
শাহাবুদ্দিন শুভ

একজন মা। দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করেছেন সন্তানকে। রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটিয়েছেন তার জ্বর, কান্না আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে। নিজের সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, এমনকি অনেক সময় নিজের প্রয়োজনও বিসর্জন দিয়েছেন সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। সেই মা যদি জীবনের শেষ সময়ে নিঃসঙ্গ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, আর তার মৃত্যুর খবর জানতে কয়েক দিন সময় লেগে যায়, তাহলে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজকেই আয়নার সামনে দাঁড়াতে হয়।
রাজধানীর পল্লবীতে নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনাটি এমনই এক নির্মম বাস্তবতা, যা আমাদের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মৃত্যুর পর কয়েক দিন তার মরদেহ একটি কক্ষে পড়ে ছিল। শরীরে পচন ধরেছিল। প্রতিবেশীদের সন্দেহ ও দুর্গন্ধের সূত্র ধরে পুলিশ এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এই দৃশ্য শুধু হৃদয়বিদারক নয়, এটি আমাদের সময়ের এক গভীর সামাজিক সংকটের প্রতিচ্ছবি।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, নূরজাহান বেগমের সন্তানেরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত। একজন যুগ্ম সচিব, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, একজন বিদেশে প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী, আরেকজন শিক্ষক। অর্থাৎ শিক্ষা, পেশা এবং সামাজিক মর্যাদার বিচারে তারা সফল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এই সাফল্যের ভেতরে মানবিকতা কোথায়? এই শিক্ষা কি তাদের মায়ের প্রতি ন্যূনতম দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে পেরেছিল?
আজ আমরা সন্তানদের ডাক্তার, প্রকৌশলী, আমলা, শিক্ষক বা বড় কর্মকর্তা বানানোর জন্য সর্বস্ব ব্যয় করছি। ভালো স্কুল, কোচিং, বিশ্ববিদ্যালয়—সবকিছুর পেছনে ছুটছি। কিন্তু আমরা কি সমান গুরুত্ব দিয়ে তাদের মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিচ্ছি? আমরা কি তাদের শেখাচ্ছি বৃদ্ধ বাবা-মায়ের হাত ধরে পাশে দাঁড়াতে? শেখাচ্ছি কৃতজ্ঞতা, সহমর্মিতা ও পারিবারিক দায়িত্ববোধ?
সমাজের সবচেয়ে বড় সংকট সম্ভবত এখানেই। আমরা শিক্ষিত মানুষ তৈরি করছি, কিন্তু সবসময় মানবিক মানুষ তৈরি করতে পারছি না।
ধর্মের আলোকে পিতা-মাতার মর্যাদা অপরিসীম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতালা তার ইবাদতের নির্দেশের পরপরই পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের কথা বলেছেন। রাসূল (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” ইসলামের দৃষ্টিতে পিতা-মাতার সেবা শুধু একটি নৈতিক কাজ নয়, এটি ইবাদতেরও অংশ।
যে মা সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান, নিজের জীবনকে সন্তানের জন্য উৎসর্গ করেন, সেই মাকে বার্ধক্যে একাকীত্বের মধ্যে ফেলে রাখা ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শুধু ইসলাম নয়, পৃথিবীর প্রায় সব ধর্ম ও সভ্যতাই পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।
বাংলাদেশের আইনও এই দায়িত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী সন্তানদের ওপর পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ, পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অর্থাৎ পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালন শুধু নৈতিক কিংবা ধর্মীয় বিষয় নয়; এটি একটি আইনগত কর্তব্যও।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—আইনের ভয়ে ভালো সন্তান তৈরি হয় না। ভালো সন্তান তৈরি হয় পরিবারে মূল্যবোধের চর্চা, ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে।
আজকের পৃথিবীতে অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগিতা আমাদের সম্পর্কগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে যান্ত্রিক করে তুলেছে। সন্তান হয়তো বাবা-মায়ের জন্য একটি ফ্ল্যাট কিনে দেয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা রাখে, কিন্তু সময় দেয় না। অথচ একজন বৃদ্ধ মা বা বাবার সবচেয়ে বড় চাহিদা অর্থ নয়; তাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সন্তানের সান্নিধ্য, একটি ফোন কল, কিছু সময়, কিছু আন্তরিক কথা এবং ভালোবাসার স্পর্শ।
