

প্রতিবেদক, বিডিজেন

ভিসা জটিলতা, শ্রমবাজারের স্থবিরতা ও নানা সংকটে কেটেছে অভিবাসী প্রার্থীদের পুরো বছর (২০২৫)। অন্যদিকে ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা পেয়েও বিদেশ যেতে না পারার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। এ ছাড়া, কূটনৈতিক ব্যর্থতায় মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার স্থবির হয়ে আছে বলেও অভিযোগ জানিয়েছেন রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির মালিকেরা। তবে অনেক হতাশার মধ্যেও ইউরোপের ৬টি দেশের সঙ্গে বৈধ অভিবাস চুক্তি করেছে সরকার। গত অর্থবছরে ১০ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন এবং রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৩৩ কোটি আমেরিকান ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। আগের বছর ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল।
প্রবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘প্রবাসী লাউঞ্জ’ স্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৬ হাজারের বেশি কর্মী বিদেশে প্রেরণ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। আগের বছর সাড়ে ১৫ হাজারের বেশি কর্মী পাঠিয়েছিল সরকারি এই প্রতিষ্ঠান।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এক বছরের বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার বন্ধ। জাপানে বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর চুক্তির বাস্তবায়ন নেই; ইতালির ভিসা থাকা সত্ত্বেও যেতে পারছেন না বাংলাদেশিরা; যুক্তরাজ্যে শিক্ষা ভিসা ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ভিসা নিষেধাজ্ঞায় চরম হতাশায় ভুগছেন অভিবাসী প্রার্থীরা।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ, যেতে পারেনি প্রায় ১৮ হাজার শ্রমিক
২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পর আন্দোলন-বিক্ষোভ করেও বিষয়টির কোনো সুরাহা করতে পারেননি বাংলাদেশি কর্মীরা। তবে চলতি বছরের ২১ ও ২২ মে ঢাকায় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া নিরাপদ অভিবাসন ও কর্মসংস্থান সম্পর্কিত তৃতীয় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা হয়। যেখানে মালয়েশিয়া সরকারের ১৪ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। কিন্তু সেখান থেকে নতুন কোনো ঘোষণা আসেনি।
অন্যদিকে মে মাসের আগের চুক্তির প্রায় ১৮ হাজার শ্রমিক নানা সংকটে মালয়েশিয়া যেতে পারেননি। এসব কর্মীদের বোয়েসেলের মাধ্যমে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা জানিয়েছিল মন্ত্রণালয়। তবে বাস্তবে ২০০ জনের কম কর্মীকে পাঠাতে পেরেছে সরকারি এই প্রতিষ্ঠান।
মালয়েশিয়ায় যেতে না পারার কর্মীর একজন সাব্বির। তিনি বলেন, আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলাম। ভিসাসহ সব কার্যক্রম শেষ হয়েছিল। কিন্তু শেষ সময়ে এসে যেতে পারিনি। এখন অন্য কাজ করে ঋণ শোধ করতে হচ্ছে।
জাপানে কর্মী নিয়োগে অগ্রগতি নেই
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ২০৪০ সাল পর্যন্ত জাপানের ১ কোটি ১০ লাখ দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি পূরণে সম্ভব সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে বাংলাদেশ। জাপানে অধিকসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ থেকে জাপানে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া কিছুটা এগিয়েছে। সরকার আগামী ৫ বছরে ১ লাখ দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ পর্যন্ত মাত্র ১০ হাজার কর্মী জাপানে যেতে পেরেছেন। ফলে কাগজে চুক্তির বাস্তবায়ন খুব বেশি হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ছাড়া অন্য দেশের শ্রমবাজার স্থবির
চলতি বছর সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ২০ হাজারের বেশি কর্মী গেছেন। যা অন্য বছরের তুলনায় বেশি। তবে সৌদি আরব ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার ও ওমানসহ অন্য দেশে কর্মী যাওয়ার হার ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। ফলে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শ্রমবাজার বলতে সৌদি আরব ছাড়া বাংলাদেশের জন্য কোনো উন্মুক্ত দেশ নেই বললেই চলে। এ ছাড়া, কুয়েতসহ আরও কিছু দেশের শ্রমবাজার একেবারে বন্ধ রয়েছে। যেসব দেশে বর্তমানে অল্পসংখ্যক শ্রমিক যাচ্ছেন সেগুলোও ২০২৬ সালে বন্ধ হতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার সময় কিছু শ্রমিক ফেরত নিয়ে আসা হয়। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হলেও নতুন করে শ্রমিকদের পাঠানোর ব্যাপারে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
