logo
খবর

মুহাম্মদ ইউনূসের অবদান নিয়ে বিতর্ক প্রকট হচ্ছে: আল জাজিরা

বিডিজেন ডেস্ক
বিডিজেন ডেস্ক০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Copied!
মুহাম্মদ ইউনূসের অবদান নিয়ে বিতর্ক প্রকট হচ্ছে: আল জাজিরা
মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন। ফাইল ছবি: পিআইডি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অবদান বা ‘লেগাসি’ নিয়ে বিতর্ক তত প্রকট হচ্ছে বলে এক বিশ্লেষণে মন্তব্য করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ঢাকা থেকে লেখা ওই বিশ্লেষণে আল জারিরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূসের দায়িত্ব নেওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলছে, ইউনূস কি একজন দক্ষ পরিচালক ছিলেন যিনি একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করেছেন, নাকি তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রত্যাশিত কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়েছেন?

আল জাজিরা লিখেছে, আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের কাছে মুহাম্মদ ইউনূসের বিশ্বজোড়া খ্যাতি এবং দেশে তার সুনাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “সেই মুহূর্তে আমাদের এমন কাউকে দরকার ছিল যিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। বিকল্প নিয়ে যখন আলোচনা করছিলাম, তখন ইউনূস ছাড়া আর কাউকে খুঁজে পাইনি।”

সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সামরিক বাহিনীর মধ্যে মুহাম্মদ ইউনূসের নিয়োগ নিয়ে ‘কিছুটা দ্বিধা ছিল’।

আল জাজিরা লিখেছে, যারা মুহাম্মদ ইউনূসকে সমর্থন করেছিলেন, এখন তাদের মধ্যেও কিছুটা হতাশা এবং সুযোগ হারানোর গ্লানি কাজ করছে। আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার চেয়েছিলাম। সেটি সম্ভব হয়নি। তবুও আমরা রাষ্ট্রের একটি কঠোর সংস্কার আশা করেছিলাম।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, ইউনূসের সদিচ্ছা স্পষ্ট ছিল কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল রূঢ়। নাহিদ বলেন, “তিনি ঐক্য তৈরির চেষ্টা করেছেন, কিন্তু রাজনৈতিক আলোচনায় তার সরকার দুর্বল ছিল।”

আসিফ মাহমুদও এই বিষয়ে একমত। তিনি বলেন, “ইউনূস আন্তর্জাতিকভাবে সফল হলেও দেশের ভেতরে লড়াই করতে হয়েছে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রমের মধ্যে ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে আল জাজিরা উল্লেখ করেছে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঘটে যাওয়া গুম এবং গোপন আটকাবস্থার বিষয়টি মোকাবিলা করা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ‘স্থিতিশীলতা আনার ভূমিকায়’ ড. ইউনূসের প্রশংসা করলেও প্রশ্ন তোলেন, একটি অনির্বাচিত সরকারের কতদূর যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, “অল্প সময়ের মধ্যে সবকিছু করার একটি প্রবণতা ছিল। কিছু বিষয় পরবর্তী নির্বাচিত সংসদের জন্য রাখা যেত।”

আল জাজিরা লিখেছে, নিশ্চিতভাবেই, মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সবচেয়ে ‘উচ্চাভিলাষী ও বিতর্কিত’ সংস্কার উদ্যোগগুলোর একটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। নির্বাচিত সংসদ না থাকায়, তার প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভর করে শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা চিহ্নিত করা, ক্ষমতার অপব্যবহার নথিবদ্ধ করা এবং সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের আগে কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাব তৈরির কাজ করে।

সমর্থকদের চোখে এটি ছিল সত্য উন্মোচন। সমালোচকদের মতে, একটি অনির্বাচিত সরকার খুব দ্রুত খুব বেশি কিছু করতে চেয়েছে।

আরও দেখুন

মিসরে বাংলাদেশিদের ট্রানজিট নিতে আগাম ভিসা বাধ্যতামূলক

মিসরে বাংলাদেশিদের ট্রানজিট নিতে আগাম ভিসা বাধ্যতামূলক

দূতাবাস জানিয়েছে, ভ্রমণকারীদের অবশ্যই বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং চূড়ান্ত গন্তব্য দেশের জন্য বৈধ ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট থাকতে হবে। মিসরকে অবশ্যই অন্য গন্তব্যে ভ্রমণকারীর রুটে একটি ট্রানজিট পয়েন্ট হতে হবে।

২ ঘণ্টা আগে

অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রায় ভূমধ্যসাগরে মৃত্যু: ১২ শতাংশই বাংলাদেশি

অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রায় ভূমধ্যসাগরে মৃত্যু: ১২ শতাংশই বাংলাদেশি

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের তালিকায় শীর্ষে আছে বাংলাদেশের নাগরিকেরা। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০ হাজার ২৫৯ জন বাংলাদেশি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি প্রবেশ করেছেন।

৪ ঘণ্টা আগে

জ্বালানি তেল ব্যবহারে ৫০ শতাংশ সাশ্রয়ের সিদ্ধান্ত পিকেএসএফের

জ্বালানি তেল ব্যবহারে ৫০ শতাংশ সাশ্রয়ের সিদ্ধান্ত পিকেএসএফের

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অফিসের গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার এবং যথাসম্ভব বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী উপায়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করার লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

১ দিন আগে

গ্রিস উপকূলে নৌকাডুবি: সুনামগঞ্জের ১০ জনের মৃত্যুর খবর

গ্রিস উপকূলে নৌকাডুবি: সুনামগঞ্জের ১০ জনের মৃত্যুর খবর

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে দিরাই উপজেলা কর্মকর্তা সনজিব সরকার আজ রোববার সকালে জানান, নিহতদের মধ্যে চারজন দিরাই উপজেলার। এরা হলেন- তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫) এবং রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৩৮)।

২ দিন আগে