প্রযুক্তির যুগে আমরা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তের মানুষের সঙ্গে মুহূর্তে যোগাযোগ করতে পারি। অথচ একই শহরে, একই ভবনে বা একই দেশে থেকেও অনেক মা-বাবা সন্তানের অপেক্ষায় দিন কাটান। এই বৈপরীত্য আমাদের সভ্যতার জন্য এক নীরব সতর্কবার্তা।
নূরজাহান বেগমের মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, ডিগ্রি মানুষকে চাকরি দিতে পারে, পদ মর্যাদা দিতে পারে, অর্থ ও ক্ষমতা দিতে পারে; কিন্তু মানবিকতা শেখাতে পারে না। মানবিকতা আসে পরিবার থেকে, মূল্যবোধ থেকে, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা থেকে এবং আত্মসমালোচনার মাধ্যমে।

আজ সময় এসেছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার। শুধু জিপিএ, সিজিপিএ বা চাকরির সাফল্য নয়, শিক্ষার সঙ্গে মানবিকতা, নৈতিকতা এবং পারিবারিক দায়িত্ববোধের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। সন্তানদের শেখাতে হবে—সফলতা মানে শুধু বড় পদে পৌঁছানো নয়; সফলতা মানে একজন ভালো মানুষ হওয়া।
একজন মা সন্তানের কাছে কখনো বিলাসিতা চান না। তিনি শুধু চান সন্তানের ভালোবাসা, সম্মান এবং একটু খোঁজখবর। জীবনের শেষ সময়ে এই সামান্য চাওয়াটুকুও যদি পূরণ না হয়, তাহলে আমাদের শিক্ষা, উন্নয়ন এবং আধুনিকতার দাবির ভেতরে নিশ্চয়ই কোথাও বড় একটি শূন্যতা রয়ে গেছে।
নূরজাহান বেগমের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের বেদনার গল্প নয়; এটি আমাদের সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানবিক মূল্যবোধহীন শিক্ষা কখনো পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা নয়।
আজ তাই আমাদের সবার কাছে একটি প্রশ্ন—
আমরা কি শুধু শিক্ষিত সন্তান গড়ছি, নাকি মানুষের মতো মানুষ গড়ছি?
এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের বাংলাদেশ কতটা মানবিক, কতটা সভ্য এবং কতটা বিবেকবান হবে।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
লেখক: প্রধান সম্পাদক, সিলেটপিডিয়া

একজন মা। দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করেছেন সন্তানকে। রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটিয়েছেন তার জ্বর, কান্না আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে। নিজের সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, এমনকি অনেক সময় নিজের প্রয়োজনও বিসর্জন দিয়েছেন সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। সেই মা যদি জীবনের শেষ সময়ে নিঃসঙ্গ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, আর তার মৃত্যুর খবর জানতে কয়েক দিন সময় লেগে যায়, তাহলে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজকেই আয়নার সামনে দাঁড়াতে হয়।
রাজধানীর পল্লবীতে নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনাটি এমনই এক নির্মম বাস্তবতা, যা আমাদের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মৃত্যুর পর কয়েক দিন তার মরদেহ একটি কক্ষে পড়ে ছিল। শরীরে পচন ধরেছিল। প্রতিবেশীদের সন্দেহ ও দুর্গন্ধের সূত্র ধরে পুলিশ এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এই দৃশ্য শুধু হৃদয়বিদারক নয়, এটি আমাদের সময়ের এক গভীর সামাজিক সংকটের প্রতিচ্ছবি।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, নূরজাহান বেগমের সন্তানেরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত। একজন যুগ্ম সচিব, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, একজন বিদেশে প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী, আরেকজন শিক্ষক। অর্থাৎ শিক্ষা, পেশা এবং সামাজিক মর্যাদার বিচারে তারা সফল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এই সাফল্যের ভেতরে মানবিকতা কোথায়? এই শিক্ষা কি তাদের মায়ের প্রতি ন্যূনতম দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে পেরেছিল?
আজ আমরা সন্তানদের ডাক্তার, প্রকৌশলী, আমলা, শিক্ষক বা বড় কর্মকর্তা বানানোর জন্য সর্বস্ব ব্যয় করছি। ভালো স্কুল, কোচিং, বিশ্ববিদ্যালয়—সবকিছুর পেছনে ছুটছি। কিন্তু আমরা কি সমান গুরুত্ব দিয়ে তাদের মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিচ্ছি? আমরা কি তাদের শেখাচ্ছি বৃদ্ধ বাবা-মায়ের হাত ধরে পাশে দাঁড়াতে? শেখাচ্ছি কৃতজ্ঞতা, সহমর্মিতা ও পারিবারিক দায়িত্ববোধ?
