মঞ্জুর চৌধুরী. ডালাস, যুক্তরাষ্ট্র
ঘটনাটা সেদিন ঘটল, আমারই চোখের সামনে।
এক গ্রোসারি দোকানে বাজার করতে গেছি। মাংস, সবজি, ফল, মশলা ইত্যাদি টুকটাক কিনে কার্ট ঠেলে পার্ক করা গাড়ির দিকে এগোচ্ছি। এই সময়ে এক লোক নিজের গাড়ি বের করছিলেন।
তার গাড়ি বের করার ভঙ্গিতেই বুঝে গেলাম তিনি খুব একটা ভালো চালক না। আমি আমার ছেলের হাত ধরে সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলাম।
আমার ধারণা সঠিক প্রমাণ করতেই যেন তিনি গাড়ি পেছানোর সময় উল্টো দিকে পার্ক করা একটা এসইউভিকে ঠুকে দিলেন। চালক হিসেবে না টের পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
কিন্তু তিনি যেন কিছুই হয়নি, ভাব নিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে বেরিয়ে গেলেন।
পাশে বসা তার স্ত্রীর চেহারাতেও কোনো বিকার দেখলাম না।
তারা জাতিতে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি অথবা ইন্ডিয়ান হবেন হয়তো, ত্বকের রঙ ও পোশাক ইত্যাদি সেটাই বলছে। আমাদের ওসব দেশে এইসব ঠোকাঠুকি কোনো বিষয়ই না। বেশির ভাগ সময়ই পালিয়ে যাওয়া যায়। ধরা খেলে পাবলিকের চড়থাপ্পড়, গালাগালি, টাকা পয়সার লেনদেনের মাধ্যমে সমাধান হয়ে থাকে।
বিদেশে সাধারণ নিয়ম হচ্ছে, নেমে দেখা যে ক্ষতি কেমন হয়েছে। তারপরে ভিকটিমকে ইনসুরেন্স ইনফো দিয়ে ‘দুঃখিত’ বলা। কারওর গাড়ি ঠুকে পালিয়ে যাওয়াটা এখানে আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। ক্ষতির পরিমাণ ভেদে জেল জরিমানাও হতে পারে। এই ইমিগ্র্যান্ট দম্পতি হয়তো সেসবের তোয়াক্কাও করেন না।
কিন্তু পেছনের আসনের বসা তাদের ছেলেটা (বয়সে আমার বড় ছেলের সমান হবে) এদেশের আলো বাতাসে বড় হচ্ছে। সে বেচারা টিপিক্যাল আমেরিকানদের মতো পেছন ফিরে দেখছিল ওই গাড়ির কোনো ক্ষতি হলো কি না। একবার আমার সঙ্গে চোখাচোখি হলো। আমি যে ঘটনার একজন সাক্ষী, সেটা ওর বাবা–মায়ের বোধে না এলেও ওর চেহারায় সেই অপরাধবোধ ছিল। বাপের অপকর্মে সে যেন লজ্জিত।
এইবার আসি অন্য একটা ঘটনায়।
আমেরিকার এক তরুণী ইউটিউবার হতে চেয়েছিল। হাইস্কুল বয়ফ্রেন্ডকে সঙ্গে নিয়ে ভ্যান নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল আমেরিকার পথে পথে ঘুরতে, ভিডিও আপলোড করতে। এটাই ছিল ওর ক্যারিয়ার ড্রিম।
ভিডিওতে যদিও ওদেরকে সুখী দম্পতি দেখাত, কিন্তু ভেতরে ভেতরে বেশ সমস্যা চলছিল। বেশির ভাগ সোশ্যাল মিডিয়া কাপলেরই এই কাহিনি। তবে এখানে ‘ডমেস্টিক’ ভায়োলেন্স যুক্ত আছে।
মেয়ের পরিবার, মেয়ের বান্ধবীরা, সবাই জানে এই ছেলের সমস্যা আছে। মেয়ে নিজেও জানে। মার খায়। কিন্তু তারপরেও ওই ছেলে এমনভাবে সরি বলে যে, মেয়েটার ধারণা হয় ছেলেটা একেবারে ফেরেশতা, ওর নিজেরই সব দোষ। সে এই ছেলের যোগ্য না। সে ছেলেটাকে ভালোবাসা দিয়ে পুষিয়ে দিতে চায়।
আমাদের দেশের বহু নারীর ক্ষেত্রে ঘটনার মিল পাওয়া যাচ্ছে?
