিক সংকট। যুদ্ধের অবসানে একটি সমঝোতা বা শান্তি চুক্তির পথে অগ্রগতি দেখা গেলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। কে জয়ী, কে পরাজিত—এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। বরং যুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতা বিশ্লেষণ করাই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যুদ্ধ শুরুর আগে এবং চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। বিভিন্ন বক্তব্যে এমন ধারণা দেওয়া হয় যে, প্রয়োজনে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে। একই সময়ে ইসরায়েলও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরে।
তবে আমার পর্যবেক্ষণে, ইরান এই চাপের মুখেও দ্রুত নতি স্বীকার করেনি। বরং দেশটি রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। এই অবস্থানকে কেউ দৃঢ়তা বলবেন, কেউ কৌশলগত হিসাব—কিন্তু এটিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ধারণা করেছিলেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো হতে পারে। এমনকি নির্বাসিত রাজপরিবারের সদস্যদের ঘিরেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নানা আলোচনা দেখা গেছে। তবে এসব সম্ভাবনার অনেকটাই বাস্তবে ঘটেনি। ফলে যুদ্ধের শুরুতে যে দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তা অন্তত প্রকাশ্য বাস্তবতায় প্রতিফলিত হয়নি।
আমার মতে, এখানেই ইরানের সবচেয়ে বড় সাফল্য। কারণ যুদ্ধের সময় রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সংহতি ধরে রাখা যেকোনো দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদিও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে, তবু সংকটের মুহূর্তে রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েনি।
এই যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই পথের ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধ চলাকালে হরমুজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। আমার দৃষ্টিতে, যুদ্ধের পর এই প্রণালিকে ঘিরে ইরানের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক আইন ও নৌ চলাচলের বাস্তবতা বিবেচনায় হরমুজের ওপর একক কোনো রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি অত্যন্ত জটিল এবং বিতর্কিত, তবু এই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব যে আগের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা অস্বীকার করা কঠিন।
পারমাণবিক কর্মসূচির প্রশ্নটিও যুদ্ধের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। অন্যদিকে ইরান বারবার বলেছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে মনে হয়, এই প্রশ্নেরও কোনো চূড়ান্ত সমাধান এখনো হয়নি। বরং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা, সংশ্লিষ্ট চুক্তি এবং কূটনৈতিক সমঝোতার ওপর।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই সংঘাত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যদি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পথ আরও উন্মুক্ত হয়, তাহলে ইরানের অর্থনীতি নতুন গতি পেতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সম্পদ অবমুক্ত করার আলোচনা থাকলেও সেগুলোর অনেকটাই আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তাই এসব বিষয়কে নিশ্চিত বাস্তবতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আমার মতে, ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু তেল ও গ্যাস নয়। দেশটির রয়েছে উল্লেখযোগ্য কৃষি উৎপাদন, শিল্পভিত্তি, উচ্চশিক্ষিত জনশক্তি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বাধা কমলে এই সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে।
এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো এতদিন নিরাপত্তার জন্য অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাত দেখিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ আগের চেয়ে আরও জটিল। ফলে ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের মধ্যে নতুন ধরনের নিরাপত্তা সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও কঠিন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। বিশাল ঋণের বোঝা, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সংকট ওয়াশিংটনের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি আরেকটি যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ব্যয়বহুল হতো—এমন মত অনেক বিশ্লেষকের।
ইসরায়েলের অবস্থানও বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। দেশটি এখনো ইরানকে তার প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে এবং আঞ্চলিক নীতিতে সে অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। ফলে বর্তমান সমঝোতা স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা দিচ্ছে—এমনটি বলা কঠিন। বরং কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং প্রক্সি সংঘাত অব্যাহত থাকার আশঙ্কাই বেশি।
আমার বিশ্বাস, এই যুদ্ধ থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—আধুনিক বিশ্বে সামরিক শক্তি একমাত্র নির্ধারক নয়। অর্থনীতি, কূটনীতি, তথ্যযুদ্ধ, আন্তর্জাতিক জনমত এবং আঞ্চলিক জোট—সবকিছু মিলিয়েই আজকের ভূরাজনীতি নির্ধারিত হয়। কোনো পক্ষ সামরিকভাবে কিছু সুবিধা পেলেই যে রাজনৈতিক বিজয় নিশ্চিত হবে, এমন ধারণা এখন আর বাস্তবসম্মত নয়।
ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।
আমার মূল্যায়নে, এই সংঘাতে প্রত্যেক পক্ষই কিছু অর্জন করেছে, আবার কিছু হারিয়েছেও। কে বেশি লাভবান হয়েছে, তার চূড়ান্ত মূল্যায়ন এখনই করা সম্ভব নয়। কারণ যুদ্ধের প্রকৃত ফলাফল অনেক সময় যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং পরবর্তী কয়েক বছরের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়।
সুতরাং আবেগ বা প্রচারণার পরিবর্তে বাস্তবতাকে সামনে রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই হবে সবচেয়ে বিচক্ষণ পথ। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের কূটনীতি, পারস্পরিক আস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা।
লেখক: ওমানের মাসকটপ্রবাসী। ইমেইলঃ [email protected]

