
সহিদুল আলম স্বপন

শিল্প ও সাহিত্য কোনো রাষ্ট্রের অলংকার নয়; এগুলো তার আত্মার প্রকাশ। একটি সভ্য সমাজ শিল্পকে ব্যবহার করে নিজের ভুল চিহ্নিত করতে, প্রশ্ন তুলতে এবং ভবিষ্যতের পথে আলোকবর্তিকা জ্বালাতে। কিন্তু যখন শিল্প-সাহিত্য চর্চা রাজনৈতিক আনুগত্যের শর্তে আবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন তা আর সভ্যতার পরিচায়ক থাকে না; বরং ক্ষমতার ছায়াতলে বন্দি এক দুর্বল সংস্কৃতিতে পরিণত হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একুশে পদকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সম্মাননাকে ঘিরে গত ১৮ বছরের বিতর্ক সেই বাস্তবতাকেই নগ্নভাবে সামনে এনেছে।
একুশে পদক ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকে উৎসারিত এক অনন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। এটি কেবল কৃতিত্বের পুরস্কার নয়; এটি প্রতিরোধ, প্রতিবাদ ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পদক প্রদান নিয়ে আলোচনা যতটা না শিল্পীর কর্ম ও অবদানের কারণে হয়েছে, তার চেয়ে বেশি হয়েছে রাজনৈতিক পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার প্রশ্নে। বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যারা দীর্ঘদিন নীরবে শিল্পচর্চা করেছেন—প্রান্তিক বা ভিন্নমতালম্বী হয়েও সমাজে গভীর প্রভাব রেখেছেন—তারা উপেক্ষিত থেকেছেন। বিপরীতে, ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট বলয়ের সঙ্গে দৃশ্যমানভাবে যুক্ত ব্যক্তিরা রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ফলে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে।
গত ১৮ বছরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে—শিল্পীর পরিচয় আর কেবল শিল্পী হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; তার আগে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক ট্যাগ। কে কোন ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, কে কোন সভায় উপস্থিত ছিলেন, বা কার প্রশংসায় মুখর ছিলেন—এসবই যেন শিল্পমূল্য নির্ধারণের অঘোষিত মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। এর ফলে শিল্পী সমাজের ভেতরেই সৃষ্টি হয়েছে বিভাজন, সন্দেহ ও অনাস্থা। সংস্কৃতি আর সবার জন্য মুক্ত পরিসর না থেকে পরিণত হয়েছে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের নিরাপদ আশ্রয়ে।
এই অন্ধ রাজনৈতিক পরিচয় শিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি ডেকে এনেছে। শিল্পীর কাজ প্রশ্ন তোলা, ক্ষমতাকে অস্বস্তিতে ফেলা, মানুষের অন্তর্গত সত্যকে তুলে ধরা। কিন্তু যখন শিল্পী নিজেই ক্ষমতার অংশ হয়ে যান, তখন তিনি আর প্রশ্নকারী থাকেন না; হয়ে ওঠেন রক্ষক ও সমর্থক। গত দেড় দশকে আমরা এমন বহু উদাহরণ দেখেছি, যেখানে সামাজিক অন্যায়, মানবাধিকার লঙ্ঘন কিংবা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার সময়ে শিল্পী সমাজের একটি বড় অংশ নীরব থেকেছেন—বা সচেতনভাবে নীরব থাকাটাকে বেছে নিয়েছেন। এই নীরবতা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে; কিন্তু যখন তা সংগঠিত ও রাজনৈতিক আনুগত্যনির্ভর হয়ে ওঠে, তখন সেটি সংস্কৃতির ব্যর্থতা।
রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ব্যবস্থাও এই সংকটকে গভীর করেছে। সম্মাননা প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, নির্বাচনের মানদণ্ড প্রকাশ না করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত গোষ্ঠীর প্রভাব—এসব কারণে রাষ্ট্রের সদিচ্ছাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একাধিকবার দেখা গেছে, বিতর্কের মুখে সম্মাননা ঘোষণা পুনর্বিবেচনা করতে হয়েছে বা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, সমস্যাটি কেবল ব্যক্তিগত নয়; এটি কাঠামোগত।
তবে এই দায় সম্পূর্ণ রাষ্ট্রের ঘাড়ে চাপিয়ে শিল্পী সমাজ নিজেকে দায়মুক্ত রাখতে পারে না। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের একটি অংশ স্বেচ্ছায় ক্ষমতার সান্নিধ্য গ্রহণ করেছে; সুবিধা ও স্বীকৃতির বিনিময়ে নিজেদের স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়েছে। তারা শিল্পীর সামাজিক দায়িত্বের পরিবর্তে রাজনৈতিক সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়েছে। এর ফলে তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের কাছেও একটি ভুল বার্তা গেছে—শিল্পের চেয়ে রাজনৈতিক অবস্থানই নাকি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের সুষ্ঠু রাজনীতি বিকাশে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের ভূমিকা অপরিসীম হতে পারত এবং এখনো পারে। রাজনীতি কেবল দলীয় কৌশল বা ক্ষমতার হিসাব নয়; এটি মূল্যবোধের চর্চা। এই মূল্যবোধ নির্মাণে শিল্প-সাহিত্যই সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। কিন্তু সেই ভূমিকা পালন করতে হলে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের প্রথম শর্ত হলো স্বাধীন থাকা। দলীয় আনুগত্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতা, ন্যায়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সহনশীলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়াই একজন শিল্পীর প্রকৃত রাজনৈতিক ভূমিকা।
একুশে পদকের মতো সম্মাননাগুলো তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা ক্ষমতার স্বীকৃতি নয়, বরং সমাজের সম্মান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এর জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রক্রিয়া—যেখানে মতাদর্শের ভিন্নতা নয়, অবদানই হবে মূল বিবেচ্য। একই সঙ্গে শিল্পী সমাজকেও আত্মসমালোচনার সাহস দেখাতে হবে: আমরা কি সত্যিই আমাদের শিল্পকে মানুষের পক্ষে দাঁড় করাতে পেরেছি, নাকি ক্ষমতার সুবিধাভোগী হয়ে উঠেছি?
