
সহিদুল আলম স্বপন

রাজনীতির ইতিহাসে নির্বাসন নতুন কোনো ঘটনা নয়। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, মতাদর্শিক সংঘাত কিংবা রাষ্ট্রক্ষমতার কঠোর প্রয়োগে বহু রাজনৈতিক নেতা নিজ দেশ ছেড়ে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক সময় নির্বাসনকে রাজনৈতিক জীবনের শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখা হলেও ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে—নির্বাসন প্রায়ই শেষ নয়; বরং তা নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
বিশ্ব রাজনীতিতে এর বহু উদাহরণ রয়েছে। নেলসন ম্যান্ডেলা দীর্ঘ কারাবাসের পর প্রতিশোধ নয়, সমঝোতার রাজনীতি বেছে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। ইরানে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নির্বাসন ও প্রত্যাবর্তন রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামোই বদলে দেয়। আবার পাকিস্তানে বেনজির ভুট্টোর প্রত্যাবর্তন গণতান্ত্রিক আশা জাগালেও রাজনৈতিক অস্থিরতা পুরোপুরি দূর করতে পারেনি। এসব অভিজ্ঞতা দেখায়—প্রত্যাবর্তন কখনো স্থিতি আনে, কখনো নতুন সংকট সৃষ্টি করে। পার্থক্য গড়ে দেয় রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার আচরণ।
এই বাস্তবতা আমাদের একটি মৌলিক সত্যের সামনে দাঁড় করায়, নির্বাসন কোনো রাজনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। এটি সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতিকে আরও অনিশ্চিত করে তোলে। কারণ নির্বাসনের মাধ্যমে সমস্যা দূর হয় না; সমস্যা কেবল দেশের সীমানার বাইরে সরে যায়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও নির্বাসন, আত্মগোপন ও প্রবাসে অবস্থানের নজির রয়েছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপ রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করেনি; বরং রাজনীতিকে আরও সংঘাতমুখর করেছে। ভিন্নমত দমন করে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না—এ অভিজ্ঞতা এখন স্পষ্ট।
নির্বাসিত নেতাদের দেশে ফেরা সাধারণত তিনটি প্রশ্ন সামনে আনে: রাষ্ট্র কি ভিন্নমত গ্রহণে প্রস্তুত, নেতৃত্ব কি প্রতিশোধের বদলে দায়িত্বশীলতার পথ বেছে নেবে এবং সমাজ কি সংঘাত নয়—সংলাপকে অগ্রাধিকার দেবে? এই তিনটির ভারসাম্যই ঠিক করে দেয় প্রত্যাবর্তন রাজনীতিকে স্থিতিশীল করবে, নাকি আরও জটিল করে তুলবে।
১৮ বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক প্রতীকী মুহূর্ত। এটি কেবল একটি ব্যক্তির প্রত্যাবর্তন নয়; বরং নির্বাসিত রাজনীতির দীর্ঘ এক অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং গণতন্ত্রকে তার স্বাভাবিক মাটিতে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত। গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে দেশের ভেতরেই—জনমতের মাঝে, ভোটের বাক্সে এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মাঠে।
ইতিহাস কোনো পক্ষ নেয় না; ইতিহাস কেবল ফলাফল লিপিবদ্ধ করে। নির্বাসন থেকে ফিরে আসা নেতারা তখনই ইতিহাসে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন, যখন তারা ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়, জাতীয় দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বাংলাদেশের জন্যও আজ সেই শিক্ষাই প্রাসঙ্গিক—রাজনীতির সমাধান রাজনীতির ভেতরেই খুঁজতে হবে, দেশের বাইরে নয়।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
*লেখক সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ; কলামিস্ট ও কবি

রাজনীতির ইতিহাসে নির্বাসন নতুন কোনো ঘটনা নয়। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, মতাদর্শিক সংঘাত কিংবা রাষ্ট্রক্ষমতার কঠোর প্রয়োগে বহু রাজনৈতিক নেতা নিজ দেশ ছেড়ে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক সময় নির্বাসনকে রাজনৈতিক জীবনের শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখা হলেও ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে—নির্বাসন প্রায়ই শেষ নয়; বরং তা নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