যেসব দেশের ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা চলছে
বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিত বিবেচনায় কয়েকটি দেশের ভিসাপ্রাপ্তির হার ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। জানা গেছে, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, ওমান, উজবেকিস্তান, সৌদি আরব ও ভিয়েতনাম বর্তমানে বাংলাদেশিদের ভ্রমণ ভিসা দেওয়া প্রায় বন্ধ রেখেছে। থাইল্যান্ডের ভিসা পেতেও অনেক বেশি সময় লাগছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার ভিসা পাওয়ার হারও কম। ফিলিপাইন ভিসা দিতে অনেক বেশি সময় নেয়। ইন্দোনেশিয়ার ভিসা ফি অনেক। এমনকি অ্যারাইভাল ভিসা দেওয়া শ্রীলঙ্কার ইলেক্ট্রনিক ভিসা পেতেও সময় লাগছে দুই থেকে তিন দিন।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ভারতের ভিসা সীমিত থাকায় একই বছর ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর ভিসা সেন্টার দিল্লি থেকে অন্য বাংলাদেশে সরাতে কূটনীতিকদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিন মাস পর মার্চ মাসে ঢাকা থেকেই ৯টি দেশের ভিসা প্রক্রিয়া শুরু হয়, কিন্তু সেই দেশগুলো থেকেও ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা যাচ্ছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আন্দোলন করায় ১৮৮ জন বাংলাদেশি কর্মী দণ্ডপ্রাপ্ত হন। পরে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে তাদের মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে আসার পর তাদেরকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানও প্রদান করা হয়েছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুণর্বাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অভিবাসীদের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু এবং ৬টি দেশের সঙ্গে চুক্তি
ইউরোপীয় দেশসমূহে বৈধ অভিবাসনের জন্য পর্তুগাল, অস্ট্রিয়া ও ইতালিতসহ ৬টি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ইতালি সরকার বাংলাদেশ থেকে মৌসুমি ও অ–মৌসুমি—উভয় ধরনের কর্মী গ্রহণে সম্মত হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের দীর্ঘ ৫০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম সাধারণ কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ ছাড়া, বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় সৌদি আরবের শ্রমবাজারে যেসব নারী কর্মী নানা কারণে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন, তাদের জন্য বৈধতার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থেকে মরদেহ দেশে পাঠানো, ক্ষতিপূরণ, শিক্ষাবৃত্তি ও আইনি সহায়তা আরও দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে প্রদান করা হয়েছে।
এ ছাড়া, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ৭১টি পেশায় দক্ষতা যাচাই কার্যক্রম চালু করেছে। এতে ২৪ হাজারেরও বেশি কর্মী উত্তীর্ণ হয়েছেন। সৌদি আরবগামী কর্মীদের জন্য ড্রাইভিং স্কিল টেস্ট চালু করা হয়েছে এবং জাপানে দক্ষ কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
জনশক্তি প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠান আদিব এয়ার ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের সত্ত্বাধিকারী কে এম মোবারক উল্লাহ (শিমুল) বলেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে শ্রমবাজার খুলছে না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হওয়ার পর মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি সভা হয়। সেখানে তারা প্রাথমিকভাবে কিছু শ্রমিক নেওয়ার কথা জানালেও আমাদের দেশ থেকে অনেক পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ ছাড়া, মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার জন্য বর্তমানে যেসব শর্ত দিয়েছে, সেসব বিষয় কূটনীতিকভাবে আরও সহজ করা উচিত। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে কূটনীতিক ব্যর্থতা আছে সেটি বোঝা যাচ্ছে, কারণ অন্য দেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক যাচ্ছে। কিন্তু আমরা এখনো পাঠাতে পারছি না।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) নাম প্রকাশ না করে জানান, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরা দায় নিতে চাচ্ছেন না, ফলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সেভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো যাচ্ছে না।