সমস্যাটা হচ্ছে, এই মেয়েটা একদিন গায়েব হয়ে যায়।
পরিবার বহু খোঁজাখুঁজি করেও ওর সন্ধান পাচ্ছিল না। ছেলেটা ওই মেয়েটার ভ্যান নিয়ে নিজের বাপমায়ের বাড়িতে পালিয়ে আসে। পুলিশ সেই ভ্যান উদ্ধার করে, কিন্তু আমেরিকান আইনের মারপ্যাঁচের কারণে ছেলেটার সঙ্গে কোনো কথাবার্তা বলতে পারে না।
পুলিশ/এফবিআই ওদের বুদ্ধি খাটিয়ে মেয়েটার নিথর দেহ উদ্ধার করে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী মেয়েটাকে ভারী কোন বস্তু দিয়ে আঘাত করে ও গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
অবশ্যই খুনি হিসেবে ওই ছেলেটাকেই সন্দেহ করা হয়।
কিন্তু ছেলেটা এরই মাঝে গায়েব হয়ে যায়।
পুলিশ আবারও নিজেদের বুদ্ধি খাটিয়ে ছেলেটাকে খুঁজে বের করে। সে আত্মহত্যা করে একটা জঙ্গলে পড়েছিল। শরীর পঁচে গলে শেষ।
মরার আগে শেষ চিঠিতে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে।
তো যা বলছিলাম। ইন্টারেস্টিং ঘটনা হচ্ছে, মেয়েটা হারিয়ে যাওয়ার আগে পুলিশ ওদেরকে হাইওয়েতে ধরেছিল। কেউ একজন ছেলেটাকে মেয়েটার গালে চড় মারতে দেখে পুলিশে জানায়। পুলিশ রাস্তাতেই ওদের ধরে এবং মেয়েটা তখন কাঁদছিল। পুলিশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে ওদের আলাদা আলাদা করে ছেড়ে দেয়।
এখানেই লোকজনের অভিযোগ যে, পুলিশ কেন কিছু করল না? মেয়েটা হয়তো বেঁচে থাকত।
পুলিশ কি বলবে? এই ধরনের ডমেস্টিক ভায়োলেন্স এদেশে অজস্র ঘটে। কয়টা নিয়ে ওরা মাথা ঘাঁটাবে?
ঘটনাটা দুঃখজনক। কিন্তু গোটা বিশ্বেই সমস্যাটা বিকট। এই ক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-আস্তিক-নাস্তিক, খ্যাত, স্মার্ট, শিক্ষিত, মূর্খ কোনো ভেদাভেদ নাই। বিষয়টা এড়িয়ে যাওয়ারও কোনো উপায় নাই। এই যে কিছুদিন আগে এক নারীকে ট্রেনে উঠতে গিয়ে স্বামীর লাথি খেতে হলো, এক অর্থে সেই নারী বেঁচে গেছেন। যে পুরুষ প্রকাশ্যে এইভাবে কাউকে লাথি মারতে পারে, সে যে গোপনে ওই নারীকে বিষ খাওয়াবে না, এর গ্যারান্টি কি?
উত্তরায় কোপাকুপির ঘটনায় যে ব্যক্তির পরকীয়া প্রকাশ্যে এল, এবং যে হসপিটালের বিছানা থেকেই বউকে থ্রেট দিয়ে যাচ্ছে, সে বউকে একান্তে পেলে কি করতে পারে বুঝে নেন।
আরেকটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে এক ছেলে সজোরে এক মেয়েকে চড় থাপ্পড় দিয়ে যাচ্ছে। বহু মানুষ কমেন্টে প্রশংসাও করছে। ওসব দেশে কবির সিং, এনিমেলের মতন তৃতীয় শ্রেণীর সাইকো ডিরেক্টরের সিনেমা ব্লক বাস্টার ব্যবসা করে, কেন সেটা বুঝতে খুব বেশি বুদ্ধি না থাকলেও চলে।
প্রথমে গ্রোসারি স্টোরের বাইরে যে ঘটনাটার উল্লেখ করেছিলাম, সেটার রেফারেন্স টেনেই শেষ করি।
আমরা বাবা–মায়েরা টেরই পাই না, আমাদের ছোটখাটো আচরণই আমাদের বাচ্চাদের ওপর কতটা প্রবল প্রভাব ফেলে। ছোটখাট ভুল করলেও সেটা ওদের নজরে আসে এবং সেটা নাড়াচাড়া করার মাধ্যমেই ওদের চরিত্র গড়ে উঠে। কেউ মহাপুরুষ হয়, কেউ হয় নৃশংস খুনি। আদর্শ বাপের পোলাপান আদর্শ হবে এর গ্যারান্টি নেই। তবে চেষ্টাটা থাকা উচিত। ছেলে যদি দেখে বাবা ওর মাকে পেটাচ্ছে, সেও ওর বউকে পেটাবে। মেয়ে যদি দেখে মা মার খাচ্ছে, সেও মার খেয়ে চুপ থাকবে। ওই যে ছেলেটা পেছন ফিরে দেখছিল বাপ কী ক্ষতি করেছে, খুব শিগরিই ওর মস্তিষ্ক এই ধ্যান ধারণা থেকে সরে আসবে এবং নতুন ধারণা আয়ত্ব করবে যে অপরাধ করে পালিয়ে যাওয়া যায়। বোকারাই সেটা শুধরানোর চেষ্টা করে।
ঘটনাটা সেদিন ঘটল, আমারই চোখের সামনে।
এক গ্রোসারি দোকানে বাজার করতে গেছি। মাংস, সবজি, ফল, মশলা ইত্যাদি টুকটাক কিনে কার্ট ঠেলে পার্ক করা গাড়ির দিকে এগোচ্ছি। এই সময়ে এক লোক নিজের গাড়ি বের করছিলেন।
তার গাড়ি বের করার ভঙ্গিতেই বুঝে গেলাম তিনি খুব একটা ভালো চালক না। আমি আমার ছেলের হাত ধরে সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলাম।
আমার ধারণা সঠিক প্রমাণ করতেই যেন তিনি গাড়ি পেছানোর সময় উল্টো দিকে পার্ক করা একটা এসইউভিকে ঠুকে দিলেন। চালক হিসেবে না টের পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
কিন্তু তিনি যেন কিছুই হয়নি, ভাব নিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে বেরিয়ে গেলেন।
পাশে বসা তার স্ত্রীর চেহারাতেও কোনো বিকার দেখলাম না।
তারা জাতিতে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি অথবা ইন্ডিয়ান হবেন হয়তো, ত্বকের রঙ ও পোশাক ইত্যাদি সেটাই বলছে। আমাদের ওসব দেশে এইসব ঠোকাঠুকি কোনো বিষয়ই না। বেশির ভাগ সময়ই পালিয়ে যাওয়া যায়। ধরা খেলে পাবলিকের চড়থাপ্পড়, গালাগালি, টাকা পয়সার লেনদেনের মাধ্যমে সমাধান হয়ে থাকে।
বিদেশে সাধারণ নিয়ম হচ্ছে, নেমে দেখা যে ক্ষতি কেমন হয়েছে। তারপরে ভিকটিমকে ইনসুরেন্স ইনফো দিয়ে ‘দুঃখিত’ বলা। কারওর গাড়ি ঠুকে পালিয়ে যাওয়াটা এখানে আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। ক্ষতির পরিমাণ ভেদে জেল জরিমানাও হতে পারে। এই ইমিগ্র্যান্ট দম্পতি হয়তো সেসবের তোয়াক্কাও করেন না।
