বিডিজেন ডেস্ক
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জেলা-উপজেলায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে তারই প্রতিফলন দেখা গেছে। ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুততম সময়ে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে সমাবেশ থেকে। গতকাল রোববার (৯ মার্চ) এসব প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
দেশব্যাপী ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে সারা দিন উত্তাল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। রোববার বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অন্তত ১২টি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এর মধ্যে লাঠিমিছিল ও মশালমিছিল রয়েছে।
ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের নানা ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে পোশাকের জন্য হেনস্তার শিকার হওয়ার পর নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন বিভাগ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে মাগুরায় ধর্ষণের শিকার এক শিশুর সংকটাপন্ন অবস্থার খবর সামনে আসে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের খবর আসতে থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে রোববার বেলা ১১টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য, অপরাজেয় বাংলা, বটতলা, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও কার্জন হল এলাকায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট উই ওয়ান্ট/ জাস্টিস জাস্টিস’; ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস/ হ্যাং দ্য রেপিস্ট’; ‘আমার সোনার বাংলায়/ ধর্ষকদের ঠাঁই নাই’; ‘আমার বোনের কান্না/ আর না আর না’; ‘রশি লাগলে রশি নে/ ধর্ষকদের ফাঁসি দে’; ‘ধর্ষকদের কালো হাত/ ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’; ‘২৪ এর বাংলায়/ ধর্ষকদের ঠাঁই নাই’; ‘জাহাঙ্গীর করে কী/ খায় দায় ঘুমায় নাকি?’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা, ইংরেজি, লোক প্রশাসন, ভাষা বিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, রসায়ন, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, ভূতত্ত্বসহ আরও কয়েকটি বিভাগের শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিবাদ–বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক, ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।
পরে দুপুরে ধর্ষণবিরোধী লাঠিমিছিল ও রাতে ধর্ষণবিরোধী মঞ্চের পক্ষ থেকে একটি মশালমিছিল বের করা হয়। এ সময় ধর্ষণবিরোধী মঞ্চ থেকে পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়।
এ ছাড়া, ধর্ষণের প্রতিবাদ ও ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪টি বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা রোববার থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই বিভাগগুলো হলো লোক প্রশাসন, রসায়ন, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান, পদার্থ, পরিসংখ্যান, ভূতত্ত্ব, ইংরেজি, ভাষা বিজ্ঞান, বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, তথ্য গ্রন্থাগার ও ব্যবস্থাপনা, পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মার্কেটিং, মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, মুদ্রণ ও প্রকাশনা, সংগীত, ম্যানেজমেন্ট, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, স্বাস্থ্য অর্থনীতি, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য, পদার্থ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, উদ্ভিদবিজ্ঞান, দর্শন, ভাষাবিজ্ঞান, প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন, ইএসওএল, গণিত, পরিসংখ্যান বিভাগ।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
বোববার সকালে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার রাত আড়াইটার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। তারা প্রায় ৩০ মিনিট সড়কটি অবরোধ করে রাখেন। জাবি শিক্ষার্থীরা ধর্ষকদের গ্রেপ্তারে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।
রোববার সকালে জাবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে 'বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কে'র ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষকদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
অন্যদিকে মাগুরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের ঘটনার প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। দুপুর দেড়টার দিকে তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেন।
দুপুর সাড়ে ৩টায় 'ধর্ষণবিরোধী মঞ্চে'র ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী প্রতিবাদ মিছিল করেন। বিকেল ৪টায় গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের শিক্ষার্থীরা জাবি ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল করেন। সেই সময় তাদের মুখে লাল কাপড় বাঁধা ছিল।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বুদ্ধিজীবী চত্বরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। 'বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কে'র ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষকদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
দেশজুড়ে ধর্ষণ ও নারীদের প্রতি সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে এবং ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রোববার দুপুর ২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ কর্মসূচি শুরু করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষকের বিচারের দাবি জানান। অন্যথায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন তারা। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণিত বিভাগের হাফিজুল ইসলাম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পলাশ বখতিয়ার, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সুলতানা আক্তাত লুবনা, পরিসংখ্যান বিভাগের নওরীন জামানসহ অন্যরা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা শনিবার ভোররাত ৩টার দিকে বিক্ষোভে অংশ নেন। মিছিল থেকে তারা মাগুরায় শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশে ধর্ষণের ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধা কেউই রেহাই পাচ্ছে না। কিন্তু এসব ঘটনায় বিচারের উদ্যোগ নেই।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, অপরাধীরা জানে যে তারা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে পারবে। তাই তাদের ভয় নেই। আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে কোনো ধর্ষক মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াতে পারবে না। প্রতিটি ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টায় ক্যাম্পাসের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মহাসড়কে সমাবেশে মিলিত হয়। আধঘণ্টাব্যাপী সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ধর্ষণবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্র সচিবের পদত্যাগও দাবি করেন তারা।
