মোহাম্মদ সাকিবুর রহমান খান, কানাডা থেকে
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সমস্ত স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন। এর মধ্যে কানাডা ও মেক্সিকো আছে। স্থানীয় সময় সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ওভাল অফিসে স্বাক্ষরিত ২টি প্রেসিডেনশিয়াল ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেন। যেখানে কোনো দেশ বা সংস্থার জন্য কোনো ব্যতিক্রম রাখা হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি বড় বিষয়। এটি আমেরিকাকে আবার ধনী করার সূচনা।’ শুল্ক আরোপের কারণ ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, এই শুল্ক আরোপের মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং জাতীয় অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষা করা। ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কানাডিয়ান স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর নির্ভরশীলতাই প্রমাণ করে যে, ‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য হওয়া উচিত,’ যা তিনি গত তিন মাস আগে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই দাবি করে আসছেন।
ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো বলেন, ‘স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম শুল্ক বিদেশি ডাম্পিং বন্ধ, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমেরিকার অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পকে সুরক্ষিত করবে।’
কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহকারী দেশ। ২০২৪ সালের প্রথম ১১ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকৃত অ্যালুমিনিয়ামের ৭৯ শতাংশই এসেছে কানাডা থেকে। কানাডা ২০২৪ সালে ২৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউএস ডলারের স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম আমেরিকায় রপ্তানি করেছিল। এই রপ্তানি কমে গেলে কানাডার কুইবেক , ব্রিটিশ কলাম্বিয়া , অন্টারিও ও আলবার্টা প্রদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পরবে।
স্টিলের ক্ষেত্রেও কানাডা শীর্ষ সরবরাহকারী। কানাডার স্টিল উৎপাদনকারীদের সংগঠন Canadian Steel Producers Association (CSPA) এবং Canadian Chamber of Commerce ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কানাডার ইউনাইটেড স্টিল–ওয়ার্কার্স (USW) ইউনিয়নের জাতীয় পরিচালক মার্টি ওয়ারেন বলেন, ‘ট্রাম্পের শুল্ক সরাসরি শ্রমিক ও সমাজের ওপর আঘাত। কানাডার উচিত সমান প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।’ USW-এর আন্তর্জাতিক প্রেসিডেন্ট ডেভ ম্যাককল বলেন, ‘কানাডা কোনো সমস্যার কারণ নয়। এই শুল্ক উভয় দেশের শ্রমিকদের ক্ষতি করবে।’
এখন কানাডার জন্য কিছু প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যগুলোর ওপর পাল্টা শুল্ক বসানো আর কানাডার অভ্যন্তরীণ স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন আরও জোরদার করা করে নতুন বাণিজ্য দেশ খোঁজা, বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ায় দেশগুলোতে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের খরচ বেড়ে যাবে। যা অটো, নির্মাণ ও এয়ারোস্পেস শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে, কারণ কোম্পানিগুলো তাদের ব্যয় সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেবে। কানাডা ও অন্য দেশ যদি পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্ব বাণিজ্য আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে, যা বিভিন্ন দেশের শিল্প ও বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদি কানাডা, ইউরোপ বা এশিয়ার দেশগুলো পাল্টা শুল্ক বসায়, তাহলে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে। চীনের মতো দেশগুলো বিকল্প বাজার দখলের সুযোগ নিতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক প্রভাব কমাতে পারে। ট্রাম্পের নতুন শুল্ক কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। এটি শুধু দুটি দেশের অর্থনীতিকে নয়, পুরো বিশ্ববাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, কানাডা এই পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কীভাবে নতুন সমীকরণে প্রবেশ করে সেটা এখন দেখার বিষয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সমস্ত স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন। এর মধ্যে কানাডা ও মেক্সিকো আছে। স্থানীয় সময় সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ওভাল অফিসে স্বাক্ষরিত ২টি প্রেসিডেনশিয়াল ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেন। যেখানে কোনো দেশ বা সংস্থার জন্য কোনো ব্যতিক্রম রাখা হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি বড় বিষয়। এটি আমেরিকাকে আবার ধনী করার সূচনা।’ শুল্ক আরোপের কারণ ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, এই শুল্ক আরোপের মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং জাতীয় অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষা করা। ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কানাডিয়ান স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর নির্ভরশীলতাই প্রমাণ করে যে, ‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য হওয়া উচিত,’ যা তিনি গত তিন মাস আগে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই দাবি করে আসছেন।
ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো বলেন, ‘স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম শুল্ক বিদেশি ডাম্পিং বন্ধ, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমেরিকার অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পকে সুরক্ষিত করবে।’
কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহকারী দেশ। ২০২৪ সালের প্রথম ১১ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকৃত অ্যালুমিনিয়ামের ৭৯ শতাংশই এসেছে কানাডা থেকে। কানাডা ২০২৪ সালে ২৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউএস ডলারের স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম আমেরিকায় রপ্তানি করেছিল। এই রপ্তানি কমে গেলে কানাডার কুইবেক , ব্রিটিশ কলাম্বিয়া , অন্টারিও ও আলবার্টা প্রদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পরবে।
স্টিলের ক্ষেত্রেও কানাডা শীর্ষ সরবরাহকারী। কানাডার স্টিল উৎপাদনকারীদের সংগঠন Canadian Steel Producers Association (CSPA) এবং Canadian Chamber of Commerce ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কানাডার ইউনাইটেড স্টিল–ওয়ার্কার্স (USW) ইউনিয়নের জাতীয় পরিচালক মার্টি ওয়ারেন বলেন, ‘ট্রাম্পের শুল্ক সরাসরি শ্রমিক ও সমাজের ওপর আঘাত। কানাডার উচিত সমান প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।’ USW-এর আন্তর্জাতিক প্রেসিডেন্ট ডেভ ম্যাককল বলেন, ‘কানাডা কোনো সমস্যার কারণ নয়। এই শুল্ক উভয় দেশের শ্রমিকদের ক্ষতি করবে।’
এখন কানাডার জন্য কিছু প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যগুলোর ওপর পাল্টা শুল্ক বসানো আর কানাডার অভ্যন্তরীণ স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন আরও জোরদার করা করে নতুন বাণিজ্য দেশ খোঁজা, বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ায় দেশগুলোতে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের খরচ বেড়ে যাবে। যা অটো, নির্মাণ ও এয়ারোস্পেস শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে, কারণ কোম্পানিগুলো তাদের ব্যয় সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেবে। কানাডা ও অন্য দেশ যদি পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্ব বাণিজ্য আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে, যা বিভিন্ন দেশের শিল্প ও বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদি কানাডা, ইউরোপ বা এশিয়ার দেশগুলো পাল্টা শুল্ক বসায়, তাহলে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে। চীনের মতো দেশগুলো বিকল্প বাজার দখলের সুযোগ নিতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক প্রভাব কমাতে পারে। ট্রাম্পের নতুন শুল্ক কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। এটি শুধু দুটি দেশের অর্থনীতিকে নয়, পুরো বিশ্ববাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, কানাডা এই পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কীভাবে নতুন সমীকরণে প্রবেশ করে সেটা এখন দেখার বিষয়।
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৮৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে। ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় এখনো উদ্ধারকাজ চলছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজার ‘বিশাল এলাকা’ দখলের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। আজ বুধবার (২ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই ঘোষণা দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদন করা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি প্রশাসনের সমালোচকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতেই এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
লিবিয়ার মিসরাতা শহরে অভিযান চালিয়ে ২৩ অপহৃত বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২ ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়।