রহমান মৃধা, সুইডেন
যদি একটি জাতির খারাপ হতে ৫৪ বছর লাগে, তাহলে এক বছরে কীভাবে ভালো হওয়া সম্ভব? যদি বাংলাদেশের মানুষ সত্যিকার অর্থে দুর্নীতিমুক্ত, সৎ, সুশিক্ষিত, ন্যায়পরায়ণ ও সৃজনশীল হতে চায়, তবে সেটা কি মাত্র এক বছরের মধ্যে সম্ভব?
প্রকৃত সত্য হলো—৫৪ বছরের দুর্নীতির আগুন এক বছরে নিভিয়ে ভালো কিছু করা যায় না।
বর্তমান বাস্তবতা হলো, গত ১২ মাসে একজন নেতাকর্মীও বুকে হাত রেখে বলতে পারবেন না যে, তারা কোনো ভালো কাজ করেছেন।
যেখানে ড. ইউনূসের মতো একজন বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তি তাঁর পুরো সময় (১২ মাস) এক উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত রেখেছেন, সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো নেতাকে দেখি না, যিনি মন থেকে তার প্রচেষ্টাকে সমর্থন কিংবা সহায়তা করেছেন।
তাদের পক্ষ থেকে ভালো কিছু করার কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপও চোখে পড়েনি।
আমি মনে করি, যতদিন ড. ইউনূস ক্ষমতায় আছেন, আমাদের তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা উচিত এবং তার ন্যায়পরায়ণতা, ম্যানেজমেন্ট কৌশল ও গ্রহণযোগ্যতা থেকে শেখা উচিত। একইসঙ্গে, দেশের সমস্ত দুর্নীতিবাজ ও অপকর্মীদের চিহ্নিত করা জরুরি।
শুধু আওয়ামী লীগের পেছনে সময় নষ্ট না করে, বিএনপি, জামায়াতসহ অন্য দলের সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদেরও বিচারের আওতায় আনুন। তখন সফলতা আসবে। তা না হলে, ‘যে লাউ, সে কদু’।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, লুটপাট ও দুঃশাসনের ফলেই ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। আজ আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা মাঠে নেই, তবুও দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আগের চেয়েও বেড়েছে। যদি এই লুটেরা কর্মকাণ্ড বন্ধ না হয়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—স্বৈরাচারের পতনের নামে এই নাটক কেন মঞ্চস্থ হলো?
কে কার সঙ্গে প্রহসন করছে?
আজকের বাস্তবতায় চোখ মেললেই দেখা যায়—লুটপাট বেড়েছে, অনিয়ম চরমে উঠেছে, দুর্নীতি দাণবের মতো মাথা তুলেছে। রাস্তা দখল করা সেই ছাত্ররা আজ দেশের ক্ষতিগ্রস্ত সন্ত্রাসী খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছে।
তাহলে কোথায় গেল দেশপ্রেম? কোথায় সেই ত্যাগের চেতনা?
সত্যি কথা হলো—এত রক্ত, এত বিসর্জন—সবকিছু কি ছিল শুধু দুর্নীতির পালাবদলের জন্য?
পৃথিবী তো ভুলে যায়নি—জনগণ কি আবারও প্রতারিত হলো?
কেউ এসে আমাকে বুঝিয়ে লাভ নেই— আওয়ামী লীগের পতনের পর বাংলাদেশ স্বর্গ হয়ে গেছে—না, হয়নি। আর এভাবে হবে না।
এখনো সময় আছে—যারা সত্যিকারে বাংলাদেশকে ভালোবাসো, তারা জেগে ওঠো। নইলে, এই মাতৃভূমি দুর্বৃত্তদের হাতে বিক্রি হয়ে যাবে—চিরতরে।
যদি আমার কথা মনে ধরে, তবে আসুন, সবাই মিলে একবার হলেও মন থেকে শতভাগ চেষ্টা করি। দেখবেন—সুজলা-সুফলা শস্যশ্যামলা এই বাংলাদেশে প্রকৃতির অফুরন্ত সম্পদ আমাদের জীবনকে কীভাবে সমৃদ্ধ করতে পারে, তা উপলব্ধি করতে পারবেন।
দেশে উল্লেখযোগ্য কোনো খনিজ সম্পদ না থাকলেও আছে পদ্মা, মেঘনা, যমুনার প্রবাহিত জীবনরক্ত। নদীর পানি আমাদের মাটি উর্বর করে তুলেছে, যার ফলশ্রুতিতে ধান, পাট, শাক-সবজি, ফলমূলসহ শতধরনের ফসল জন্মায়। ইলিশ, সুপারি, নারিকেল, ধান, বিভিন্ন রবিশস্য—এসবই আমাদের প্রধান সম্পদ। এগুলোর দিকেই নজর দিন।
আমরা বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশ। এই জনগণকে চোর বানাবেন না, মানুষ বানান। তখনই গোটা বিশ্বের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। বাস্তবভিত্তিক কাজ করুন। পারস্পরিক সহায়তায় এগিয়ে চলুন। দেখবেন, আমরা সকলেই ভালো থাকব।
সর্বোপরি, নতুন প্রজন্মের কাছে বলি: আমি ৪০ বছর দেশের বাইরে থেকেও দেশের অন্নের অপচয় করিনি। সর্বদা চেষ্টা করেছি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, সৃজনশীল মানুষ হিসেবে দেশের জন্য কিছু ভালো করতে। কখনো কোনো রিটার্ন আশা করিনি, এমনকি দেশে ফিরি না।
আমি যখন পারি, তোমরাও পারবে। কারণ, তোমরাই তো দেশের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছ—তোমাদের তো আমার চেয়ে বেশি দরদ থাকা উচিত, তাই না?