কিন্তু পেছনের আসনের বসা তাদের ছেলেটা (বয়সে আমার বড় ছেলের সমান হবে) এদেশের আলো বাতাসে বড় হচ্ছে। সে বেচারা টিপিক্যাল আমেরিকানদের মতো পেছন ফিরে দেখছিল ওই গাড়ির কোনো ক্ষতি হলো কি না। একবার আমার সঙ্গে চোখাচোখি হলো। আমি যে ঘটনার একজন সাক্ষী, সেটা ওর বাবা–মায়ের বোধে না এলেও ওর চেহারায় সেই অপরাধবোধ ছিল। বাপের অপকর্মে সে যেন লজ্জিত।
এইবার আসি অন্য একটা ঘটনায়।
আমেরিকার এক তরুণী ইউটিউবার হতে চেয়েছিল। হাইস্কুল বয়ফ্রেন্ডকে সঙ্গে নিয়ে ভ্যান নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল আমেরিকার পথে পথে ঘুরতে, ভিডিও আপলোড করতে। এটাই ছিল ওর ক্যারিয়ার ড্রিম।
ভিডিওতে যদিও ওদেরকে সুখী দম্পতি দেখাত, কিন্তু ভেতরে ভেতরে বেশ সমস্যা চলছিল। বেশির ভাগ সোশ্যাল মিডিয়া কাপলেরই এই কাহিনি। তবে এখানে ‘ডমেস্টিক’ ভায়োলেন্স যুক্ত আছে।
মেয়ের পরিবার, মেয়ের বান্ধবীরা, সবাই জানে এই ছেলের সমস্যা আছে। মেয়ে নিজেও জানে। মার খায়। কিন্তু তারপরেও ওই ছেলে এমনভাবে সরি বলে যে, মেয়েটার ধারণা হয় ছেলেটা একেবারে ফেরেশতা, ওর নিজেরই সব দোষ। সে এই ছেলের যোগ্য না। সে ছেলেটাকে ভালোবাসা দিয়ে পুষিয়ে দিতে চায়।
আমাদের দেশের বহু নারীর ক্ষেত্রে ঘটনার মিল পাওয়া যাচ্ছে?
সমস্যাটা হচ্ছে, এই মেয়েটা একদিন গায়েব হয়ে যায়।
পরিবার বহু খোঁজাখুঁজি করেও ওর সন্ধান পাচ্ছিল না। ছেলেটা ওই মেয়েটার ভ্যান নিয়ে নিজের বাপমায়ের বাড়িতে পালিয়ে আসে। পুলিশ সেই ভ্যান উদ্ধার করে, কিন্তু আমেরিকান আইনের মারপ্যাঁচের কারণে ছেলেটার সঙ্গে কোনো কথাবার্তা বলতে পারে না।
পুলিশ/এফবিআই ওদের বুদ্ধি খাটিয়ে মেয়েটার নিথর দেহ উদ্ধার করে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী মেয়েটাকে ভারী কোন বস্তু দিয়ে আঘাত করে ও গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
অবশ্যই খুনি হিসেবে ওই ছেলেটাকেই সন্দেহ করা হয়।
কিন্তু ছেলেটা এরই মাঝে গায়েব হয়ে যায়।
পুলিশ আবারও নিজেদের বুদ্ধি খাটিয়ে ছেলেটাকে খুঁজে বের করে। সে আত্মহত্যা করে একটা জঙ্গলে পড়েছিল। শরীর পঁচে গলে শেষ।
মরার আগে শেষ চিঠিতে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে।
তো যা বলছিলাম। ইন্টারেস্টিং ঘটনা হচ্ছে, মেয়েটা হারিয়ে যাওয়ার আগে পুলিশ ওদেরকে হাইওয়েতে ধরেছিল। কেউ একজন ছেলেটাকে মেয়েটার গালে চড় মারতে দেখে পুলিশে জানায়। পুলিশ রাস্তাতেই ওদের ধরে এবং মেয়েটা তখন কাঁদছিল। পুলিশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে ওদের আলাদা আলাদা করে ছেড়ে দেয়।
এখানেই লোকজনের অভিযোগ যে, পুলিশ কেন কিছু করল না? মেয়েটা হয়তো বেঁচে থাকত।
পুলিশ কি বলবে? এই ধরনের ডমেস্টিক ভায়োলেন্স এদেশে অজস্র ঘটে। কয়টা নিয়ে ওরা মাথা ঘাঁটাবে?