সিলেট
ধর্ষণ ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রতিবাদে সিলেটে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। রোববার বিকেল ৩টা থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। সেই সময় তারা 'দফা এক দাবি এক, জাহাঙ্গীরের পদত্যাগ', 'বাহ ইন্টেরিম চমৎকার, ধর্ষকদের পাহারাদার', 'তনু থেকে মুনিয়া, মুনিয়া থেকে আছিয়া, উই ওয়ান্ট জাস্টিস'সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
নারায়ণগঞ্জ
রোববার সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের শহীদ মিনার থেকে শত শত শিক্ষার্থী ধর্ষণ ও সহিংসতাবিরোধী বার্তা লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে যোগ দেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও।
এ সময় তারা ধর্ষকদের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের দায়মুক্তির সংস্কৃতি ভেঙে নতুন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
নরসিংদী
দেশব্যাপী নারী নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে নরসিংদীতে মানববন্ধন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নরসিংদী জেলা শাখা। রোববার দুপুরে নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সাম্প্রতিক সময়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নারীদের প্রতি সহিংসতা বাড়ছে। কিন্তু বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও সাহস পাচ্ছে। দ্রুত এসব অপরাধের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বক্তারা নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। তারা বলেন, শুধু আইনের কঠোর প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, বরং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। বক্তারা নারী নির্যাতন রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ সময় বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোনের সমন্বয়ক সোহান হায়দার, মাসুদ হাকিম, জান্নাতুল ফেরদৌস মালিহা, ইসরাত জাহান মিতু, ফয়েজ আহমেদ, মেহেদী হাসান প্রমুখ।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জেলা-উপজেলায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে তারই প্রতিফলন দেখা গেছে। ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুততম সময়ে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে সমাবেশ থেকে। গতকাল রোববার (৯ মার্চ) এসব প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
দেশব্যাপী ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে সারা দিন উত্তাল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। রোববার বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অন্তত ১২টি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এর মধ্যে লাঠিমিছিল ও মশালমিছিল রয়েছে।
ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের নানা ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে পোশাকের জন্য হেনস্তার শিকার হওয়ার পর নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন বিভাগ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে মাগুরায় ধর্ষণের শিকার এক শিশুর সংকটাপন্ন অবস্থার খবর সামনে আসে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের খবর আসতে থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে রোববার বেলা ১১টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য, অপরাজেয় বাংলা, বটতলা, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও কার্জন হল এলাকায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট উই ওয়ান্ট/ জাস্টিস জাস্টিস’; ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস/ হ্যাং দ্য রেপিস্ট’; ‘আমার সোনার বাংলায়/ ধর্ষকদের ঠাঁই নাই’; ‘আমার বোনের কান্না/ আর না আর না’; ‘রশি লাগলে রশি নে/ ধর্ষকদের ফাঁসি দে’; ‘ধর্ষকদের কালো হাত/ ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’; ‘২৪ এর বাংলায়/ ধর্ষকদের ঠাঁই নাই’; ‘জাহাঙ্গীর করে কী/ খায় দায় ঘুমায় নাকি?’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা, ইংরেজি, লোক প্রশাসন, ভাষা বিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, রসায়ন, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, ভূতত্ত্বসহ আরও কয়েকটি বিভাগের শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিবাদ–বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক, ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।
পরে দুপুরে ধর্ষণবিরোধী লাঠিমিছিল ও রাতে ধর্ষণবিরোধী মঞ্চের পক্ষ থেকে একটি মশালমিছিল বের করা হয়। এ সময় ধর্ষণবিরোধী মঞ্চ থেকে পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়।
এ ছাড়া, ধর্ষণের প্রতিবাদ ও ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪টি বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা রোববার থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই বিভাগগুলো হলো লোক প্রশাসন, রসায়ন, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান, পদার্থ, পরিসংখ্যান, ভূতত্ত্ব, ইংরেজি, ভাষা বিজ্ঞান, বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, তথ্য গ্রন্থাগার ও ব্যবস্থাপনা, পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মার্কেটিং, মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, মুদ্রণ ও প্রকাশনা, সংগীত, ম্যানেজমেন্ট, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, স্বাস্থ্য অর্থনীতি, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য, পদার্থ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, উদ্ভিদবিজ্ঞান, দর্শন, ভাষাবিজ্ঞান, প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন, ইএসওএল, গণিত, পরিসংখ্যান বিভাগ।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