আমি দেশের মালিক। আমার অধিকার তোমাদের হাতে তুলে দিয়েছি। বিনিময়ে শুধু একটাই আশা—তোমরা ভালো হয়ে যাও।
এবার, নিজেদের সংশোধন করে দেশটাকে গড়তে হবে—কারণ দেশটা আমাদের সকলের।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
*রহমান মৃধা: গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
<[email protected]>
যদি একটি জাতির খারাপ হতে ৫৪ বছর লাগে, তাহলে এক বছরে কীভাবে ভালো হওয়া সম্ভব? যদি বাংলাদেশের মানুষ সত্যিকার অর্থে দুর্নীতিমুক্ত, সৎ, সুশিক্ষিত, ন্যায়পরায়ণ ও সৃজনশীল হতে চায়, তবে সেটা কি মাত্র এক বছরের মধ্যে সম্ভব?
প্রকৃত সত্য হলো—৫৪ বছরের দুর্নীতির আগুন এক বছরে নিভিয়ে ভালো কিছু করা যায় না।
বর্তমান বাস্তবতা হলো, গত ১২ মাসে একজন নেতাকর্মীও বুকে হাত রেখে বলতে পারবেন না যে, তারা কোনো ভালো কাজ করেছেন।
যেখানে ড. ইউনূসের মতো একজন বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তি তাঁর পুরো সময় (১২ মাস) এক উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত রেখেছেন, সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো নেতাকে দেখি না, যিনি মন থেকে তার প্রচেষ্টাকে সমর্থন কিংবা সহায়তা করেছেন।
তাদের পক্ষ থেকে ভালো কিছু করার কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপও চোখে পড়েনি।
আমি মনে করি, যতদিন ড. ইউনূস ক্ষমতায় আছেন, আমাদের তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা উচিত এবং তার ন্যায়পরায়ণতা, ম্যানেজমেন্ট কৌশল ও গ্রহণযোগ্যতা থেকে শেখা উচিত। একইসঙ্গে, দেশের সমস্ত দুর্নীতিবাজ ও অপকর্মীদের চিহ্নিত করা জরুরি।
শুধু আওয়ামী লীগের পেছনে সময় নষ্ট না করে, বিএনপি, জামায়াতসহ অন্য দলের সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদেরও বিচারের আওতায় আনুন। তখন সফলতা আসবে। তা না হলে, ‘যে লাউ, সে কদু’।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, লুটপাট ও দুঃশাসনের ফলেই ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। আজ আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা মাঠে নেই, তবুও দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আগের চেয়েও বেড়েছে। যদি এই লুটেরা কর্মকাণ্ড বন্ধ না হয়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—স্বৈরাচারের পতনের নামে এই নাটক কেন মঞ্চস্থ হলো?
কে কার সঙ্গে প্রহসন করছে?
আজকের বাস্তবতায় চোখ মেললেই দেখা যায়—লুটপাট বেড়েছে, অনিয়ম চরমে উঠেছে, দুর্নীতি দাণবের মতো মাথা তুলেছে। রাস্তা দখল করা সেই ছাত্ররা আজ দেশের ক্ষতিগ্রস্ত সন্ত্রাসী খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছে।
তাহলে কোথায় গেল দেশপ্রেম? কোথায় সেই ত্যাগের চেতনা?
সত্যি কথা হলো—এত রক্ত, এত বিসর্জন—সবকিছু কি ছিল শুধু দুর্নীতির পালাবদলের জন্য?
পৃথিবী তো ভুলে যায়নি—জনগণ কি আবারও প্রতারিত হলো?