সব মিলিয়ে বলা যায়, শিল্প-সাহিত্য চর্চায় অতিরিক্ত রাজনীতিকীকরণ কোনো সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়। এটি সংস্কৃতিকে দুর্বল করে এবং রাজনীতিকে আরও অমানবিক করে তোলে। গত ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা আমাদের সেই কঠিন সত্যই শিখিয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই—আমরা কি সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেব, নাকি সংস্কৃতির এই বন্দিত্বকেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেব?
সিদ্ধান্ত আমাদেরই। আর সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
সহিদুল আলম স্বপন: সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং ও আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট ও কবি
ইমেইল: [email protected]

শিল্প ও সাহিত্য কোনো রাষ্ট্রের অলংকার নয়; এগুলো তার আত্মার প্রকাশ। একটি সভ্য সমাজ শিল্পকে ব্যবহার করে নিজের ভুল চিহ্নিত করতে, প্রশ্ন তুলতে এবং ভবিষ্যতের পথে আলোকবর্তিকা জ্বালাতে। কিন্তু যখন শিল্প-সাহিত্য চর্চা রাজনৈতিক আনুগত্যের শর্তে আবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন তা আর সভ্যতার পরিচায়ক থাকে না; বরং ক্ষমতার ছায়াতলে বন্দি এক দুর্বল সংস্কৃতিতে পরিণত হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একুশে পদকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সম্মাননাকে ঘিরে গত ১৮ বছরের বিতর্ক সেই বাস্তবতাকেই নগ্নভাবে সামনে এনেছে।
একুশে পদক ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকে উৎসারিত এক অনন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। এটি কেবল কৃতিত্বের পুরস্কার নয়; এটি প্রতিরোধ, প্রতিবাদ ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পদক প্রদান নিয়ে আলোচনা যতটা না শিল্পীর কর্ম ও অবদানের কারণে হয়েছে, তার চেয়ে বেশি হয়েছে রাজনৈতিক পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার প্রশ্নে। বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যারা দীর্ঘদিন নীরবে শিল্পচর্চা করেছেন—প্রান্তিক বা ভিন্নমতালম্বী হয়েও সমাজে গভীর প্রভাব রেখেছেন—তারা উপেক্ষিত থেকেছেন। বিপরীতে, ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট বলয়ের সঙ্গে দৃশ্যমানভাবে যুক্ত ব্যক্তিরা রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ফলে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে।
গত ১৮ বছরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে—শিল্পীর পরিচয় আর কেবল শিল্পী হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; তার আগে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক ট্যাগ। কে কোন ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, কে কোন সভায় উপস্থিত ছিলেন, বা কার প্রশংসায় মুখর ছিলেন—এসবই যেন শিল্পমূল্য নির্ধারণের অঘোষিত মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। এর ফলে শিল্পী সমাজের ভেতরেই সৃষ্টি হয়েছে বিভাজন, সন্দেহ ও অনাস্থা। সংস্কৃতি আর সবার জন্য মুক্ত পরিসর না থেকে পরিণত হয়েছে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের নিরাপদ আশ্রয়ে।
এই অন্ধ রাজনৈতিক পরিচয় শিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি ডেকে এনেছে। শিল্পীর কাজ প্রশ্ন তোলা, ক্ষমতাকে অস্বস্তিতে ফেলা, মানুষের অন্তর্গত সত্যকে তুলে ধরা। কিন্তু যখন শিল্পী নিজেই ক্ষমতার অংশ হয়ে যান, তখন তিনি আর প্রশ্নকারী থাকেন না; হয়ে ওঠেন রক্ষক ও সমর্থক। গত দেড় দশকে আমরা এমন বহু উদাহরণ দেখেছি, যেখানে সামাজিক অন্যায়, মানবাধিকার লঙ্ঘন কিংবা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার সময়ে শিল্পী সমাজের একটি বড় অংশ নীরব থেকেছেন—বা সচেতনভাবে নীরব থাকাটাকে বেছে নিয়েছেন। এই নীরবতা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে; কিন্তু যখন তা সংগঠিত ও রাজনৈতিক আনুগত্যনির্ভর হয়ে ওঠে, তখন সেটি সংস্কৃতির ব্যর্থতা।
রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ব্যবস্থাও এই সংকটকে গভীর করেছে। সম্মাননা প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, নির্বাচনের মানদণ্ড প্রকাশ না করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত গোষ্ঠীর প্রভাব—এসব কারণে রাষ্ট্রের সদিচ্ছাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একাধিকবার দেখা গেছে, বিতর্কের মুখে সম্মাননা ঘোষণা পুনর্বিবেচনা করতে হয়েছে বা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, সমস্যাটি কেবল ব্যক্তিগত নয়; এটি কাঠামোগত।