বোববার সকালে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার রাত আড়াইটার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। তারা প্রায় ৩০ মিনিট সড়কটি অবরোধ করে রাখেন। জাবি শিক্ষার্থীরা ধর্ষকদের গ্রেপ্তারে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।
রোববার সকালে জাবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে 'বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কে'র ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষকদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
অন্যদিকে মাগুরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের ঘটনার প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। দুপুর দেড়টার দিকে তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেন।
দুপুর সাড়ে ৩টায় 'ধর্ষণবিরোধী মঞ্চে'র ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী প্রতিবাদ মিছিল করেন। বিকেল ৪টায় গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের শিক্ষার্থীরা জাবি ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল করেন। সেই সময় তাদের মুখে লাল কাপড় বাঁধা ছিল।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বুদ্ধিজীবী চত্বরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। 'বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কে'র ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষকদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
দেশজুড়ে ধর্ষণ ও নারীদের প্রতি সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে এবং ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রোববার দুপুর ২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ কর্মসূচি শুরু করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষকের বিচারের দাবি জানান। অন্যথায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন তারা। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণিত বিভাগের হাফিজুল ইসলাম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পলাশ বখতিয়ার, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সুলতানা আক্তাত লুবনা, পরিসংখ্যান বিভাগের নওরীন জামানসহ অন্যরা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা শনিবার ভোররাত ৩টার দিকে বিক্ষোভে অংশ নেন। মিছিল থেকে তারা মাগুরায় শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশে ধর্ষণের ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধা কেউই রেহাই পাচ্ছে না। কিন্তু এসব ঘটনায় বিচারের উদ্যোগ নেই।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, অপরাধীরা জানে যে তারা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে পারবে। তাই তাদের ভয় নেই। আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে কোনো ধর্ষক মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াতে পারবে না। প্রতিটি ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টায় ক্যাম্পাসের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মহাসড়কে সমাবেশে মিলিত হয়। আধঘণ্টাব্যাপী সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ধর্ষণবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্র সচিবের পদত্যাগও দাবি করেন তারা।
সিলেট
ধর্ষণ ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রতিবাদে সিলেটে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। রোববার বিকেল ৩টা থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। সেই সময় তারা 'দফা এক দাবি এক, জাহাঙ্গীরের পদত্যাগ', 'বাহ ইন্টেরিম চমৎকার, ধর্ষকদের পাহারাদার', 'তনু থেকে মুনিয়া, মুনিয়া থেকে আছিয়া, উই ওয়ান্ট জাস্টিস'সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
নারায়ণগঞ্জ
রোববার সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের শহীদ মিনার থেকে শত শত শিক্ষার্থী ধর্ষণ ও সহিংসতাবিরোধী বার্তা লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে যোগ দেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও।
এ সময় তারা ধর্ষকদের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের দায়মুক্তির সংস্কৃতি ভেঙে নতুন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
নরসিংদী
দেশব্যাপী নারী নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে নরসিংদীতে মানববন্ধন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নরসিংদী জেলা শাখা। রোববার দুপুরে নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সাম্প্রতিক সময়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নারীদের প্রতি সহিংসতা বাড়ছে। কিন্তু বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও সাহস পাচ্ছে। দ্রুত এসব অপরাধের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বক্তারা নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। তারা বলেন, শুধু আইনের কঠোর প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, বরং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। বক্তারা নারী নির্যাতন রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ সময় বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোনের সমন্বয়ক সোহান হায়দার, মাসুদ হাকিম, জান্নাতুল ফেরদৌস মালিহা, ইসরাত জাহান মিতু, ফয়েজ আহমেদ, মেহেদী হাসান প্রমুখ।
চিত্রনায়িকা পরীমণির এক বছরের মেয়েসন্তানকে খাবার খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পিংকি আক্তার গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ঢাকার ভাটারা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, ‘আমরা জানতাম কিছু একটা আসছে। কিন্তু সেটা এতটা তীব্র হবে, তা আমরা কখনো ধারণা করিনি।...এটা আমাদের ব্যবসা এবং হাজার হাজার শ্রমিকের জন্য ভয়াবহ।’
সিলেটের বিশ্বনাথে দুই প্রবাসী পরিবারের ঈদ–আনন্দ রূপ নিয়েছে বিষাদে। উভয় পরিবারই মধ্যপ্রাচ্যে থাকা নিজেদের স্বজন হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন সড়ক দুর্ঘটনায় ও অন্যজন ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন।