
পিকেএসএফ ও অরবিস ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘কমপ্রেহেনসিভ ক্যাটারাক্ট সার্ভিস ফর পিপল লিভিং ইন পোভার্টি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বিগত ছয় মাসে ২৭ হাজার ৮০০ জন দরিদ্র ব্যক্তি ছানি অপারেশনের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছেন।
পিকেএসএফের বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে সৃষ্ট কর্মসংস্থানের গুণগতমান সম্পর্কে অধিকতর ধারণা লাভের জন্য পিকেএসএফ এবং সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বক্তারা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে টেকসইভাবে জমির উর্বরতা ব্যবস্থাপনা, উচ্চফলনশীল ও ঘাত-সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন এবং তা মাঠ পর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি।
স্বাগত বক্তব্যে পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, পিকেএসএফ এবং এর সহযোগী সংস্থাসমূহে কর্মরত নারীসহ সকল কর্মীর জন্য একটি নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অফিসের গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার এবং যথাসম্ভব বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী উপায়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করার লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার বক্তব্যে নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে পিকেএসএফের বিভিন্ন কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এ কার্যক্রমের মাধ্যমে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-৬-এর লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় প্রচেষ্টা আরও বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের বর্ধিত অংশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে চর, হাওর, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও পার্বত্য এলাকাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদের। অনানুষ্ঠানিক খাতে নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে 'হোম-বেজড চাইল্ড কেয়ার সেন্টার' গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৭ শতাংশ কৃষি খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ খাতের প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ২১ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকা এবং কৃষিজমি হ্রাস, মাটির উর্বরতা অবনমন ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এ খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ক্ষুদ্র উদ্যোগ খাতের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তহবিল স্বল্পতা দূর করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ক্রেডিট এনহ্যান্সমেন্ট স্কিম’ (সিইএস) বাস্তবায়ন করছে পিকেএসএফ।
দেশে থ্যালাসেমিয়া রোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সভায় স্বল্প আয়ের মানুষের শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিভিন্ন কার্যক্রমের ভূমিকা বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয় এবং এর প্রেক্ষিতে, দক্ষতা ও উদ্যোগ উন্নয়ন বিষয়ক কার্যক্রমের তহবিল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সেমিনারের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘মিইমাই’ অপরাধ প্রতিরোধ অ্যাপ উপস্থাপন। এ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকেরা নিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করতে, তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য দিতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে চলার পথ নির্বাচন করতে পারেন। এটি সাধারণ হাঁটার মধ্যেই পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতার একটি সংস্কৃতি তৈরি করে।
কর্মশালায় জানানো হয়, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক হস্তশিল্পের যে বিশাল বাজার ছিল সেখানে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব এক শতাংশেরও কম। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২৯ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার মূল্যের হস্তশিল্প রপ্তানি করেছে।
মো. ফজলুল কাদের জানান, আমাদের কৃষকেরা অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেন। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিব্যবহার কমাতে কৃষকদের সামাজিক আচরণ পরিবর্তনে আমাদের কাজ করতে হবে। জৈব কৃষি পদ্ধতিতে (অ্যাগ্রোইকোলজিক্যাল) উৎপাদন কমে না বরং ক্ষেত্রবিশেষে উৎপাদন বাড়ে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ, স্ট্রিট-ফুড ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং মূল্য সংযোজিত পণ্যের (রেডি-টু-কুক/ইট) নিরাপত্তা ও বিপণনে স্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় এ সম্ভাবনাময় সেক্টর বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পিকেএসএফকে বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বাতিঘর হিসেবে অভিহিত করে জাকির আহমেদ খান বলেন, সময়ের প্রয়োজনে সম্প্রতি পিকেএসএফের কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৫-২০৩০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ঝুঁকি হ্রাস, ও সক্ষমতা বৃদ্ধি।
সভায় জানানো হয়, দেশের মোট কর্মসংস্থানের উল্লেখযোগ্য অংশ কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পে হলেও জাতীয় অর্থনীতিতে এর অবদান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছেনি। এ পরিপ্রেক্ষিতে, ব্যাপক সম্ভাবনাময় এ খাতের প্রসারে চলতি অর্থবছরে পিকেএসএফ মোট ৪ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
অ্যাডাপটেশন ফান্ডের অর্থায়নে নিরাপদ পানি প্রকল্পের আওতায় আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রকল্প এলাকায় পানীয় জলের প্রাপ্যতার হার ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এ ছাড়া, প্রকল্পের আওতায় লবণাক্ত পানির মান পরীক্ষা করা হবে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলায় নিজস্ব সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশে যেকোনো দুর্যোগে স্থানীয় জনগোষ্ঠী সবার আগে এগিয়ে আসে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ, স্ট্রিট-ফুড ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং মূল্য সংযোজিত পণ্যের (রেডি-টু-কুক/ইট) নিরাপত্তা ও বিপণনে স্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় এ সম্ভাবনাময় সেক্টর বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
২০ নভেম্বর ২০২৫
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলায় নিজস্ব সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশে যেকোনো দুর্যোগে স্থানীয় জনগোষ্ঠী সবার আগে এগিয়ে আসে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে উল্লেখ করেন তিনি।
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