ঘটনাটা দুঃখজনক। কিন্তু গোটা বিশ্বেই সমস্যাটা বিকট। এই ক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-আস্তিক-নাস্তিক, খ্যাত, স্মার্ট, শিক্ষিত, মূর্খ কোনো ভেদাভেদ নাই। বিষয়টা এড়িয়ে যাওয়ারও কোনো উপায় নাই। এই যে কিছুদিন আগে এক নারীকে ট্রেনে উঠতে গিয়ে স্বামীর লাথি খেতে হলো, এক অর্থে সেই নারী বেঁচে গেছেন। যে পুরুষ প্রকাশ্যে এইভাবে কাউকে লাথি মারতে পারে, সে যে গোপনে ওই নারীকে বিষ খাওয়াবে না, এর গ্যারান্টি কি?
উত্তরায় কোপাকুপির ঘটনায় যে ব্যক্তির পরকীয়া প্রকাশ্যে এল, এবং যে হসপিটালের বিছানা থেকেই বউকে থ্রেট দিয়ে যাচ্ছে, সে বউকে একান্তে পেলে কি করতে পারে বুঝে নেন।
আরেকটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে এক ছেলে সজোরে এক মেয়েকে চড় থাপ্পড় দিয়ে যাচ্ছে। বহু মানুষ কমেন্টে প্রশংসাও করছে। ওসব দেশে কবির সিং, এনিমেলের মতন তৃতীয় শ্রেণীর সাইকো ডিরেক্টরের সিনেমা ব্লক বাস্টার ব্যবসা করে, কেন সেটা বুঝতে খুব বেশি বুদ্ধি না থাকলেও চলে।
প্রথমে গ্রোসারি স্টোরের বাইরে যে ঘটনাটার উল্লেখ করেছিলাম, সেটার রেফারেন্স টেনেই শেষ করি।
আমরা বাবা–মায়েরা টেরই পাই না, আমাদের ছোটখাটো আচরণই আমাদের বাচ্চাদের ওপর কতটা প্রবল প্রভাব ফেলে। ছোটখাট ভুল করলেও সেটা ওদের নজরে আসে এবং সেটা নাড়াচাড়া করার মাধ্যমেই ওদের চরিত্র গড়ে উঠে। কেউ মহাপুরুষ হয়, কেউ হয় নৃশংস খুনি। আদর্শ বাপের পোলাপান আদর্শ হবে এর গ্যারান্টি নেই। তবে চেষ্টাটা থাকা উচিত। ছেলে যদি দেখে বাবা ওর মাকে পেটাচ্ছে, সেও ওর বউকে পেটাবে। মেয়ে যদি দেখে মা মার খাচ্ছে, সেও মার খেয়ে চুপ থাকবে। ওই যে ছেলেটা পেছন ফিরে দেখছিল বাপ কী ক্ষতি করেছে, খুব শিগরিই ওর মস্তিষ্ক এই ধ্যান ধারণা থেকে সরে আসবে এবং নতুন ধারণা আয়ত্ব করবে যে অপরাধ করে পালিয়ে যাওয়া যায়। বোকারাই সেটা শুধরানোর চেষ্টা করে।
সম্ভবত কবিতা হলো ঘোমটা পরা সেই বউ, যাকে দেখে পাঠক বিভ্রান্ত হবে। সঠিকের কাছাকাছি যাবে, কিন্তু একদম সঠিক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছুতে পারবে না। অনেকটা শহীদ কাদরীর ‘কোথাও শান্তি পাবে না পাবে না পাবে না’র পরিস্থিতি।
অনেকেই মনে করেন, তারা চুপিচুপি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে বা সেখানে থেকে গিয়ে ধরা পড়া এড়াতে পারবেন। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ট্রাম্প প্রশাসন সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও নির্বাসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
সবাইকে আগাম ঈদ মোবারক। পৃথিবীতে আসুক শান্তি আর ভালোবাসা। সবাইকে নিয়ে আমরা যেন খুব ভালো থাকি।
আকুল হয়ে চাইলে নাকি তাকে পাওয়া যায়। আবার ছোটবেলায় পড়েছি চেষ্টা করলে উপায় হয়। সব ভূয়া কথা। ভেঙে যাবার একটা ঝুঁকি আছে বলেই চুড়ির শব্দে এত প্রণয়। তবে সত্যটা হচ্ছে আপনার বিগত দুঃখের ভার কেউ নেবে না।