তবে এই দায় সম্পূর্ণ রাষ্ট্রের ঘাড়ে চাপিয়ে শিল্পী সমাজ নিজেকে দায়মুক্ত রাখতে পারে না। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের একটি অংশ স্বেচ্ছায় ক্ষমতার সান্নিধ্য গ্রহণ করেছে; সুবিধা ও স্বীকৃতির বিনিময়ে নিজেদের স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়েছে। তারা শিল্পীর সামাজিক দায়িত্বের পরিবর্তে রাজনৈতিক সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়েছে। এর ফলে তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের কাছেও একটি ভুল বার্তা গেছে—শিল্পের চেয়ে রাজনৈতিক অবস্থানই নাকি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের সুষ্ঠু রাজনীতি বিকাশে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের ভূমিকা অপরিসীম হতে পারত এবং এখনো পারে। রাজনীতি কেবল দলীয় কৌশল বা ক্ষমতার হিসাব নয়; এটি মূল্যবোধের চর্চা। এই মূল্যবোধ নির্মাণে শিল্প-সাহিত্যই সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। কিন্তু সেই ভূমিকা পালন করতে হলে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের প্রথম শর্ত হলো স্বাধীন থাকা। দলীয় আনুগত্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতা, ন্যায়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সহনশীলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়াই একজন শিল্পীর প্রকৃত রাজনৈতিক ভূমিকা।
একুশে পদকের মতো সম্মাননাগুলো তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা ক্ষমতার স্বীকৃতি নয়, বরং সমাজের সম্মান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এর জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রক্রিয়া—যেখানে মতাদর্শের ভিন্নতা নয়, অবদানই হবে মূল বিবেচ্য। একই সঙ্গে শিল্পী সমাজকেও আত্মসমালোচনার সাহস দেখাতে হবে: আমরা কি সত্যিই আমাদের শিল্পকে মানুষের পক্ষে দাঁড় করাতে পেরেছি, নাকি ক্ষমতার সুবিধাভোগী হয়ে উঠেছি?
সব মিলিয়ে বলা যায়, শিল্প-সাহিত্য চর্চায় অতিরিক্ত রাজনীতিকীকরণ কোনো সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়। এটি সংস্কৃতিকে দুর্বল করে এবং রাজনীতিকে আরও অমানবিক করে তোলে। গত ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা আমাদের সেই কঠিন সত্যই শিখিয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই—আমরা কি সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেব, নাকি সংস্কৃতির এই বন্দিত্বকেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেব?
সিদ্ধান্ত আমাদেরই। আর সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
সহিদুল আলম স্বপন: সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং ও আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট ও কবি
ইমেইল: [email protected]
রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ব্যবস্থাও এই সংকটকে গভীর করেছে। সম্মাননা প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, নির্বাচনের মানদণ্ড প্রকাশ না করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত গোষ্ঠীর প্রভাব—এসব কারণে রাষ্ট্রের সদিচ্ছাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
এই নির্বাচন কেবল আসনসংখ্যার হিসাব নয়; এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনারও ইঙ্গিত। তরুণ প্রজন্ম, ডিজিটাল রাজনীতি এবং সুশাসনের প্রশ্ন এখন নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দু। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের জন্যই এটি আত্মসমালোচনা ও নীতিগত পুনর্গঠনের সময়।
আমি রোগীকে বলতে গেলাম। দেখি বউটা কাঁদছে। মেরি ওর নাম। রোগী বলছে, মেরি কেন যে এতটা ঝামেলা করে। ডাক্তার আমাদের চলে যেতে দাও। আমি বললাম, আরেকজন ডাক্তার আছেন যার ওপেনিয়ন নিতে হবে। তিনি তোমাদের চলে যেতে বললে আমি ডিসচার্জ করে দেব, সমস্যা নেই।
তিনি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত নিরলস প্রচারণা চালিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনো রাজনৈতিক নেতার সহধর্মিণীর এমন সক্রিয় ও দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার নজির খুব কমই দেখা যায়। তিনি শুধু মঞ্চে ভাষণ দেননি; তিনি মানুষের পাশে বসেছেন, তাদের কথা শুনেছেন।