
বিডিজেন ডেস্ক

বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে রাজনীতিক সদিচ্ছার অভাবই বড় অন্তরায়। নির্বাচন কমিশন আইনের দিক দিয়ে বিরাট ক্ষমতার অধিকারী হলেও সরকারের বাইরে কোনো দলের সমর্থন পায় না। নির্বাচন কমিশনের প্রতি এই অনাস্থা নিয়ে কোনো নির্বাচন হয় না। সরকার নির্বাচন কমিশন ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করিয়ে দেয়। এই অবস্থা চলে আসছে। এটা সম্পূর্ণ অনুচিত।
এ মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক চিন্তক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
‘বাংলাদেশে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না কেন?’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি তাদের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করে।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। তিনি এই দলের তাত্ত্বিক ও প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের সুষ্ঠু বিকাশে রাজনীতিকদেরই উদ্যোগী হয়ে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে নাগরিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেন।’
আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, আধুনিক সভ্য সমাজ বিকাশে রাজনৈতিক দলের কোনো বিকল্প নেই। প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব রাজনৈতিক চিন্তা ও মতামত থাকা প্রয়োজন। তারা যেন তা অকপটে বাধাহীনভাবে প্রকাশ করতে পারেন, সমাজে সেই ব্যবস্থাও থাকা উচিত। এটিই একটি ভালো সমাজ ও ভালো গণতন্ত্রের লক্ষণ। এটা রাজনীতিকদেরই নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনকেন্দ্রিক হলে তাতে ভালো ফল পাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের স্বাধীনতার পর থেকেই নির্বাচনের মান পড়তে শুরু করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সরকার ও দলকে সুসংহত করতে পারেননি। নানা রকমের বিশৃঙ্খলা, অন্যায়, দুর্নীতি প্রবল হয়ে উঠছিল। নীতি ও নৈতিকতার মানের অবনতি ঘটেছিল। এর ধারাবাহিকতায় কোনো ছেদ পড়েনি। দেশের রাজনীতিক, আমলা, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী সবারই নৈতিকতার মানের অবনতি ঘটেছে। ফলে সর্বব্যাপী দুর্নীতি, ভোগলিপ্সা, যেকোনোভাবে সম্পদ আহরণসহ এক দুর্বৃত্তপরায়ণতার জাল বিস্তৃত হয়েছে।’
আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, এই দুর্নীতি ও ক্ষমতালিপ্সুতার জন্য সরকারগুলো ক্রমেই অধিকতর স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠেছে। জনগণের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরের কাঠামোতেও ছিল এই ক্ষমতাকেন্দ্রিকতার প্রবণতা। ফলে একক ব্যক্তির হাতে বিপুল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় অনিবার্যভাবে তাকে স্বৈরতন্ত্রের পথে পরিচালিত করেছে।
তিনি বলেন, ‘এরই চরম প্রকাশ আমরা লক্ষ্য করেছি ২০১৪, ২০১৮ ও সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে। দেশবাসী দেখেছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল কেমন করে চরম স্বৈরতন্ত্রে পর্যবসিত হলো এবং সেটি উৎপাটন করতে বিপুল প্রাণের বিনিময়ে এক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঘটল।’
আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশের মানুষের মধ্যে অসীম সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদেরও সেই সম্ভাবনার কমতি নেই। এখন বিজ্ঞানের অনেক উন্নতি হয়েছে। শস্য উৎপাদন বেড়েছে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য অনেক কমেছে। তথ্যপ্রযুক্তির অভাবিত উন্নতি অনেক কিছুকে সহজ করে দিয়েছে। এখন একটি জনকল্যাণমুখী ভালো রাজনীতি, ভালো নির্বাচন, ভালো গণতন্ত্র সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাহলেই আমরা একটি সুন্দর, অর্থপূর্ণ মানবজীবন অতিবাহিত করতে পারব। এ জন্য শুধু সংবিধান সংস্কার করলে হবে না। সেখানে সংস্কারের অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে, তবে নিজেদের নৈতিকতার মানের সংস্কার করা খুব জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘নৈতিক চেতনার যে অবনতি ঘটেছে, সেখান থেকে যদি আমাদের উত্তরণ না ঘটে, তবে এই অভ্যুত্থানের সুফল আমরা প্রকৃত অর্থে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব না।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গণমুক্তি পার্টির সাধারণ সম্পাদক এম এ আলীম সরকার। তিনি বলেন, নির্বাচনের গুরুত্ব উপলব্ধি করার মতো পরিপক্বতা সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে এখনো সৃষ্টি হয়নি। এ কারণে সব সময় ভালো মানুষ নির্বাচিত হতে পারেন না। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ছয় দফা সুপারিশ উপস্থাপন করেন।
অমূল্য কুমার বৈদ্যর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লিবারেল পার্টির নেতা কে সি মজুমদার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল হোসেন, অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন ও প্রভাষক বিজন হালদার প্রমুখ।

বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে রাজনীতিক সদিচ্ছার অভাবই বড় অন্তরায়। নির্বাচন কমিশন আইনের দিক দিয়ে বিরাট ক্ষমতার অধিকারী হলেও সরকারের বাইরে কোনো দলের সমর্থন পায় না। নির্বাচন কমিশনের প্রতি এই অনাস্থা নিয়ে কোনো নির্বাচন হয় না। সরকার নির্বাচন কমিশন ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করিয়ে দেয়। এই অবস্থা চলে আসছে। এটা সম্পূর্ণ অনুচিত।