কেউ এসে আমাকে বুঝিয়ে লাভ নেই— আওয়ামী লীগের পতনের পর বাংলাদেশ স্বর্গ হয়ে গেছে—না, হয়নি। আর এভাবে হবে না।
এখনো সময় আছে—যারা সত্যিকারে বাংলাদেশকে ভালোবাসো, তারা জেগে ওঠো। নইলে, এই মাতৃভূমি দুর্বৃত্তদের হাতে বিক্রি হয়ে যাবে—চিরতরে।
যদি আমার কথা মনে ধরে, তবে আসুন, সবাই মিলে একবার হলেও মন থেকে শতভাগ চেষ্টা করি। দেখবেন—সুজলা-সুফলা শস্যশ্যামলা এই বাংলাদেশে প্রকৃতির অফুরন্ত সম্পদ আমাদের জীবনকে কীভাবে সমৃদ্ধ করতে পারে, তা উপলব্ধি করতে পারবেন।
দেশে উল্লেখযোগ্য কোনো খনিজ সম্পদ না থাকলেও আছে পদ্মা, মেঘনা, যমুনার প্রবাহিত জীবনরক্ত। নদীর পানি আমাদের মাটি উর্বর করে তুলেছে, যার ফলশ্রুতিতে ধান, পাট, শাক-সবজি, ফলমূলসহ শতধরনের ফসল জন্মায়। ইলিশ, সুপারি, নারিকেল, ধান, বিভিন্ন রবিশস্য—এসবই আমাদের প্রধান সম্পদ। এগুলোর দিকেই নজর দিন।
আমরা বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশ। এই জনগণকে চোর বানাবেন না, মানুষ বানান। তখনই গোটা বিশ্বের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। বাস্তবভিত্তিক কাজ করুন। পারস্পরিক সহায়তায় এগিয়ে চলুন। দেখবেন, আমরা সকলেই ভালো থাকব।
সর্বোপরি, নতুন প্রজন্মের কাছে বলি: আমি ৪০ বছর দেশের বাইরে থেকেও দেশের অন্নের অপচয় করিনি। সর্বদা চেষ্টা করেছি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, সৃজনশীল মানুষ হিসেবে দেশের জন্য কিছু ভালো করতে। কখনো কোনো রিটার্ন আশা করিনি, এমনকি দেশে ফিরি না।
আমি যখন পারি, তোমরাও পারবে। কারণ, তোমরাই তো দেশের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছ—তোমাদের তো আমার চেয়ে বেশি দরদ থাকা উচিত, তাই না?
আমি দেশের মালিক। আমার অধিকার তোমাদের হাতে তুলে দিয়েছি। বিনিময়ে শুধু একটাই আশা—তোমরা ভালো হয়ে যাও।
এবার, নিজেদের সংশোধন করে দেশটাকে গড়তে হবে—কারণ দেশটা আমাদের সকলের।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
*রহমান মৃধা: গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
<[email protected]>
যদি একটি জাতির খারাপ হতে ৫৪ বছর লাগে, তাহলে এক বছরে কীভাবে ভালো হওয়া সম্ভব? যদি বাংলাদেশের মানুষ সত্যিকার অর্থে দুর্নীতিমুক্ত, সৎ, সুশিক্ষিত, ন্যায়পরায়ণ ও সৃজনশীল হতে চায়, তবে সেটা কি মাত্র এক বছরের মধ্যে সম্ভব?
পৃথিবীতে হাজার সম্পর্কের ভিড়ে কিছু সম্পর্ক থাকে স্বীকৃত। আবার কিছু সম্পর্ক থাকে অস্বীকৃত। আবার দেখুন পৃথিবীর আনন্দময় জিনিসগুলো ফ্রিতে কিংবা মাগনা পাওয়া যায়। যেমন জোছনা, বৃষ্টির নাচন, ফুলের সুবাস, নদীর কুলকুল ধ্বনি, ঝরনার ধ্বনি, ময়ূরের পেখম নৃত্য। অথচ আমরা এশিয়ানরাই জীবনের নিশ্চয়তা নিয়ে বেশি ভাবি।
মধ্যবিত্ত শ্রেণির অধিকাংশ মানুষ সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে দৃঢ়। তারা হয়তো প্রতিদিন সমাজের অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো তারা সেই অনিয়মের অংশ হতে চায় না। এটাই তাদের সম্মানের জায়গা।
আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল ভূখণ্ড লেনদেনের সম্ভাবনা, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল রাশিয়াকে হস্তান্তর। শান্তি ও যুদ্ধ সমাপ্তির প্রচেষ্টা হিসেবে এর উদ্দেশ্য থাকতে পারে, কিন্তু এই ধরনের ভূখণ্ড লেনদেনের পরিণতি গভীরভাবে মূল্যায়ন করা আবশ্যক।
পৃথিবীতে হাজার সম্পর্কের ভিড়ে কিছু সম্পর্ক থাকে স্বীকৃত। আবার কিছু সম্পর্ক থাকে অস্বীকৃত। আবার দেখুন পৃথিবীর আনন্দময় জিনিসগুলো ফ্রিতে কিংবা মাগনা পাওয়া যায়। যেমন জোছনা, বৃষ্টির নাচন, ফুলের সুবাস, নদীর কুলকুল ধ্বনি, ঝরনার ধ্বনি, ময়ূরের পেখম নৃত্য। অথচ আমরা এশিয়ানরাই জীবনের নিশ্চয়তা নিয়ে বেশি ভাবি।
২ দিন আগে