জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, এটি সেই জায়গা যেখানে বাজেট কাটছাঁটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে বিশেষ করে যাদের সহায়তা পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে জরুরি। কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতারে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, রোহিঙ্গা জনগণের দুর্ভোগ এড়াতে প্রয়োজনীয় তহবিল নিশ্চিতে সংস্থাটি সম্ভাব্য সবকিছু করবে। শুক্রবার কক্সবাজারের বালুখালী-১৮ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিদর্শনে কক্সবাজার পৌঁছেছেন।
ব্যস্ত সফরসূচি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বিকেলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছেন তিনি।
বাংলাদেশে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের ১৩ থেকে ১৬ মার্চ নির্ধারিত সফর রোহিঙ্গা সংকটের আশু সমাধান খুঁজে বের করতে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মাসিক খাবারের বরাদ্দ (রেশন) আগামী এপ্রিল মাস থেকে সাড়ে ১২ ডলার থেকে ৬ ডলারে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে জাতিসংঘ।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আসুন, এই সম্মেলনকে একটি বড় সফলতা হিসেবে বাস্তবায়ন করি এবং সমস্যার সমাধান করি। আশা করি, এর মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসবে।’ ভবিষ্যতের একটি পথ থাকা উচিত। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হয়’, যোগ করেন তিনি
মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও আন্তর্জাতিক সমর্থন না পেলে এসব পদক্ষেপের অগ্রগতি হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে পারে।’
মোজাম্বিকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় দেশটিতে বসবাসরত ৫ হাজার বাংলাদেশি আর্থিক ও মানসিক সংকটে ভুগছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ রফিকুল আলম।
মালয়েশিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল ২০ হাজার টাকা। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরের ২৭ রোহিঙ্গা ও ৪ বাংলাদেশি ছিলেন ওই দলে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘১৩ লাখ রোহিঙ্গা এখন আমাদের জন্য বড় সমস্যা। রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়। ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালেও রোহিঙ্গারা এসেছে। তখন সেই সমস্যার সমাধানও হয়েছে।
তৌহিদ হোসেন বলেন, প্রশ্ন আসে, চীন কেন বাংলাদেশের পক্ষে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসছে না? কারণ বঙ্গোপসাগরের জন্য মিয়ানমার তাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে ভারতও মনে করে কালাদান প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ এবং এই প্রকল্পের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে হবে।
কক্সবাজারের টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মোহাম্মদ জোবায়ের (২৮) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন।
সাগরপথে ১৪৬ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর একটি দল ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে। একটি নৌকায় করে বৃহস্পতিবার তারা উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের পান্তাই লাবু শহরে পৌঁছায় বলে জানান একজন স্থানীয় কর্মকর্তা।
কক্সবাজারে টেকনাফের সাগর উপকূল দিয়ে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশে জড়ো করা ২০ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার লোকজনের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি আর ১২ জন রোহিঙ্গা নাগরিক।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র, নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাবে যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ দেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন চেয়েছেন।