এ মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক চিন্তক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
‘বাংলাদেশে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না কেন?’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি তাদের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করে।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। তিনি এই দলের তাত্ত্বিক ও প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের সুষ্ঠু বিকাশে রাজনীতিকদেরই উদ্যোগী হয়ে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে নাগরিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেন।’
আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, আধুনিক সভ্য সমাজ বিকাশে রাজনৈতিক দলের কোনো বিকল্প নেই। প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব রাজনৈতিক চিন্তা ও মতামত থাকা প্রয়োজন। তারা যেন তা অকপটে বাধাহীনভাবে প্রকাশ করতে পারেন, সমাজে সেই ব্যবস্থাও থাকা উচিত। এটিই একটি ভালো সমাজ ও ভালো গণতন্ত্রের লক্ষণ। এটা রাজনীতিকদেরই নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনকেন্দ্রিক হলে তাতে ভালো ফল পাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের স্বাধীনতার পর থেকেই নির্বাচনের মান পড়তে শুরু করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সরকার ও দলকে সুসংহত করতে পারেননি। নানা রকমের বিশৃঙ্খলা, অন্যায়, দুর্নীতি প্রবল হয়ে উঠছিল। নীতি ও নৈতিকতার মানের অবনতি ঘটেছিল। এর ধারাবাহিকতায় কোনো ছেদ পড়েনি। দেশের রাজনীতিক, আমলা, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী সবারই নৈতিকতার মানের অবনতি ঘটেছে। ফলে সর্বব্যাপী দুর্নীতি, ভোগলিপ্সা, যেকোনোভাবে সম্পদ আহরণসহ এক দুর্বৃত্তপরায়ণতার জাল বিস্তৃত হয়েছে।’
আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, এই দুর্নীতি ও ক্ষমতালিপ্সুতার জন্য সরকারগুলো ক্রমেই অধিকতর স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠেছে। জনগণের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরের কাঠামোতেও ছিল এই ক্ষমতাকেন্দ্রিকতার প্রবণতা। ফলে একক ব্যক্তির হাতে বিপুল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় অনিবার্যভাবে তাকে স্বৈরতন্ত্রের পথে পরিচালিত করেছে।
তিনি বলেন, ‘এরই চরম প্রকাশ আমরা লক্ষ্য করেছি ২০১৪, ২০১৮ ও সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে। দেশবাসী দেখেছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল কেমন করে চরম স্বৈরতন্ত্রে পর্যবসিত হলো এবং সেটি উৎপাটন করতে বিপুল প্রাণের বিনিময়ে এক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঘটল।’
আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশের মানুষের মধ্যে অসীম সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদেরও সেই সম্ভাবনার কমতি নেই। এখন বিজ্ঞানের অনেক উন্নতি হয়েছে। শস্য উৎপাদন বেড়েছে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য অনেক কমেছে। তথ্যপ্রযুক্তির অভাবিত উন্নতি অনেক কিছুকে সহজ করে দিয়েছে। এখন একটি জনকল্যাণমুখী ভালো রাজনীতি, ভালো নির্বাচন, ভালো গণতন্ত্র সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাহলেই আমরা একটি সুন্দর, অর্থপূর্ণ মানবজীবন অতিবাহিত করতে পারব। এ জন্য শুধু সংবিধান সংস্কার করলে হবে না। সেখানে সংস্কারের অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে, তবে নিজেদের নৈতিকতার মানের সংস্কার করা খুব জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘নৈতিক চেতনার যে অবনতি ঘটেছে, সেখান থেকে যদি আমাদের উত্তরণ না ঘটে, তবে এই অভ্যুত্থানের সুফল আমরা প্রকৃত অর্থে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব না।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গণমুক্তি পার্টির সাধারণ সম্পাদক এম এ আলীম সরকার। তিনি বলেন, নির্বাচনের গুরুত্ব উপলব্ধি করার মতো পরিপক্বতা সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে এখনো সৃষ্টি হয়নি। এ কারণে সব সময় ভালো মানুষ নির্বাচিত হতে পারেন না। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ছয় দফা সুপারিশ উপস্থাপন করেন।
অমূল্য কুমার বৈদ্যর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লিবারেল পার্টির নেতা কে সি মজুমদার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল হোসেন, অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন ও প্রভাষক বিজন হালদার প্রমুখ।
বৈঠকে লিবিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নমূলক ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলোতে আরও বেশিসংখ্যক দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তির অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি ও বিদ্যমান শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন ধাপে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ১৯১ জনের কাছে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে। আরও ২২ জনের কাছে নোটিশ জারির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নুরুল হক নুর বলেন, “এক সময় বিদেশে নির্যাতনের শিকার হলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রতিকার চাইতে পারতেন না। তবে বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তির ফলে নির্যাতনের শিকার কর্মীদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি ও আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।”