
শরীফুল আলম

সিলেটের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এই বদলি? এর কারণ মূলত দুটো, দীর্ঘদিন ধরে শাহপরাণ ও শাহজালাল মাজারের ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং সিলেটের সাদা পাথর চুরির ঘটনায় যুক্ত সিন্ডিকেটদের সাথে এই ডিসি সাহেবের বিরোধ চলছিল। তিনি একটি আধুনিক ব্যস্থাপনার আওতায় ওই দুই মাজার এবং সাদা পাথরকে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনার চেষ্টা করছিলেন।
কে এই সারওয়ার আলম? তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযানে অসম্ভব রকমের সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি হয়তো বা জানেন না, এই সমাজে হজরত ওমর (রা.)–এর মতো সৎ সবাই হতে পারেন না। এই নষ্ট সমাজে ডিসি সারওয়ার আলমের মতো সৎ, নির্ভীক বিসিএস ক্যাডার অফিসার খুব কম পাওয়া যাবে। এই সমাজে তার জন্মের দায় তার নয়, তবে তার কর্মের দায় ষোলো আনাই তার। ডিসি সারওয়ার আলমকে যে বদলি করে নন–অপারেশানাল করা হলো, এটা কি রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক হলো?
আওলাদে ওলিদের ডেগ ব্যবসায় তিনি যখন হাত দিয়েছিলেন তখন থেকেই মূলত এই সিন্ডিকেটদের সাথে তার বিরোধ। যারা নিজেকে হজরত শাহপরাণ ও শাহজালালের আওলাদ বলে দাবি করছেন তাদের কাছেই আমার প্রশ্ন হজরত শাহজালাল তিনি নিজেই বিবাহিত না অবিবাহিত তার মীমাংসাই তো আজ পর্যন্ত হয়নি, তাহলে ওনার আওলাদ আসে কোথা থেকে?
জানি দেশে ইনকামের রাস্তা বের করা খুব কঠিন। তবে এই মাজারকেন্দ্রিক আয় থেকে শত শত পরিবার চলছে এটা শতভাগ সত্য। তিনি ( ডিসি সারওয়ার আলম) এই ব্যবস্থাপনায় একটি আধুনিক ব্যবস্থা এবং হিসাব–নিকাশে স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করছিলেন। মাজারে ভক্তদের দান, অনুদানের টাকা, পয়সা, সোনাদানার একটি স্বচ্ছ হিসাব, অডিট এবং আয়–ব্যয়ের আধুনিকায়ন করার চেষ্টা করছিলেন। যা এই সিন্ডিকেটদের ব্যবসায় আঘাত লাগার কারণে তার এই আকস্মিক বদলি। এই বদলি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি রুটিন ওয়ার্ক। এতে তাদের কোনো দোষ নেই। তারা সব সময় ‘জনস্বার্থে বদলি কিংবা পদায়ন করে অথবা বাধ্যতামূলকভাবে অবসরে পাঠায়’।
ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন। অবশ্য তার এই অভিযান বেশি দিন করতে হয়নি। কিছুদিনের মধ্যেই সিন্ডিকেটের কাছে তাকে নতি স্বীকার করতে হয়েছে এবং তাকে ওএসডি করা হয়। সিলেটে ডিসি হিসাবে যোগদান করেই তার প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল চুরি হওয়া সাদা পাথর উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নিয়ে আসা।
সিলেটের মাজার এবং সাদা পাথর সিন্ডেকেটের বিরুদ্ধে তিনিই একমাত্র অফিসার যিনি বুক চিতিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি সিন্ডিকেটের কাছে শেষমেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন বটে কিন্তু তিনি মাথা নত করেননি।
ঠিক একই কায়দায় কুষ্টিয়ার তদানীন্তন জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেনকেও আকস্মিক বদলি করা হয়েছিল। প্রশাসনিক বদলি এটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু কিছু কিছু বদলি স্বাভাবিক প্রশাসনিক রুটিন সিদ্ধান্তের মধ্যে পড়ে না, বরং বিতর্কের সৃষ্টি করে। এতে অদৃশ্য শক্তিকে উসকে দেওয়া হয়, সুশাসন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। মসজিদ, ওয়াকফ সম্পত্তি, মাজার—এগুলো আমাদের সামাজিক শক্তি, এতে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছতা অবশ্যই থাকতে হবে। মাজার–মসজিদের এই টাকাগুলো কোথা থেকে আসে, কোথায় খরচ হয়, এই স্বচ্ছতা তো থাকতেই হবে। আর এই স্বচ্ছতা আনতে গিয়ে ডিসি সারওয়ার আলম মাজারের ডেগে সিসি ক্যামেরা, অডিট এবং ডিজিটালাইড পদ্ধতি চালু করার কারণেই সিন্ডিকেটদের তদবিরে এই আকস্মিক বদলি তাকে হতে হয়েছে। এমন বদলি রাষ্ট্রের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। এমন প্রশ্নবোধক বদলি অন্য সৎ অফিসারদের কাছে একটা ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়। এই দুই মাজারে বছরে কোটি কোটি টাকার প্রবাহ আছে, এই টাকা কোথায় যায়, কোথা থেকে আসে তার হিসাব থাকবে না, এ কেমন কথা?