সমাজের সবচেয়ে বড় সংকট সম্ভবত এখানেই। আমরা শিক্ষিত মানুষ তৈরি করছি, কিন্তু সবসময় মানবিক মানুষ তৈরি করতে পারছি না।
ধর্মের আলোকে পিতা-মাতার মর্যাদা অপরিসীম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতালা তার ইবাদতের নির্দেশের পরপরই পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের কথা বলেছেন। রাসূল (সা.) বলেছেন, “মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।” ইসলামের দৃষ্টিতে পিতা-মাতার সেবা শুধু একটি নৈতিক কাজ নয়, এটি ইবাদতেরও অংশ।
যে মা সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান, নিজের জীবনকে সন্তানের জন্য উৎসর্গ করেন, সেই মাকে বার্ধক্যে একাকীত্বের মধ্যে ফেলে রাখা ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শুধু ইসলাম নয়, পৃথিবীর প্রায় সব ধর্ম ও সভ্যতাই পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।
বাংলাদেশের আইনও এই দায়িত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী সন্তানদের ওপর পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ, পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অর্থাৎ পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালন শুধু নৈতিক কিংবা ধর্মীয় বিষয় নয়; এটি একটি আইনগত কর্তব্যও।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—আইনের ভয়ে ভালো সন্তান তৈরি হয় না। ভালো সন্তান তৈরি হয় পরিবারে মূল্যবোধের চর্চা, ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে।
আজকের পৃথিবীতে অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগিতা আমাদের সম্পর্কগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে যান্ত্রিক করে তুলেছে। সন্তান হয়তো বাবা-মায়ের জন্য একটি ফ্ল্যাট কিনে দেয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা রাখে, কিন্তু সময় দেয় না। অথচ একজন বৃদ্ধ মা বা বাবার সবচেয়ে বড় চাহিদা অর্থ নয়; তাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সন্তানের সান্নিধ্য, একটি ফোন কল, কিছু সময়, কিছু আন্তরিক কথা এবং ভালোবাসার স্পর্শ।
প্রযুক্তির যুগে আমরা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তের মানুষের সঙ্গে মুহূর্তে যোগাযোগ করতে পারি। অথচ একই শহরে, একই ভবনে বা একই দেশে থেকেও অনেক মা-বাবা সন্তানের অপেক্ষায় দিন কাটান। এই বৈপরীত্য আমাদের সভ্যতার জন্য এক নীরব সতর্কবার্তা।
নূরজাহান বেগমের মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, ডিগ্রি মানুষকে চাকরি দিতে পারে, পদ মর্যাদা দিতে পারে, অর্থ ও ক্ষমতা দিতে পারে; কিন্তু মানবিকতা শেখাতে পারে না। মানবিকতা আসে পরিবার থেকে, মূল্যবোধ থেকে, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা থেকে এবং আত্মসমালোচনার মাধ্যমে।

আজ সময় এসেছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার। শুধু জিপিএ, সিজিপিএ বা চাকরির সাফল্য নয়, শিক্ষার সঙ্গে মানবিকতা, নৈতিকতা এবং পারিবারিক দায়িত্ববোধের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। সন্তানদের শেখাতে হবে—সফলতা মানে শুধু বড় পদে পৌঁছানো নয়; সফলতা মানে একজন ভালো মানুষ হওয়া।
একজন মা সন্তানের কাছে কখনো বিলাসিতা চান না। তিনি শুধু চান সন্তানের ভালোবাসা, সম্মান এবং একটু খোঁজখবর। জীবনের শেষ সময়ে এই সামান্য চাওয়াটুকুও যদি পূরণ না হয়, তাহলে আমাদের শিক্ষা, উন্নয়ন এবং আধুনিকতার দাবির ভেতরে নিশ্চয়ই কোথাও বড় একটি শূন্যতা রয়ে গেছে।
নূরজাহান বেগমের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের বেদনার গল্প নয়; এটি আমাদের সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানবিক মূল্যবোধহীন শিক্ষা কখনো পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা নয়।
আজ তাই আমাদের সবার কাছে একটি প্রশ্ন—
আমরা কি শুধু শিক্ষিত সন্তান গড়ছি, নাকি মানুষের মতো মানুষ গড়ছি?
এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের বাংলাদেশ কতটা মানবিক, কতটা সভ্য এবং কতটা বিবেকবান হবে।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
লেখক: প্রধান সম্পাদক, সিলেটপিডিয়া
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, কোনো বর্বরতাই চিরস্থায়ী হতে পারেনি। তাই প্রশ্ন হলো আমরা কোন পাশে গিয়ে দাঁড়াব? উত্তরাধিকারের পক্ষে, নাকি ক্রমবিবর্তনের পক্ষে?
আজ আমরা সন্তানদের ডাক্তার, প্রকৌশলী, আমলা, শিক্ষক বা বড় কর্মকর্তা বানানোর জন্য সর্বস্ব ব্যয় করছি। ভালো স্কুল, কোচিং, বিশ্ববিদ্যালয়—সবকিছুর পেছনে ছুটছি। কিন্তু আমরা কি সমান গুরুত্ব দিয়ে তাদের মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিচ্ছি?
কষ্টটা নানা ধরনের। অন্য কষ্ট চাপিয়ে সবচেয়ে বড় এক কষ্টের নাম—পরিবার-পরিজন ছাড়া প্রবাসে ঈদ উদ্যাপন।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানের সামনেও সেই একই সুযোগ উন্মুক্ত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। নতুন বাংলাদেশ যদি আঞ্চলিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তাহলে তা কেবল দেশের জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই একটি যুগান্তকারী সুযোগ হতে পারে।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানের সামনেও সেই একই সুযোগ উন্মুক্ত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। নতুন বাংলাদেশ যদি আঞ্চলিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তাহলে তা কেবল দেশের জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই একটি যুগান্তকারী সুযোগ হতে পারে।
৯ দিন আগে