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ শুধু দুটি রাষ্ট্রের সামরিক সংঘর্ষ নয়; এটি ছিল আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলা এক বহুমাত্রিক সংকট। যুদ্ধের অবসানে একটি সমঝোতা বা শান্তি চুক্তির পথে অগ্রগতি দেখা গেলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। কে জয়ী, কে পরাজিত—এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। বরং যুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতা বিশ্লেষণ করাই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যুদ্ধ শুরুর আগে এবং চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। বিভিন্ন বক্তব্যে এমন ধারণা দেওয়া হয় যে, প্রয়োজনে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে। একই সময়ে ইসরায়েলও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরে।
তবে আমার পর্যবেক্ষণে, ইরান এই চাপের মুখেও দ্রুত নতি স্বীকার করেনি। বরং দেশটি রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। এই অবস্থানকে কেউ দৃঢ়তা বলবেন, কেউ কৌশলগত হিসাব—কিন্তু এটিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ধারণা করেছিলেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো হতে পারে। এমনকি নির্বাসিত রাজপরিবারের সদস্যদের ঘিরেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নানা আলোচনা দেখা গেছে। তবে এসব সম্ভাবনার অনেকটাই বাস্তবে ঘটেনি। ফলে যুদ্ধের শুরুতে যে দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তা অন্তত প্রকাশ্য বাস্তবতায় প্রতিফলিত হয়নি।
আমার মতে, এখানেই ইরানের সবচেয়ে বড় সাফল্য। কারণ যুদ্ধের সময় রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সংহতি ধরে রাখা যেকোনো দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদিও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে, তবু সংকটের মুহূর্তে রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েনি।
এই যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই পথের ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধ চলাকালে হরমুজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। আমার দৃষ্টিতে, যুদ্ধের পর এই প্রণালিকে ঘিরে ইরানের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক আইন ও নৌ চলাচলের বাস্তবতা বিবেচনায় হরমুজের ওপর একক কোনো রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি অত্যন্ত জটিল এবং বিতর্কিত, তবু এই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব যে আগের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা অস্বীকার করা কঠিন।
পারমাণবিক কর্মসূচির প্রশ্নটিও যুদ্ধের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। অন্যদিকে ইরান বারবার বলেছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে মনে হয়, এই প্রশ্নেরও কোনো চূড়ান্ত সমাধান এখনো হয়নি। বরং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা, সংশ্লিষ্ট চুক্তি এবং কূটনৈতিক সমঝোতার ওপর।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই সংঘাত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যদি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পথ আরও উন্মুক্ত হয়, তাহলে ইরানের অর্থনীতি নতুন গতি পেতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সম্পদ অবমুক্ত করার আলোচনা থাকলেও সেগুলোর অনেকটাই আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তাই এসব বিষয়কে নিশ্চিত বাস্তবতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আমার মতে, ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু তেল ও গ্যাস নয়। দেশটির রয়েছে উল্লেখযোগ্য কৃষি উৎপাদন, শিল্পভিত্তি, উচ্চশিক্ষিত জনশক্তি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বাধা কমলে এই সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে।
এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো এতদিন নিরাপত্তার জন্য অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাত দেখিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ আগের চেয়ে আরও জটিল। ফলে ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের মধ্যে নতুন ধরনের নিরাপত্তা সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও কঠিন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। বিশাল ঋণের বোঝা, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সংকট ওয়াশিংটনের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি আরেকটি যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ব্যয়বহুল হতো—এমন মত অনেক বিশ্লেষকের।
ইসরায়েলের অবস্থানও বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। দেশটি এখনো ইরানকে তার প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে এবং আঞ্চলিক নীতিতে সে অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। ফলে বর্তমান সমঝোতা স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা দিচ্ছে—এমনটি বলা কঠিন। বরং কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং প্রক্সি সংঘাত অব্যাহত থাকার আশঙ্কাই বেশি।
আমার বিশ্বাস, এই যুদ্ধ থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—আধুনিক বিশ্বে সামরিক শক্তি একমাত্র নির্ধারক নয়। অর্থনীতি, কূটনীতি, তথ্যযুদ্ধ, আন্তর্জাতিক জনমত এবং আঞ্চলিক জোট—সবকিছু মিলিয়েই আজকের ভূরাজনীতি নির্ধারিত হয়। কোনো পক্ষ সামরিকভাবে কিছু সুবিধা পেলেই যে রাজনৈতিক বিজয় নিশ্চিত হবে, এমন ধারণা এখন আর বাস্তবসম্মত নয়।
ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।
আমার মূল্যায়নে, এই সংঘাতে প্রত্যেক পক্ষই কিছু অর্জন করেছে, আবার কিছু হারিয়েছেও। কে বেশি লাভবান হয়েছে, তার চূড়ান্ত মূল্যায়ন এখনই করা সম্ভব নয়। কারণ যুদ্ধের প্রকৃত ফলাফল অনেক সময় যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং পরবর্তী কয়েক বছরের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়।
সুতরাং আবেগ বা প্রচারণার পরিবর্তে বাস্তবতাকে সামনে রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই হবে সবচেয়ে বিচক্ষণ পথ। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের কূটনীতি, পারস্পরিক আস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা।
লেখক: ওমানের মাসকটপ্রবাসী। ইমেইলঃ [email protected]
প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।
এক চিপায় রোনালদো বসে বসে খেলা দেখছিলেন। বিগ ফ্যান! বিশ্বাসই করতে পারছি না এই লোকটাই ব্রাজিলকে ২০০২ বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিল।
চর সিঙ্গুইর গ্রামে পৌঁছে নামের সঙ্গে গ্রামের পরিবেশের এক অদ্ভুত মিল খুঁজে পেলাম। যে বাড়িতে আমরা পৌঁছালাম, তার ঠিক পেছনেই বিশাল জলাভূমি। কচুরিপানায় ভরা সেই জলরাশি দেখতে যেন এক জীবন্ত চিত্রকর্ম। কয়েকজন কিশোর জাল ফেলে মাছ ধরার চেষ্টা করছে। তাদের হাসি আর চিৎকারে চারপাশ মুখরিত।