বিশ্ব রাজনীতিতে এর বহু উদাহরণ রয়েছে। নেলসন ম্যান্ডেলা দীর্ঘ কারাবাসের পর প্রতিশোধ নয়, সমঝোতার রাজনীতি বেছে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। ইরানে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নির্বাসন ও প্রত্যাবর্তন রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামোই বদলে দেয়। আবার পাকিস্তানে বেনজির ভুট্টোর প্রত্যাবর্তন গণতান্ত্রিক আশা জাগালেও রাজনৈতিক অস্থিরতা পুরোপুরি দূর করতে পারেনি। এসব অভিজ্ঞতা দেখায়—প্রত্যাবর্তন কখনো স্থিতি আনে, কখনো নতুন সংকট সৃষ্টি করে। পার্থক্য গড়ে দেয় রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার আচরণ।
এই বাস্তবতা আমাদের একটি মৌলিক সত্যের সামনে দাঁড় করায়, নির্বাসন কোনো রাজনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। এটি সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতিকে আরও অনিশ্চিত করে তোলে। কারণ নির্বাসনের মাধ্যমে সমস্যা দূর হয় না; সমস্যা কেবল দেশের সীমানার বাইরে সরে যায়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও নির্বাসন, আত্মগোপন ও প্রবাসে অবস্থানের নজির রয়েছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপ রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করেনি; বরং রাজনীতিকে আরও সংঘাতমুখর করেছে। ভিন্নমত দমন করে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না—এ অভিজ্ঞতা এখন স্পষ্ট।
নির্বাসিত নেতাদের দেশে ফেরা সাধারণত তিনটি প্রশ্ন সামনে আনে: রাষ্ট্র কি ভিন্নমত গ্রহণে প্রস্তুত, নেতৃত্ব কি প্রতিশোধের বদলে দায়িত্বশীলতার পথ বেছে নেবে এবং সমাজ কি সংঘাত নয়—সংলাপকে অগ্রাধিকার দেবে? এই তিনটির ভারসাম্যই ঠিক করে দেয় প্রত্যাবর্তন রাজনীতিকে স্থিতিশীল করবে, নাকি আরও জটিল করে তুলবে।
১৮ বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক প্রতীকী মুহূর্ত। এটি কেবল একটি ব্যক্তির প্রত্যাবর্তন নয়; বরং নির্বাসিত রাজনীতির দীর্ঘ এক অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং গণতন্ত্রকে তার স্বাভাবিক মাটিতে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত। গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে দেশের ভেতরেই—জনমতের মাঝে, ভোটের বাক্সে এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মাঠে।
ইতিহাস কোনো পক্ষ নেয় না; ইতিহাস কেবল ফলাফল লিপিবদ্ধ করে। নির্বাসন থেকে ফিরে আসা নেতারা তখনই ইতিহাসে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন, যখন তারা ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়, জাতীয় দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বাংলাদেশের জন্যও আজ সেই শিক্ষাই প্রাসঙ্গিক—রাজনীতির সমাধান রাজনীতির ভেতরেই খুঁজতে হবে, দেশের বাইরে নয়।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
*লেখক সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ; কলামিস্ট ও কবি
তিনি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত নিরলস প্রচারণা চালিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনো রাজনৈতিক নেতার সহধর্মিণীর এমন সক্রিয় ও দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার নজির খুব কমই দেখা যায়। তিনি শুধু মঞ্চে ভাষণ দেননি; তিনি মানুষের পাশে বসেছেন, তাদের কথা শুনেছেন।
স্বাধীনতার পর আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম এক ন্যায়ভিত্তিক সমাজের—যেখানে উর্বর মাটি, কর্মশক্তি ও মানবিক মর্যাদা মিলেমিশে উন্নতির পথ দেখাবে। ‘সোনার বাংলা’ নামে পরিচিত এই দেশে প্রত্যেক শিশুর চোখে থাকবে আলো, প্রত্যেক হৃদয়ে থাকবে সম্ভাবনা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা দলের ছিল না; এটি ছিল প্রকৃত অর্থেই আপামর জনগণের। অথচ সেই জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক জুলাই সনদকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, অপমানিত করা হয়েছে এবং ‘হ্যাঁ’–‘না’ ভোটের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে।
বাণিজ্য ও সামাজিক সম্পর্কও ধীরে ধীরে শহরের কেন্দ্র ছেড়ে সরে গেছে। বড় শপিং মল, আউটলেট, নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক অঞ্চল—সবই সুবিধাজনক ও কার্যকর। কিন্তু সেখানে নেই অপ্রত্যাশিত দেখা হওয়ার আনন্দ, ধীরে বসে থাকার অবকাশ, বা হঠাৎ আলাপের উষ্ণতা।