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
শরীফুল আলম: নিউইয়র্ক, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র

সিলেটের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এই বদলি? এর কারণ মূলত দুটো, দীর্ঘদিন ধরে শাহপরাণ ও শাহজালাল মাজারের ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং সিলেটের সাদা পাথর চুরির ঘটনায় যুক্ত সিন্ডিকেটদের সাথে এই ডিসি সাহেবের বিরোধ চলছিল। তিনি একটি আধুনিক ব্যস্থাপনার আওতায় ওই দুই মাজার এবং সাদা পাথরকে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনার চেষ্টা করছিলেন।
কে এই সারওয়ার আলম? তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযানে অসম্ভব রকমের সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি হয়তো বা জানেন না, এই সমাজে হজরত ওমর (রা.)–এর মতো সৎ সবাই হতে পারেন না। এই নষ্ট সমাজে ডিসি সারওয়ার আলমের মতো সৎ, নির্ভীক বিসিএস ক্যাডার অফিসার খুব কম পাওয়া যাবে। এই সমাজে তার জন্মের দায় তার নয়, তবে তার কর্মের দায় ষোলো আনাই তার। ডিসি সারওয়ার আলমকে যে বদলি করে নন–অপারেশানাল করা হলো, এটা কি রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক হলো?
আওলাদে ওলিদের ডেগ ব্যবসায় তিনি যখন হাত দিয়েছিলেন তখন থেকেই মূলত এই সিন্ডিকেটদের সাথে তার বিরোধ। যারা নিজেকে হজরত শাহপরাণ ও শাহজালালের আওলাদ বলে দাবি করছেন তাদের কাছেই আমার প্রশ্ন হজরত শাহজালাল তিনি নিজেই বিবাহিত না অবিবাহিত তার মীমাংসাই তো আজ পর্যন্ত হয়নি, তাহলে ওনার আওলাদ আসে কোথা থেকে?
জানি দেশে ইনকামের রাস্তা বের করা খুব কঠিন। তবে এই মাজারকেন্দ্রিক আয় থেকে শত শত পরিবার চলছে এটা শতভাগ সত্য। তিনি ( ডিসি সারওয়ার আলম) এই ব্যবস্থাপনায় একটি আধুনিক ব্যবস্থা এবং হিসাব–নিকাশে স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করছিলেন। মাজারে ভক্তদের দান, অনুদানের টাকা, পয়সা, সোনাদানার একটি স্বচ্ছ হিসাব, অডিট এবং আয়–ব্যয়ের আধুনিকায়ন করার চেষ্টা করছিলেন। যা এই সিন্ডিকেটদের ব্যবসায় আঘাত লাগার কারণে তার এই আকস্মিক বদলি। এই বদলি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি রুটিন ওয়ার্ক। এতে তাদের কোনো দোষ নেই। তারা সব সময় ‘জনস্বার্থে বদলি কিংবা পদায়ন করে অথবা বাধ্যতামূলকভাবে অবসরে পাঠায়’।
ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন। অবশ্য তার এই অভিযান বেশি দিন করতে হয়নি। কিছুদিনের মধ্যেই সিন্ডিকেটের কাছে তাকে নতি স্বীকার করতে হয়েছে এবং তাকে ওএসডি করা হয়। সিলেটে ডিসি হিসাবে যোগদান করেই তার প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল চুরি হওয়া সাদা পাথর উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নিয়ে আসা।
সিলেটের মাজার এবং সাদা পাথর সিন্ডেকেটের বিরুদ্ধে তিনিই একমাত্র অফিসার যিনি বুক চিতিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি সিন্ডিকেটের কাছে শেষমেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন বটে কিন্তু তিনি মাথা নত করেননি।
ঠিক একই কায়দায় কুষ্টিয়ার তদানীন্তন জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেনকেও আকস্মিক বদলি করা হয়েছিল। প্রশাসনিক বদলি এটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু কিছু কিছু বদলি স্বাভাবিক প্রশাসনিক রুটিন সিদ্ধান্তের মধ্যে পড়ে না, বরং বিতর্কের সৃষ্টি করে। এতে অদৃশ্য শক্তিকে উসকে দেওয়া হয়, সুশাসন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। মসজিদ, ওয়াকফ সম্পত্তি, মাজার—এগুলো আমাদের সামাজিক শক্তি, এতে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছতা অবশ্যই থাকতে হবে। মাজার–মসজিদের এই টাকাগুলো কোথা থেকে আসে, কোথায় খরচ হয়, এই স্বচ্ছতা তো থাকতেই হবে। আর এই স্বচ্ছতা আনতে গিয়ে ডিসি সারওয়ার আলম মাজারের ডেগে সিসি ক্যামেরা, অডিট এবং ডিজিটালাইড পদ্ধতি চালু করার কারণেই সিন্ডিকেটদের তদবিরে এই আকস্মিক বদলি তাকে হতে হয়েছে। এমন বদলি রাষ্ট্রের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। এমন প্রশ্নবোধক বদলি অন্য সৎ অফিসারদের কাছে একটা ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়। এই দুই মাজারে বছরে কোটি কোটি টাকার প্রবাহ আছে, এই টাকা কোথায় যায়, কোথা থেকে আসে তার হিসাব থাকবে না, এ কেমন কথা?
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
শরীফুল আলম: নিউইয়র্ক, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র
ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।
পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।
প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।