ভিসা জটিলতা, শ্রমবাজারের স্থবিরতা ও নানা সংকটে কেটেছে অভিবাসী প্রার্থীদের পুরো বছর (২০২৫)। অন্যদিকে ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা পেয়েও বিদেশ যেতে না পারার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। এ ছাড়া, কূটনৈতিক ব্যর্থতায় মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার স্থবির হয়ে আছে বলেও অভিযোগ জানিয়েছেন রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির মালিকেরা। তবে অনেক হতাশার মধ্যেও ইউরোপের ৬টি দেশের সঙ্গে বৈধ অভিবাস চুক্তি করেছে সরকার। গত অর্থবছরে ১০ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন এবং রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৩৩ কোটি আমেরিকান ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। আগের বছর ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল।
প্রবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘প্রবাসী লাউঞ্জ’ স্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৬ হাজারের বেশি কর্মী বিদেশে প্রেরণ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। আগের বছর সাড়ে ১৫ হাজারের বেশি কর্মী পাঠিয়েছিল সরকারি এই প্রতিষ্ঠান।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এক বছরের বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার বন্ধ। জাপানে বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর চুক্তির বাস্তবায়ন নেই; ইতালির ভিসা থাকা সত্ত্বেও যেতে পারছেন না বাংলাদেশিরা; যুক্তরাজ্যে শিক্ষা ভিসা ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ভিসা নিষেধাজ্ঞায় চরম হতাশায় ভুগছেন অভিবাসী প্রার্থীরা।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ, যেতে পারেনি প্রায় ১৮ হাজার শ্রমিক
২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পর আন্দোলন-বিক্ষোভ করেও বিষয়টির কোনো সুরাহা করতে পারেননি বাংলাদেশি কর্মীরা। তবে চলতি বছরের ২১ ও ২২ মে ঢাকায় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া নিরাপদ অভিবাসন ও কর্মসংস্থান সম্পর্কিত তৃতীয় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা হয়। যেখানে মালয়েশিয়া সরকারের ১৪ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। কিন্তু সেখান থেকে নতুন কোনো ঘোষণা আসেনি।
অন্যদিকে মে মাসের আগের চুক্তির প্রায় ১৮ হাজার শ্রমিক নানা সংকটে মালয়েশিয়া যেতে পারেননি। এসব কর্মীদের বোয়েসেলের মাধ্যমে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা জানিয়েছিল মন্ত্রণালয়। তবে বাস্তবে ২০০ জনের কম কর্মীকে পাঠাতে পেরেছে সরকারি এই প্রতিষ্ঠান।
মালয়েশিয়ায় যেতে না পারার কর্মীর একজন সাব্বির। তিনি বলেন, আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলাম। ভিসাসহ সব কার্যক্রম শেষ হয়েছিল। কিন্তু শেষ সময়ে এসে যেতে পারিনি। এখন অন্য কাজ করে ঋণ শোধ করতে হচ্ছে।
জাপানে কর্মী নিয়োগে অগ্রগতি নেই
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ২০৪০ সাল পর্যন্ত জাপানের ১ কোটি ১০ লাখ দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি পূরণে সম্ভব সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে বাংলাদেশ। জাপানে অধিকসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ থেকে জাপানে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া কিছুটা এগিয়েছে। সরকার আগামী ৫ বছরে ১ লাখ দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ পর্যন্ত মাত্র ১০ হাজার কর্মী জাপানে যেতে পেরেছেন। ফলে কাগজে চুক্তির বাস্তবায়ন খুব বেশি হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ছাড়া অন্য দেশের শ্রমবাজার স্থবির
চলতি বছর সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ২০ হাজারের বেশি কর্মী গেছেন। যা অন্য বছরের তুলনায় বেশি। তবে সৌদি আরব ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার ও ওমানসহ অন্য দেশে কর্মী যাওয়ার হার ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। ফলে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শ্রমবাজার বলতে সৌদি আরব ছাড়া বাংলাদেশের জন্য কোনো উন্মুক্ত দেশ নেই বললেই চলে। এ ছাড়া, কুয়েতসহ আরও কিছু দেশের শ্রমবাজার একেবারে বন্ধ রয়েছে। যেসব দেশে বর্তমানে অল্পসংখ্যক শ্রমিক যাচ্ছেন সেগুলোও ২০২৬ সালে বন্ধ হতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার সময় কিছু শ্রমিক ফেরত নিয়ে আসা হয়। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হলেও নতুন করে শ্রমিকদের পাঠানোর ব্যাপারে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
যেসব দেশের ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা চলছে
বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিত বিবেচনায় কয়েকটি দেশের ভিসাপ্রাপ্তির হার ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। জানা গেছে, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, ওমান, উজবেকিস্তান, সৌদি আরব ও ভিয়েতনাম বর্তমানে বাংলাদেশিদের ভ্রমণ ভিসা দেওয়া প্রায় বন্ধ রেখেছে। থাইল্যান্ডের ভিসা পেতেও অনেক বেশি সময় লাগছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার ভিসা পাওয়ার হারও কম। ফিলিপাইন ভিসা দিতে অনেক বেশি সময় নেয়। ইন্দোনেশিয়ার ভিসা ফি অনেক। এমনকি অ্যারাইভাল ভিসা দেওয়া শ্রীলঙ্কার ইলেক্ট্রনিক ভিসা পেতেও সময় লাগছে দুই থেকে তিন দিন।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ভারতের ভিসা সীমিত থাকায় একই বছর ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর ভিসা সেন্টার দিল্লি থেকে অন্য বাংলাদেশে সরাতে কূটনীতিকদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিন মাস পর মার্চ মাসে ঢাকা থেকেই ৯টি দেশের ভিসা প্রক্রিয়া শুরু হয়, কিন্তু সেই দেশগুলো থেকেও ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা যাচ্ছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আন্দোলন করায় ১৮৮ জন বাংলাদেশি কর্মী দণ্ডপ্রাপ্ত হন। পরে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে তাদের মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে আসার পর তাদেরকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানও প্রদান করা হয়েছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুণর্বাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অভিবাসীদের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু এবং ৬টি দেশের সঙ্গে চুক্তি
ইউরোপীয় দেশসমূহে বৈধ অভিবাসনের জন্য পর্তুগাল, অস্ট্রিয়া ও ইতালিতসহ ৬টি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ইতালি সরকার বাংলাদেশ থেকে মৌসুমি ও অ–মৌসুমি—উভয় ধরনের কর্মী গ্রহণে সম্মত হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের দীর্ঘ ৫০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম সাধারণ কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ ছাড়া, বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় সৌদি আরবের শ্রমবাজারে যেসব নারী কর্মী নানা কারণে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন, তাদের জন্য বৈধতার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থেকে মরদেহ দেশে পাঠানো, ক্ষতিপূরণ, শিক্ষাবৃত্তি ও আইনি সহায়তা আরও দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে প্রদান করা হয়েছে।
এ ছাড়া, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ৭১টি পেশায় দক্ষতা যাচাই কার্যক্রম চালু করেছে। এতে ২৪ হাজারেরও বেশি কর্মী উত্তীর্ণ হয়েছেন। সৌদি আরবগামী কর্মীদের জন্য ড্রাইভিং স্কিল টেস্ট চালু করা হয়েছে এবং জাপানে দক্ষ কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
জনশক্তি প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠান আদিব এয়ার ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের সত্ত্বাধিকারী কে এম মোবারক উল্লাহ (শিমুল) বলেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে শ্রমবাজার খুলছে না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হওয়ার পর মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি সভা হয়। সেখানে তারা প্রাথমিকভাবে কিছু শ্রমিক নেওয়ার কথা জানালেও আমাদের দেশ থেকে অনেক পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ ছাড়া, মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার জন্য বর্তমানে যেসব শর্ত দিয়েছে, সেসব বিষয় কূটনীতিকভাবে আরও সহজ করা উচিত। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে কূটনীতিক ব্যর্থতা আছে সেটি বোঝা যাচ্ছে, কারণ অন্য দেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক যাচ্ছে। কিন্তু আমরা এখনো পাঠাতে পারছি না।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) নাম প্রকাশ না করে জানান, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরা দায় নিতে চাচ্ছেন না, ফলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সেভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম।
বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০তম বার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে ওমানে নিয়োজিত বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের জন্য বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি সম্মিলিত ব্যান্ড ও অর্কেষ্ট্রা দল ওমানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী প্রচার কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ৩ জানুয়ারি ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দেশে থ্যালাসেমিয়া রোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।